এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল
এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশলআপনি যদি একজন এইচএসসি পরিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল সম্পর্কে জানতে চান। আপনি যদি কিছু কৌশল অবলম্বন করে পড়াশোনা করেন তাহলে আপনার এইচএসসি পরীক্ষা অনেক ভালো হবে।
আমাদের এই পোস্টে এইচএসসি পরীক্ষাতে কীভাবে একটি সেরা রেজাল্ট করা যায় এ নিয় বিস্তারিত জানব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। পোস্ট সূচিপত্রঃ এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল
- এ+ পেতে হলে কি করতে হবে
- পরীক্ষার সময় কীভাবে পড়া উচিত
- পড়া মনে রাখার উপায় কি
- কি করলে পরীক্ষা ভালো হবে
- এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পড়ার রুটিন
- কমন পড়ার উপায় ও কৌশল
- পরীক্ষার আগের দিন কী করবেন
- সৃজনশীল প্রশ্নের সহজে সমাধান
- সময় মতো পরীক্ষা শেষ করার উপায়
- পরিশেষে আমার মতামত
এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল
- নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলুনঃ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়ার চেষ্টা করুন। সকালে উঠে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় দিন পড়ালেখায়।
- সাপ্তাহিক পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ সপ্তাহের শুরুতেই ঠিক করে নিন কোন কোন বিষয় পড়বেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়লে সব বিষয় কাভার করা সহজ হবে।
- দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করুনঃ যে বিষয়গুলো কঠিন লাগে, সেগুলো বেশি সময় নিয়ে পড়ুন। প্রয়োজনে শিক্ষকের সাহায্য নিন।
- রিভিশনের সময় ঠিক রাখুনঃ প্রতিদিন রাতে অন্তত পঁচিশ মিনিট আগের পড়া রিভিশন দিন। এতে মনে থাকবে দীর্ঘদিন।
- মডেল টেস্ট দিনঃ প্রতিদিন একটি করে প্রশ্ন সেট তৈরি করে নিজেই পরীক্ষা দিন। পরীক্ষার অভ্যাস তৈরি হলে সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আসবে।
- স্বাস্থ্য ও ঘুমের প্রতি খেয়াল রাখুনঃ পড়া যদি মাথায় রাখতে চান, তাহলে প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুম এবং সুষম খাবার অবশ্যই খেতে হবে।
এ+ পেতে হলে কি করতে হবে
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অন্তত তিনটি বিষয় পড়ার চেষ্টা করুন।
- ক্লাসের নোট ও বোর্ড বই একসাথে ব্যবহার করলে দ্রুত বোঝা যায়।
- আগের বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করে নিজেকে যাচাই করুন।
- প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজে হাইলাইট করে পড়ুন।
- পড়ার সময় একটি খাতা রাখুন যেখানে সংক্ষেপে মূল পয়েন্টগুলো লিখে রাখবেন।
পরীক্ষার সময় কীভাবে পড়া উচিত
- ছোট ছোট ভাগে সময় ভাগ করে প্রতিটি বিষয়ে পড়ুন।
- একটি বিষয় পড়ার পর ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে মনে করার অভ্যাস করুন।
- রিভিশনের জন্য আলাদা সময় রাখুন; দিনে অন্তত ১ ঘন্টা।
- কঠিন বিষয়গুলো সকালে পড়ুন যখন মাথা ফ্রেশ থাকে।
- কোনো একটি বিষয় একটানা না পড়ে পরিবর্তন করে পড়ুন।
পড়া মনে রাখার উপায় কি
- একটা জিনিস বোঝার চেষ্টা করুন, মুখস্থ না করে মনে রাখার সময় এর ছবি কল্পনা করুন।
- পড়া শেষে সেটি কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। এতে মাথায় পড়া বসে যায়।
- গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পোস্টারে লিখে ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে রাখুন।
- প্রতিদিন রাতে দিনভর যা পড়েছেন, তা ১০ মিনিটে রিভিশন দিয়ে নিন।
- ঘুম ঠিক মতো হলে মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে, তাই দিনে আট ঘণ্টা ঘুমান।
কি করলে পরীক্ষা ভালো হবে
পরীক্ষা ভালো করতে হলে পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের বিকল্প আর কিছু নেই। শুধু বই খুলে বসে থাকলেই হবে না, জানতে হবে কীভাবে পড়লে বেশি ফল পাওয়া যায়। এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল মেনে চললে পরীক্ষা ভালো হবে। নিচে কিছু কৌশল দেওয়া হলোঃ
- পড়ার সময় একটি সময়সূচি তৈরি করুন এবং তা প্রতিদিন মেনে চলুন।
- নতুন কিছু শেখার পাশাপাশি প্রতিদিন আগে পড়া বিষয়গুলো রিভিশন করুন।
- বোর্ড বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন।
- প্রশ্নের ধরন বুঝতে হলে বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করে অভ্যস্ত হতে হবে।
- গ্রুপ স্টাডি করলে অন্যদের থেকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনি সহজেই এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন। একবার ভাবুন একটু পরিশ্রম করে আপনি আপনার জীবনের সফলতা পাচ্ছেন। আপনি কয়েকদিন পরিশ্রেম করুন আপনি এর ফল পাবেন। এ নিয়ে আমাদের পোস্টে বিস্তারিত আরও জানতে পারবেন।
এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পড়ার রুটিন
পরীক্ষায় ভালো করতে হলে একটি পড়ার রুটিন অত্যন্ত প্রয়োজন। এলোমেলোভাবে পড়লে সময় নষ্ট হয় এবং ফলাফলও ভালো হয় না। তাই আমাদের সকলের উচিৎ একটি নির্দিষ্ট রুটিন করে পড়া। নিচে এমন একটা রুটিন দেওয়া হলোঃ
আরও পড়ুনঃ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি ও কোর্স নির্বাচন করার নিয়ম
- সকালে কঠিন বিষয় পড়ুন, কারণ মাথা তখন বেশি পরিষ্কার থাকে।
- দুপুরে তুলনামূলক সহজ বিষয়গুলোর অনুশীলন করুন।
- সন্ধ্যায় ছোট ছোট অংশে রিভিশনের সময় রাখুন।
- রাতে ৩০ মিনিট সময় দিন বিগত দিনের পড়া ঝালিয়ে নিতে।
- সপ্তাহে একদিন শুধু বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্টের জন্য রাখুন।
আপনি এই রুটিন মেনে পড়লে একটি ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। তবে আমার মতে, আপনার যখন সুবিধা তখন পড়া উচিৎ। আপনার সুবিধা মতো আপনি একটি রুটিন বানাবেন। ধরুন এমন একটি রুটিন বানালেন যে আগামী এক মাসে সিলেবাস শেষ করবেন। তাহলে আপনার পরীক্ষা ভালো হবে।
কমন পড়ার উপায় ও কৌশল
কমন পড়া মানে শুধু কিছু প্রশ্ন মুখস্থ নয় বরং সম্ভাব্য প্রশ্ন বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া। অর্থাৎ আপনি বিভিন্ন প্রশ্ন পড়বেন। আপনার কাছে যেই প্রশ্নটা মনে হবে পরীক্ষায় আসবে আপনি ঐ প্রশ্নটি পড়বে। সঠিক কৌশলে পড়লে কমন পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। নিচে এ নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
- প্রতি অধ্যায়ের শেষে থাকা জরুরি প্রশ্ন গুলো বারবার পড়ুন।
- শিক্ষকরা যে প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব দেন সেগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করুন।
- বিগত ৫-১০ বছরের প্রশ্ন দেখে কোনগুলো বারবার আসছে তা তালিকা করুন।
- একটি ‘কমন নোট খাতা’ তৈরি করুন এবং তাতে নিয়মিত রিভিশন দিন।
- সাবজেক্টিভ ও এমসিকিউ উভয়ের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিন।
এই পদ্ধতিতে পড়লে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পড়বে এবং পরীক্ষায় ভালো করার সকল কৌশল বাস্তবে কাজে আসবে। তাই আপনার উচিৎ বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে ধারণা রাখা। এবং সেই প্রশ্নগুলো বেশি করে শিখা। তাহলে আপনার পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে।
পরীক্ষার আগের দিন কী করবেন
আপনার উচিৎ পরীক্ষার আগের দিন আপনার মাথা ঠান্ডা রাখা। আপনি কালকে পরীক্ষা দিতে যাবেন, আপনার মাথা শান্ত থাকতে হবে। আপনি যদি অস্থির থাকেন তাহলে আপনার পড়া সব উল্টাপাল্টা হয়ে যাবে। আপনার উচিৎ আগের দিন আপনার সব পড়া রিভিশন দেওয়া। যেইটা কঠিন লাগবে ঐটা পরে পড়বেন। আগে সহজ পড়াগুলো শেষ করে নিতে পারেন।
সৃজনশীল প্রশ্নের সহজে সমাধান
আপনি যদি এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল মেনে পড়াশোনা করেন তাহলে আপনি সৃজনশীল প্রশ্নের সহজে সমাধান করতে পারবেন। আপনি যখন পরীক্ষার প্রশ্ন আপনার হাতে পাবেন। তখন আপনি ভয় পাবেন না। ভয় না পেয়ে প্রথমে প্রশ্ন গুলো পড়বেন। ধরুন ক,খ,গ,ঘ প্রশ্ন গুলো পড়লেন।
তারপর বুঝবেন যে কি চাচ্ছে। তারপর উদ্দীপক পড়বেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিবেন। আপনি যদি বাড়িতে পড়াশোনা ভালো করে করেন তাহলে ক ও খ এর উত্তর ভালো করে দিতে পারবেন। এরপরের দুটি প্রশ্ন ভালো ভাবে বুঝিয়ে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করে লেখবেন। তাহলে আপনি সহজেই সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। সময় মতো পরীক্ষা শেষ করার উপায়
আপনি কি সময় মতো পরীক্ষা শেষ করতে পারেন না? এটি শুধু আপনার নয় অনেকেরই সমস্যা। পরীক্ষা শেষ করলেও শেষের প্রশ্নগুলো তাড়াহুড়া করে উত্তর দেয়। ফলে লেখাও খারাপ হয়। আপনার উচিৎ সময় ভাগ করে লেখা। ধরুন আপনার সৃজনশীল লেখার সময় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট।
তাহলে এখান থেকে ১০ মিনিট এক্সট্রা বাদ দিন। থাকে ২ঘন্টা ২০ মিনিট। আপনার সৃজনশীল ৭টি তাহলে আপনি প্রতিটিতে সময় পাবেন ২০ মিনিট করে। আপনি তাহলে ২০ মিনিটের সময় নিবেন না একটি সৃজনশীল লেখতে। তাহলে আপনার পরীক্ষা সময় মতো শেষ হবে।

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url