বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ রচনা
Easy and Standard Traffic Jam Paragraph
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ রচনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। অনেক অনেক প্রতিযোগিতায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষাতে এই রচনাটি আসে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই এই রচনাটি শিখা উচিৎ। বিশেষ করে বোর্ড পরীক্ষায় এই রচনা আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ রচনাটি নিচে সাধারণ ভাবে লিখা হয়েছে। যদি আপনি স্টেন্ডার্ড ভালো লেখা চান কমেন্টে লিখে দিতে পারেন। এছাড়াও অন্যান্য লিখিত অংশ দেখতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারুন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ রচনা সূচিপত্র
- ভূমিকা
- পটভূমি
- ভাষা আন্দোলন
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ৩. মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ৪. সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকা
- সাধারণ জনগণ ও কৃষক-শ্রমিক
- ছাত্র সমাজ
- নারী সমাজ
- বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাংবাদিক ৫. মুক্তিযুদ্ধের কৌশল ও যৌথ বাহিনী
- গেরিলা যুদ্ধ ও অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা
- মিত্রদেশ ভারতের ভূমিকা ৬. স্বাধীনতা অর্জন ও খেতাব ৭. উপসংহার
ভূমিকা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।
Read more: A Street Accident Paragraph for Class 6, 7, 8, SSC & HSC
পটভূমি
- ভাষা আন্দোলন (১৯৫২): পাকিস্তানি শাসকরা যখন আমাদের মাতৃভাষা বাংলার ওপর আঘাত হানে, তখন থেকেই বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষকেরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম বৈষম্য ও অত্যাচার চালিয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সূচনা
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত বাঙালির ওপর হিংস্র আক্রমণ চালায়। এর পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।
সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকা
- সাধারণ জনগণ ও কৃষক-শ্রমিক: দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষই ছিল এই যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি।
- ছাত্র সমাজ: দেশের তরুণ ও ছাত্র সমাজ অসীম সাহসের সাথে মুক্তিযুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়।
- নারী সমাজ: নারীরা সরাসরি যুদ্ধ করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়া, খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং সেবাশ্রুষার মাধ্যমে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন।
- বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাংবাদিক: বিভিন্ন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে গান, কবিতা, চিত্র ও নাটকের দ্বারা সাধারণ জনগণ ও যোদ্ধাদের উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মিডিয়া ও পত্রিকার প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে যুদ্ধের মূল চিত্র তুলে ধরা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের কৌশল ও যৌথ বাহিনী
- গেরিলা যুদ্ধ ও অস্ত্রের অভাব: পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের তুলনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রের যথেষ্ট অভাব ছিল। তাই বাঙালি যোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করে শত্রুদের তছনছ করে দেয়।
- মিত্রদেশ ভারতের ভূমিকা: প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যৌথ বাহিনী গঠন করে সরাসরি সহায়তা করে।
স্বাধীনতা অর্জন ও খেতাব
সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দীর্ঘ ৯ মাস পর আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। এই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালি শহীদ হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অসামান্য সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁদের বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম এবং বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে সম্মান জানান।
উপসংহার
৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা অর্জন করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনেক কিছু হারাতে হয়েছে, লাখো মায়ের বুক খালি হয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিত শহীদদের এই ত্যাগ ও স্মতি শ্রদ্ধাভরে মনে রাখা। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়, যাকে আমরা বিজয় দিবস হিসেবে পালন করি এবং ২৬শে মার্চকে আমরা 'স্বাধীনতা দিবস' হিসেবে পালন করি।
ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url