প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম

প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়মআপনি প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম জানতে চান? পড়াশোনা রুটিন অনুযায়ী করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি সময়মতো পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে চান, তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্য। 

প্রতিদিনের-পড়াশোনার-রুটিন-তৈরি-করার-নিয়মআজকের এই পোস্টে আমরা আপনাকে শিখবো কীভাবে সহজভাবে রুটিন বানিয়ে পড়াশোনা সহজ করা যায়। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু 

প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম

প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম আমাদের জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি কি প্রতিদিনের পড়া ঠিকমতো করতে চান? তাহলে আপনাকে কিছু নিয়ম জানতে হবে। আপনি যদি সঠিক নিয়মে পড়তে চান এবং একটা ভালো রেজাল্ট করতে চান তাহলে আপনি নিচের নিয়ম গুলো মানতে পারেনঃ 
  • সকালের সময় বেছে নিনঃ সকালে মস্তিষ্ক একেবারে সতেজ থাকে। তাই সকালের দিকটা পড়াশোনার জন্য রাখলে মনোযোগ বেশি থাকে। দিনে যত দ্রুত পড়া শেষ করবেন, তত দ্রুত আপনি অন্য কাজে মন দিতে পারবেন।
  • সময় ভাগ করে নিনঃ একসাথে অনেকক্ষণ বসে পড়ার চেষ্টা না করে, সময় ভাগ করে ছোট ছোট সময়সীমায় পড়তে হবে। যেমন, ২৫ মিনিট পড়া, ৫ মিনিট বিশ্রাম এভাবে চালিয়ে যান।
  • বিষয়ভিত্তিক রুটিন বানানঃ প্রতিদিন একই বিষয় পড়লে মনে পড়া বসে না। তাই বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান এভাবে বিষয় পরিবর্তন করে পড়তে হবে। এতে মনেও ভালো থাকে, এবং পড়াও মনে থাকে।
  • লক্ষ্য ঠিক করুনঃ প্রতিদিন কতটা পড়বেন, তা আগে থেকেই ঠিক করুন। ধরুন, আজ একটি অধ্যায় শেষ করবেন, আগামীকাল একটি রিভিশন। লক্ষ্য থাকলে আপনি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন সহজে।
  • রুটিন লিখে রাখুনঃ স্মার্টফোন বা খাতায় আপনি প্রতিদিনের রুটিন লিখে রাখতে পারেন। এতে ভুলে যাওয়া বা সময় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
এইভাবে আপনি যদি প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন করে তারপর পড়াশোনা করেন তাহলে আপনার কোনো বাড়তি চিন্তা থাকবে না। আপনার চিন্তা থাকতে পারে যে সিলেবাস শেষ হবে কি হবে না। এখন আপনি যদি রুটিন করে রাখেন কখন কি পড়বেন তাহলে আপনার আর চিন্তা করার কিছু থাকবে না। 

দিনে কত ঘন্টা পড়াশোনা করা ভালো

দিনে কত ঘন্টা পড়াশোনা করা ভালো এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই আসে। আপনার পড়ার সময় নির্ভর করে আপনার বয়স, ক্লাস এবং আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী। তবে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে পড়াশোনা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজেকে বিবেচনা করে নিচের কিছু বিষয় দেখে বুঝতে পারবেন যে আপনার কতক্ষণ পড়তে হবে।

  • প্রাথমিক স্তরঃ দিনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পড়া যথেষ্ট।
  • মাধ্যমিক স্তরঃ দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা নিয়মিত পড়া ভালো।
  • উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ঃ দিনে ৬ ঘণ্টার বেশি পড়া দরকার হতে পারে।

আপনি চাইলে এই সময়টাকে ভাগ করে নিতে পারেন। অর্থাৎ আপনি প্রথমে দেখবেন যে আপনার কত ঘন্টা পড়তে হবে। তারপর একটা রুটিন বানাবেন। এই পোস্টে আমরা তা দেখাব। যাইহোক তারপর ঐ সময়টাকা ভাগ করে পড়তে পারেন। যেমনঃ 

  • সকালে ২ ঘণ্টা
  • দুপুরে ১ ঘণ্টা
  • রাতে ২ ঘণ্টা

এইভাবে ভাগ করে পড়লে চাপ কমে যায় এবং পড়া বেশি মনে থাকে। মনে রাখবেন, একটানা না পড়ে সময় ভাগ করে পড়লে মনোযোগ বাড়ে। এই অভ্যাস টি করলে প্রতিদিনের পড়াশোনা অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই আপনি এই টিপস টি মানতে পারেন। 

পড়াশোনার জন্য সেরা রুটিন কোনটি

প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম জানার পাশাপাশি আমাদের জানতে হবে কোন রুটিনটি সেরা। পড়াশোনার জন্য সেরা রুটিন কোনটি এটা নির্ভর করে আপনি কখন বেশি মনোযোগী থাকেন তার ওপর। আপনার মনোযোগের উপর নির্ভর করে যে আপনি কতটুকু শিখতে পারবেন। আপনি নিচে দেখানো একটা রুটিন অনুসরণ করা যায়ঃ

  • ভোরে উঠেঃ সকাল ৬টায় উঠে ১ ঘণ্টা রিভিশন
  • স্কুল/কলেজ শেষেঃ দুপুর ৩টা থেকে ৫টা নতুন বিষয়
  • রাতেঃ রাত ৮টা থেকে ৯টা আগে পড়া রিভিশন

এই রুটিন অনুযায়ী পড়লে মাথা ঠান্ডা থাকে এবং বেশি সময় নষ্ট হয় না। সবসময়ই পড়ার জন‍্য উপযোগি নয়। আপনার উপর নির্ভর করবে যে আপনি কীভাবে পড়তে পারেন। তাই আপনাকে রুটিন বানানোর সময় কিছু দিক খেয়াল রাখতে হবে। যেমনঃ

  • রুটিন বানানোর সময় যা যা মনে রাখতে হবে:
  • খাওয়ার ও বিশ্রামের সময় রেখে পরিকল্পনা করুন
  • প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন
  • ঘুম যেন ঠিক থাকে, তা দেখুন

আপনি যদি এই নিয়মগুলো পড়ার রুটিন বানানোর সময় মানতে পারেন তাহলে আপনার পড়া অনেক সহজ হবে। তাই আপনার উচিৎ এই দিক গুলো বিবেচনা করে একটা সেরা রুটিন বানানো। এ নিয়ে আমরা আমাদের পোস্টে সম্পূর্ণ আলোচনা করেছি। 

প্রতিদিন পড়াশোনা করলে কি লাভ হয়

আপনি কি জানেন যে প্রতিদিন পড়াশোনা করলে কি লাভ হয়? নাকি আপনি শুধু পড়াশোনা করেই যাচ্ছেন। আপনি প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট নিয়ম করে পড়লে পরীক্ষার সময় চাপ কমে যায়, সব কিছু মনে থাকে আর আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। নিচে এ নিয়ে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ 

  • প্রতিদিন পড়লে ভুল কম হয়
  • পরীক্ষার আগে টেনশন থাকে না
  • সিলেবাস আগেই শেষ করা যায়
  • নিজের সময় নিজের মতো করে গুছানো যায়

এই ছোট ছোট লাভগুলোই আপনাকে ধাপে ধাপে বড় সফলতা এনে দিতে পারে। আপনার যদি প্রতিদিন কমপক্ষে ২ ঘণ্টা পড়ার অভ‍্যাস হয় তাহলে সময়ের সাথে সাথে আপনার পড়ার সময়ও বাড়বে। আপনি আমাদের নিয়মগুলো মেনে চললে সহজে পড়তে পারবেন। 

সকালের সময়টা পড়ার জন্য কেন উপযোগী

সকালের সময়টা পড়ার জন্য কেন উপযোগী এই প্রশ্নটা প্রায় সব শিক্ষার্থীর মনেই আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের মন সতেজ থাকে, মাথা ঠান্ডা থাকে আর মনোযোগ বেশি হয়। তাই এই সময়টা পড়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকর। সকালে পড়ার কিছু টিপস হলোঃ 

প্রতিদিনের-পড়াশোনার-রুটিন-তৈরি-করার-নিয়ম
  • ভোরে উঠে পড়া শুরু করুন
  • কঠিন বিষয়গুলো এই সময় পড়লে সহজে মনে থাকে
  • নতুন কিছু শেখার সবচেয়ে ভালো সময় ভোরবেলা

এই অভ্যাস গড়ে তুললে প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম অনুযায়ী পড়াশোনা আরও সহজ হয়ে যাবে। সকালে পড়া সবচেয়ে বেশি ভালো। এই সময় পড়া দ্রুত মাথায় ঢুকে। সকালে পড়ার আরও কিছু উপকারিতা হলোঃ

  • মাথায় চাপ কম থাকে
  • চারপাশে শব্দ কম, তাই মনোযোগ থাকে
  • ঘুমের পর মস্তিষ্ক একদম ফ্রেশ থাকে

সকালে পড়লে সারাদিন আপনার আত্মবিশ্বাসও বেশি থাকবে। আপনার একটি সুন্দর রুটিন থাকবে। আপনার পড়াতে কোনো ঝামেলা থাকবে না। আপনি সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে আপনার পড়া শেষ করে দিতে পারবেন। তাই বলা যায় সকালে পড়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। 

বিষয়ভিত্তিক রুটিন বানানোর উপায়

বিষয়ভিত্তিক রুটিন বানানোর উপায় জানলে আপনি আপনার পড়ার সময়কে আরও গোছানো করে তুলতে পারবেন। প্রতিটি বিষয় একসাথে না পড়ে ভাগ করে পড়লে মনে রাখা সহজ হয়। এর জন‍্য কিছু টিপস অনুসরণ করতে হয়। যেমন নিচে দেওয়া হলোঃ 

আরও পড়ুনঃ ম্যাচিউরিটি কাকে বলে - ম্যাচিউরিটির ২২ লক্ষণ

  • ধাপে ধাপে যেভাবে বিষয়ভিত্তিক রুটিন করা যায়:
  • প্রতিদিন এক বা দুইটি বিষয় বেছে নিন
  • কঠিন বিষয় সকালে এবং সহজ বিষয় বিকেলে রাখুন
  • সপ্তাহে একবার পুরো বিষয়গুলোর রিভিশন দিন

এইভাবে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন কোন সময় কোন বিষয় পড়া ভালো। মনে রাখবেন, একই দিনে সব বিষয় পড়লে চাপ বাড়ে। ফলে কোনো পড়াই শিখা হয় না। তাই ভাগ করে পড়লে আপনি আরামেও থাকবেন এবং ভালো ভাবে পড়াও শেখা হবে।

পড়ার মাঝখানে বিশ্রামের গুরুত্ব

পড়ার মাঝখানে বিশ্রামের গুরুত্ব অনেক বেশি। একটানা অনেকক্ষণ পড়লে মন ক্লান্ত হয়ে যায় আর শেখার ক্ষমতা কমে যায়। তাই আমাদের উচিৎ পড়ার মাঝখানে কিছু সময় বিরতি নেওয়া বা ধ‍্যান করা। তাহলে মাথা ঠান্ডা থাকবে। পড়ার মাঝে বিশ্রাম নেওয়ার কিছু সহজ উপায়ঃ

  • প্রতি ১ ঘণ্টা পর ১০-১৫ মিনিট বিরতি নিন
  • চোখ বন্ধ করে একটু শুয়ে থাকুন বা হাঁটাহাঁটি করুন
  • পানি পান করুন বা হালকা নাস্তা করে নিন

এই ছোট ছোট বিশ্রামগুলো মনকে সতেজ করে তোলে এবং নতুন করে মনোযোগ ফিরিয়ে আনে। এভাবে পড়লে আপনি ঠান্ডা মাথায় বেশি সময় পড়তে পারবেন। এই অভ্যাসটি আপনার পড়াকে অনেক অনেক সহজ করে তুলবে। আপনার উচিৎ বিশ্রাম করে পড়া। 

ভালো ছাত্রের পড়ার রুটিন

একটা ভালো ছাত্র সময় রুটিন করে তার প্রতিদিনে পড়া শেষ করে। সে প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম সম্পর্কে জানে এবং এর সঠিক ব‍্যবহার করে। যার ফলে সে পরীক্ষাতে ভালো করতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেই ভালো ছাত্রের রুটিন কেমন হয়ঃ

  • সকাল-বিকেল দুই বেলা নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়া
  • প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ
  • প্রতি সপ্তাহে পড়া রিভিশন দেওয়া
  • ঘুম, খাওয়া ও বিশ্রামের সময় ঠিক রাখা
একটা ভালো ছাত্র সবসময়ই তার পড়াশোনাতে গভীর মনোযোগ দেয়। সে শুধু তার পড়াশোনা নিয়ে ভাবে। কখন কোন পড়া পড়লে তার মনে থাকবে সেটাও সে জানে। এর উপর নির্ভর করে সে রুটিন বানায়। আপনিও এভাবে রুটিন বানাতে পারেন। 

পরীক্ষার আগে পড়ার রুটিন

পরীক্ষার আগে পড়ার রুটিন ঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সহজ হয়। এই সময় পড়ার চাপ বেশি থাকে তাই একটা নির্দিষ্ট রুটিন করা আমাদের জন‍্য খুব দরকার। পরীক্ষার আগে পড়ার রুটিন তৈরি করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

  • কোন কোন বিষয় বেশি গুরুত্ব পাবে সেটা ঠিক করা
  • প্রতিদিন সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ভাগ করে বিষয়ভিত্তিক পড়া
  • পুরনো প্রশ্নগুলো অনুশীলন করা
  • গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো রিভিশন দেওয়া

রুটিন অনুযায়ী পড়ার সুবিধা

রুটিন অনুযায়ী পড়ার সুবিধা অনেক। রুটিন করে পড়লে নিয়মিত পড়লে মনোযোগ বাড়ে, সময় নষ্ট হয় না, আর পড়া মনে থাকে বেশি দিন। এছাড়াও আরও অনেক অনেক সুবিধা রয়েছে। রুটিন করে পড়লে পড়া সহজ হয়। রুটিন মেনে চলার কিছু উপকারিতাঃ

প্রতিদিনের-পড়াশোনার-রুটিন-তৈরি-করার-নিয়ম
  • পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়
  • কোন সময় কী পড়তে হবে জানলে সময় বাঁচে
  • অল্প সময়েও বেশি কিছু শেখা যায়
  • চাপ ছাড়া প্রস্তুতি নেওয়া যায়
এসকল বিভিন্ন উপকারিতার জন‍্য আপনার উচিৎ রুটিন মেনে পড়া। আপনার চাপ কম থাকবে। আপনার কখন কি করতে হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করা থেকে যাবে। তাই আপনার রুটিন করে নিয়মিত পড়া। তাহলে আপনি একটি সেরা ফলাফল পাবেন। 

পরিশেষে আমার মতামত 

আমার মতে, আপনি যদি পড়ালেখা করে কিছু করতে চান তাহলে আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। তবে পরিশ্রম এতো না করে সহজে পড়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। আপনি যদি প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার নিয়ম সম্পর্কে জানেন এবং এর যথাযথ ব‍্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনার কাছে পড়াশোনা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আপনার পড়া সহজে শিখার যাত্রায় আপনার জন‍্য আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। [250412]













এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url