এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল
এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশলআপনি যদি এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল খুজে থাকেন তাহলে আজ আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। জীবনের একটি সেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই পরীক্ষা। এই পরীক্ষার উপর জীবনের অনেকটা নির্ভর করে।
আমরা আপনাকে একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে এই পোস্টে কথা বলব যাতে আপনার বুঝতে সুবিধা হয় এবং একটি অনুভূতি আসে। পোস্ট সূচিপত্রঃ এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল
- প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা প্রস্তুতি
- ভুল কমানোর কার্যকর উপায়
- কঠিন প্রশ্ন সহজে মনে রাখার পদ্ধতি
- মনোযোগ ধরে রাখার উপায়
- প্রতিদিনের পড়ার রুটিন তৈরি
- গাইড ও বইয়ের সঠিক ব্যবহার
- মডেল টেস্ট থেকে শেখার কৌশল
- পড়ার সময় মোবাইলের ব্যবহার কমানো
- পরীক্ষার আগে খাবার ও ঘুমের গুরুত্ব
- পরিশেষে আমার মতামত
এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল
এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল কঠিন কোনো কিছু নয়। তবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হলে এ সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা তোমাকে ভালো ভাবে ও সহজ ভাবে বুঝতে সাহায্য করবো। তুমি যদি নিচের পয়েন্টগুলো অনুসরণ করো, তাহলে অনেক সহজেই ভালো ফল পেতে পারো।
- সময় বণ্টন করে পড়াশোনা করোঃ প্রতিদিন কয় ঘণ্টা পড়বে, সেটা ঠিক করে একটা রুটিন বানিয়ে নাও। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান সব বিষয়ের জন্য আলাদা করে সময় রাখো।
- গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আলাদা করে রাখোঃ প্রতিটি বিষয়ের বই থেকে প্রশ্নগুলো আলাদা খাতায় লিখে ফেলো। যে প্রশ্নগুলো বোঝা কঠিন, সেটা চিহ্নিত করে বেশি সময় দাও।
- নিয়মিত রিভিশন নাওঃ একবার পড়লেই হবে না। প্রতিদিন বা অন্তত প্রতি সপ্তাহে পুরনো পড়াগুলো ঝালাই করো। এতে ভুল কমবে।
- মডেল টেস্ট দাওঃ পরীক্ষার আগে নিজের মতো করে সময় ধরে মডেল টেস্ট দাও। এতে ভয় কমবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
- ভালো লিখার অভ্যাস গড়োঃ সুন্দর, গুছিয়ে উত্তর লিখতে পারলে শিক্ষক নম্বর বেশি দিতে পায়। প্রশ্ন বুঝে পয়েন্ট আকারে উত্তর লেখা শিখো।
- মোবাইল থেকে দূরে থাকোঃ যতটা পারো ফোন-ফেসবুক থেকে দূরে থাকো। এই সময়টা একবার চলে গেলে আর ফিরে পাবে না।
- ভালো খাবার ও ঘুম জরুরিঃ ঠিক মতো খাও এবং দিনে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমাও। শরীর সুস্থ না থাকলে মনোযোগ থাকবে না।
তুমি যদি এই কৌশলগুলো পরীক্ষার আগে মানতে পারো তাহলে এ+ পাওয়া সহজ হয়ে যাবে। একটি জিনিস দেখো যে তোমাকে ভালো মার্কস পেতে হবে নাহলে তোমার মূল্য থাকবে না। তোমার এতোদিনের পরিশ্রমের এই পরীক্ষাটি তোমার ভালো করতে হবে। তাই একটু বেশিই পরিশ্রম করা উচিৎ।
প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা প্রস্তুতি
প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা প্রস্তুতি নিতে না পারলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তুমি যদি প্রত্যেকটা বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দাও তাহলে কিছু কিছু বিষয়ে এ+ ছুটে যেতে পারে। আর এই ভুলটা মোটেও করা যাবে না। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- বাংলা আর ইংরেজিতে নিয়মিত রাইটিং প্র্যাকটিস করো।
- গণিতে সকল অংকের নিয়ম বারবার অনুশীলন করো।
- বিজ্ঞানে ডায়াগ্রামসহ বুঝে বুঝে পড়ো।
- আইসিটি ও ধর্ম শিক্ষাকেও হালকাভাবে নিও না।
উপরে শুধু একটা হালাকা ধারণা দেওয়া হয়েছে যে কীভাবে পড়তে হয়। তোমার উচিৎ প্রত্যেকটা বিষয় নিজ থেকে বার বার অনুশীলন করা। পরীক্ষার আগের একমাস শুধু তোমার। এই সময়টা শুধু তোমাকে দেও আর সারাদিন রাত অনুশীলন করো। স্বাস্থ্য ও ঘুম দুইটার যত্ন নিয়া আর সব বাদ শুধু পড়বে।
ভুল কমানোর কার্যকর উপায়
আমরা অনেকেই অনেক প্রশ্ন উত্তরে ভুল করি। ছোটখাটো ভুল থেকেই যায়। এই সমস্যাগুলো আমাদের সরাতে হবে। আমরা যদি নিয়মিত অনুশীলন করে ভুল গুলো ধরি যে কোথায় ভুল হচ্ছে তাহলে এর সমাধান করা যাবে। নিচে ভুল কমানোর কার্যকর উপায় দেওয়া হলোঃ
- পড়ার পর নিজে নিজে লিখে দেখো, কোথায় ভুল হচ্ছে।
- বানান ভুল সবচেয়ে বেশি নম্বর কেটে নেয়, তাই বানান চর্চা করো আলাদা খাতায়।
- সময় নিয়ে প্রশ্ন বুঝে উত্তর লেখার অভ্যাস গড়ো।
- বন্ধুদের সাথে প্রশ্ন-উত্তর মিলিয়ে নিজেদের ভুল ধরো।
পরীক্ষার আগে অন্তত দুবার সব বিষয় রিভিশন করো। একবার রিভিশন করলে ভুল ধরা পড়ে, আর দ্বিতীয়বার সেই ভুল শুধরে নেওয়া যায়। এতে নম্বর কমে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এবং পরীক্ষাতে এ+ পাওয়া সহজ হয়ে যাবে। তাই আমাদের এই টিপসগুলো মানতে হবে।
কঠিন প্রশ্ন সহজে মনে রাখার পদ্ধতি
কঠিন প্রশ্ন সহজে মনে রাখার পদ্ধতি জানলে অনেকটা চাপ কমে যায়। বিশেষ করে যে প্রশ্নগুলো বোঝা কঠিন, সেগুলো সহজভাবে মনে রাখার কৌশল জানা খুবই দরকার। একটা বিষয় তুমি না বুঝতে পারলে এটি মনে রাখার কৌশল ব্যবহার করবে। এর জন্য নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- কঠিন উত্তরগুলো নিজ ভাষায় লিখে বোঝার চেষ্টা করো।
- যে উত্তরগুলো মুখস্থ করা কঠিন, সেগুলো রঙিন পেন দিয়ে আলাদা করো।
- গল্প বা ঘটনা তৈরি করে কঠিন তথ্য মনে রাখার চেষ্টা করো।
- বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মুখে মুখে বলার অভ্যাস করো।
যদি এইভাবে পড়ো, তাহলে যে বিষয় ভয় লাগতো সেটা তোমার কাছে অনেক সহজ হয়ে যাবে। এতে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং তুমি নিশ্চিন্তে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে। যদি তুমি পরীক্ষায় ভালো করতে চাও তাহলে এখন থেকেই এই নিয়মগুলো মানতে হবে।
মনোযোগ ধরে রাখার উপায়
মনোযোগ ধরে রাখার উপায় না জানলে অনেক পড়া মুখস্থ করার পরেও কিছু মনে থাকবে না। তাই পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখা তোমার প্রথম কাজ। মনোযোগ থাকলে একটি পড়া অনেক তাড়াতাড়ি শিখা হয়ে যাবে। আর যদি মনোযোগের অভাব থাকে তাহলে অনেক পড়ার পরেও মনে থাকবে না। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- পড়ার সময় মোবাইল, টিভি, বা সোশ্যাল মিডিয়া একেবারে দূরে রাখো।
- একটানা অনেকক্ষণ না পড়ে ছোট ছোট ভাগে পড়ো—তাতে মাথা ক্লান্ত হয় না।
- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিজের ভাষায় বলে বলেই মনে রাখার চেষ্টা করো।
- ঘরটি পরিষ্কার রাখো এবং আলো-বাতাস যেন ভালো থাকে, তা নিশ্চিত করো।
মনোযোগ না থাকলে মনে হয় অনেক পড়ছি, কিন্তু পরীক্ষায় ফল হয় খারাপ। তাই প্রতিদিন মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে শুধু পড়া নয়, আত্মবিশ্বাসও পরীক্ষায় ভালো করার জন্য দরকার। তাই আমাদের উচিৎ মনোযোগ ধরে রাখা। এর জন্য মেডিটেশন করা ভালো হয়।
প্রতিদিনের পড়ার রুটিন তৈরি
প্রতিদিনের পড়ার রুটিন তৈরি না করলে তুমি বুঝতেই পারবে না কোন বিষয় কতটুকু পড়া হয়েছে বা বাকি আছে। আর যদি তুমি একটি পড়ার রুটিন করে তা অনুযায়ী পড় তাহলে তোমার মাথায় থাকবে তুমি কি পড়ছো আর কি বাকি আছে তোমার। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- সকাল-বিকেল ভাগ করে পড়ার সময় নির্ধারণ করো।
- সকালবেলা কঠিন বিষয়, যেমন গণিত বা বিজ্ঞান এই সময়টায় পড়ো।
- বাংলা বা ইংরেজির রাইটিং ও গ্রামার বিকেলে বা রাতে চর্চা করো।
- পড়ার মাঝে বিশ্রাম রাখো, যাতে মাথা ঠান্ডা থাকে।
রুটিন মেনে চললে তুমি ধীরে ধীরে দেখতে পাবে সব বিষয়েই উন্নতি হচ্ছে। এইভাবে পরিকল্পিত পড়াশোনাই তোমাকে এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পেতে সাহায্য করবে। তোমার উচিৎ আমাদের দেখানো নিয়ম অনুযায়ী একটা পড়ার রুটিন করা এবং সে অনুযায়ী পড়া।
গাইড ও বইয়ের সঠিক ব্যবহার
তুমি যদি এসএসসি তে ভালো করতে চাও তাহলে তোমাকে এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল জানার পাশাপাশি গাইড ও বইয়গের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। এগুলোর সঠিক ব্যবহার না জায় আমাদের অনেকের পরীক্ষা খারাপ হয়। নিচে এ নিয়ে কিছু বিষয় দেওয়া হলোঃ
- প্রথমে মূল বই পড়ে বোঝার চেষ্টা করো, তারপর গাইডে গিয়ে অনুশীলন করো।
- গাইড বই থেকে প্রশ্ন-উত্তর লিখে নিজে নিজে প্র্যাকটিস করো।
- গাইডের মডেল টেস্টগুলো পরীক্ষা ধরে নিজে নিজে সময় নিয়ে দাও।
- নতুন তথ্য বা ব্যাখ্যা সবসময় মূল বইয়ের সাথে মিলিয়ে নাও।
সবসময় মনে রাখবে, গাইড বই সাহায্যকারী মাত্র, মেইন বই হলো পাঠ্যবই। এই দুইয়ের ভারসাম্য ঠিক রেখে চললে তুমি সহজেই এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল পেতে পারো। তোমার উচিৎ তোমার মেইন বই বেশি বেশি করে পড়া তাহলে তোমার কমন পড়তে পারে।
মডেল টেস্ট থেকে শেখার কৌশল
তুমি যদি এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে চাও তাহলে তোমার মডেল টেস্ট পরীক্ষা টি দেখতে পারো। এখান থেকে তুমি বুঝতে পারবে পরীক্ষার ধরন কেমন হয় আর তোমার সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার যোগ্যতা কতটুকু। নিচে এ নিয়ে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- প্রতিটি মডেল টেস্টকে একদম আসল পরীক্ষা ভেবে সময় মেনে দাও।
- পরীক্ষার পরে ভুলগুলো চিনে ফেলো এবং কোথায় সমস্যা হয়েছে তা লিখে রাখো।
- সময় বাঁচিয়ে প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিতে হয়, তা শিখে যাও।
- যে প্রশ্নগুলো বারবার ভুল করো, সেগুলো বেশি চর্চা করো।
পড়ার সময় মোবাইলের ব্যবহার কমানো
পড়ার সময় মোবাইলের ব্যবহার কমানো না গেলে মনোযোগ নষ্ট হয়। আর এতে পড়ে মুখস্থ থাকলেও পরীক্ষায় ভুল হয়ে যায়। এর জন্য আমাদের এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। নিচে মোবাইল বাদ দেওয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
- মোবাইল ফোন একদম সাইলেন্ট রেখে দাও অথবা অন্য ঘরে রেখে পড়ো।
- পড়ার সময় যদি কিছু দরকার হয়, তাহলে আগে তা লিখে রাখো, পরে মোবাইলে খোঁজো।
- সময় বাঁচাতে মোবাইল অ্যাপ দিয়ে রুটিন সেট করো, কিন্তু পড়ার সময় ব্যবহার কোরো না।
- মোবাইল ব্যবহারের জন্য আলাদা সময় রাখো, যেন পড়া ও বিশ্রাম দুইটাই ঠিক থাকে।
পরীক্ষার আগে খাবার ও ঘুমের গুরুত্ব
পরীক্ষার আগে খাবার ও ঘুমের গুরুত্ব অনেক বেশি। তোমাকে পরীক্ষার আগে শুধু পড়লেই হবে না, তোমার স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে হবে। তোমার স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে তোমার পড়া মাথায় থাকবে না তোমার ভুল হবে। এ নিয়ে নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করো।
- ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাও।
- পানি খাওয়া ঠিক রাখো যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে।
- পরীক্ষার আগের রাতে দেরিতে না ঘুমিয়ে সকালে ফ্রেশ উঠে পড়ো।
পরীক্ষার আগে তোমাকে এই নিয়মগুলো মেনে খাবার খেতে হবে। এবং প্রতিদিন কমপক্ষে অবশ্যই আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ঠিক মতো ঘুমালে পড়া বেশি মনে থাকবে। তার জন্য আমাদের টিপসগুলো মেনে চলতে পারো। তাহলে তুমি একটি ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।
পরিশেষে আমার মতামত
আমার মতে, তুমি যদি চাও তাহলে তুমি পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে। তবে তার জন্য এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার কৌশল ব্যবহার করতে পারো। আমাদের এই পোস্টে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয় দেখো যে তুমি যদি ভালো রেজাল্ট করো তাহলে তোমার মূল্য থাকবে আর নাহলে তোমার মূল্য নেই। তাই তোমাকে ভালো রেজাল্ট করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। তোমার পরীক্ষা যাতে ভালো হয়। তার জন্য শুভেচ্ছা। [250412]


ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url