পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয়
পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয়পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় তা জানলে আপনার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়বে তা কি আপনি জানেন? আপনি যদি একটি সেরা পরীক্ষা দিতে চান তাহলে এর আগে রাতটি আপনার জন্য। তবে এ রাতে কিছু প্রস্তুতি রয়েছে।
এই পোস্টে আমরা জানব যে পরীক্ষা আগের রাতে আমরা কীভাবে পরীক্ষা র জন্য প্রস্তুতি নিতে পারব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। পোস্ট সূচিপত্রঃ পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় নিয়ে বিস্তার সবকিছু
- পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয়
- পরীক্ষার আগের রাতে কিভাবে রিভিশন দিতে হয়
- পরীক্ষার আগে কীভাবে পড়া উচিত
- পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশোনা মনে রাখার উপায়
- পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমের গুরুত্ব
- মনকে শান্ত রাখার উপায়
- পড়ার রুটিন তৈরি করা
- পরীক্ষার আগের রাতের খাবার
- আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কিছু সহজ কৌশল
- পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সুবিধা
- পরিশেষে আমার মতামত
পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয়
- পরীক্ষার খাতাটি গুছিয়ে নিনঃ পরীক্ষার আগের রাতে বই, কলম, রুলারসহ দরকারি জিনিস এক জায়গায় রাখুন। এতে সকালে তাড়াহুড়ো হবে না।
- আগের দিনের পড়া একটু রিভিশন করুনঃ নতুন কিছু না পড়ে শুধু পুরনো জিনিসগুলো একবার দেখে নিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
- শরীর-মন ভালো রাখতে ঘুমানঃ রাত জেগে পড়লে শরীর খারাপ হতে পারে। অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমান যেন মস্তিষ্ক সতেজ থাকে।
- হালকা খাবার খানঃ রাতের খাবারে বেশি ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেলে ঘুম ভালো হবে।
- মোবাইল-টিভি থেকে দূরে থাকুনঃ রাতে বেশি সময় মোবাইল বা টিভি দেখলে মন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
- নিজেকে সাহস দিনঃ মনে রাখবেন, আপনি যা পড়েছেন, তা যথেষ্ট। একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, আমি পারব।
পরীক্ষার আগের রাতে কিভাবে রিভিশন দিতে হয়
পরীক্ষার আগের রাতে কিভাবে রিভিশন দিতে হয়, এই প্রশ্নটা অনেকেই করে থাকে। কারণ পরীক্ষার আগে চাপ অনেক বেশি থাকে। আপনার উচিৎ এই সময়টাতে চাপ না নিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করা। আপনার জন্য নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- সব বিষয় একবারে পড়ার চেষ্টা না করে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চিহ্নিত করুন।
- ছোট ছোট নোট বা পয়েন্ট দেখে মনে করানোর চেষ্টা করুন।
- বারবার নতুন কিছু না পড়ে আগে যেটা পড়েছেন, সেটাই আবার পড়ুন।
- বড় কিছু মুখস্থ করার চেষ্টা না করে সারাংশ পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন।
- সময় ভাগ করে পড়ুন। প্রতি এক ঘণ্টা পড়ার পর দশ মিনিট বিশ্রাম নিন।
এভাবে পড়লে আপনি ক্লান্ত হবেন না এবং ভালোভাবে রিভিশন দিতে পারবেন। পরীক্ষার আগে রিভিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি সারা বছর যা পড়েছেন তা আগের রাতে একবার রিভিশন দিলে পরীক্ষায় মনে থাকবে। এই জন্য রিভিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার আগে কীভাবে পড়া উচিত
পরীক্ষার আগে কীভাবে পড়া উচিত বা পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় এগুলো বুঝতে পারলে পড়া অনেক সহজ হয়। ভুলভাবে পড়লে সময় আমাদের নষ্ট হয়। তাই আমাদের সকলের উচিৎ সঠিক নিয়মে পড়া। তাহলে আমরা পরীক্ষায় ভালো করতে পারব। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- পড়ার আগে নিজের পড়ার জায়গা গুছিয়ে নিন।
- একবারে অনেক পড়ার চেয়ে অল্প অল্প করে পড়ুন।
- যেটা আগে থেকে ভালো পারেন, সেটা আগে দেখুন। তাহলে মনে আত্মবিশ্বাস আসবে।
- কঠিন কিছু পড়তে গেলে ছোট টুকরো করে ভাগ করে পড়ুন।
- কোনো কিছু মুখস্থ করার আগে একবার নিজে বোঝার চেষ্টা করুন।
এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনি পড়া সহজে মনে রাখতে পারবেন। পরীক্ষার সময় ভয় না পেয়ে শান্ত থেকে পড়লে ফলাফল ভালো হয়। তাই আমাদের সকলের উচিৎ পরীক্ষার আগে ঠান্ডা মাথায় পড়াশোনা করা। তাহলে পরীক্ষা ভালো হবে।
পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশোনা মনে রাখার উপায়
পরীক্ষার সময় পড়া মুখস্থ থাকা খুব দরকার। তাই পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশোনা মনে রাখার উপায় জানা খুব জরুরি। পড়াশোনা মনে রাখার কিছু টিপস রয়েছে। এগুলো যদি পরীক্ষার আগে মানা যায় তাহলে পরীক্ষা ভালো হবে। নিচে এমন কিছু টিপস সম্পর্কে দেওয়া হলোঃ
- মুখে বলার চেয়ে লিখে লিখে পড়লে বেশি মনে থাকে।
- যেটা পড়ছেন সেটা কাউকে বোঝান। এভাবে পড়লে মনে গেঁথে যাবে।
- কোনো জিনিস মনে রাখতে না পারলে ছবি এঁকে বোঝার চেষ্টা করুন।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বা পয়েন্ট আলাদা লিখে রাখুন এরপর ঘন ঘন এগুলো দেখুন।
- একদম শেষ মুহূর্তে কিছু নতুন পড়া শুরু করবেন না। এতে মাথা গুলিয়ে যাবে।
এই সহজ উপায়গুলো আপনাকে পড়া মনে রাখতে সাহায্য করবে। পরীক্ষার আগের রাতের করণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার উচিৎ এই টিপস গুলোর ব্যবহার করা। যাহলে আপনার সবকিছু মনে থাকবে এবং পরীক্ষাও ভালো হবে।
পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমের গুরুত্ব
পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ ঘুম ভালো না হলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। আপনি যদি পরীক্ষার আগে ঠিক ভাবে ঘুমাতে পারেন তাহলে আপনার পরীক্ষা অনেক ভালো হবে। নিচে পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমানোর গুরুত্ব দেওয়া হলোঃ
- রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
- দেরি করে ঘুমাতে গেলে সকালে ক্লান্ত লাগে, ফলে পরীক্ষায় প্রভাব পড়ে।
- ঘুম ভালো করার জন্য ঘরের আলো নিভিয়ে রাখুন।
- ফোন বা টিভি দেখা বন্ধ করে নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমাতে যান।
- ঘুমানোর আগে বেশি খাওয়া-দাওয়া করা যাবে না।
ভালো ঘুম মনকে সতেজ করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তাই পরীক্ষার আগের রাতে করণীয় বিষয় গুলোর এর মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঘুম না হলে পরীক্ষা খারাপ হতে পারে। আপনার মানসিক চাপ বাড়বে ফলে আপনার পড়া মনে থাকবে না।
মনকে শান্ত রাখার উপায়
মনকে শান্ত রাখার উপায় জানা খুব দরকার, কারণ পরীক্ষার আগে টেনশন হলে কিছুই ঠিকমতো মনে থাকে না। তাই আমাদের উচিৎ মনকে শান্ত রাখা। এর জন্য আমরা ধ্যান করতে পারি। এছাড়াও মন শান্ত রাখার কিছু উপায় নিচে দেওয়া হলোঃ
আরও পড়ুনঃ ম্যাচিউরিটি কাকে বলে - ম্যাচিউরিটির কয়েকটি লক্ষণ
- গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এটা এক মিনিট করলেই মন শান্ত হয়।
- নিজেকে বলুন যে "আমি পারব", এই কথাটা বিশ্বাস করুন।
- পরিবারের সঙ্গে কয়েক মিনিট গল্প করুন তাহলে মন হালকা হবে।
- পরীক্ষার কথা চিন্তা না করে বরং একটু হেঁটে আসুন বা পছন্দের গান শুনুন।
- পরীক্ষায় কী হবে সেটা না ভেবে আপনি যা পড়েছেন তা মনে করুন।
এই সহজ কাজগুলো আপনার মনকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে। পরীক্ষার আগের রাতের করণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে মানসিক প্রশান্তি রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। মন শান্ত থাকলে পড়া ভালো মাথায় ঢুকে। ফলে একটা সেরা পরীক্ষা দেওয়া যায়।
পড়ার রুটিন তৈরি করা
পরীক্ষার আগে পরিকল্পনা ছাড়া পড়লে কিছুই মনে থাকে না, তাই পড়ার রুটিন তৈরি করা জরুরি। আপনি যদি রুটিন করে পড়তে পারেন তাহলে আপনার পরীক্ষা অনেক ভালো হবে। তাই আপনার উচিৎ পরীক্ষার আগে একটা রুটিন বানানো। নিচে একটারুটিন দেওয়া হলোঃ
- কোন বিষয় আগে পড়বেন, কোনটা পরে সেটা ঠিক করে নিন।
- একটানা বেশি সময় না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়ুন।
- গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো বেশি সময় দিয়ে পড়ুন।
- সহজ বিষয়গুলো পরে রাখুন, যাতে মন হালকা থাকে।
- প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুম ও খাওয়ার সময় রাখুন।
এভাবে রুটিন করে পড়লে সব বিষয় ঠিকমতো দেখা যায় এবং সময় নষ্ট হয় না। পড়ার মাঝে বিশ্রাম থাকলে ক্লান্তি কম হয়। একটি ভাল রুটিন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং আপনি পরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন।
পরীক্ষার আগের রাতের খাবার
পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় এর মাঝে রয়েছে সঠিক খাবার। পরীক্ষার আগের রাতের খাবার হতে হবে পুষ্টিকর এবং সাধারণ খাবার। এমন খাবার খেতে হবে যা আমাদের পরীক্ষা তে সাহায্য করবে। নিচে এমন খাবার সম্পর্কে দেওয়া হলোঃ
- ভাজাপোড়া বা ঝাল খাবার না খাওয়াই ভালো।
- ডিম, সেদ্ধ সবজি, ডাল এবং ভাত খেতে পারেন।
- খুব বেশি খেয়ে পেট ভারী করে ফেলবেন না।
- খাবারের সঙ্গে পানি বা হালকা স্যুপ রাখা যেতে পারে।
- মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হলে একটু দই বা কলা চলতে পারে।
খাবার যেন ঘুম নষ্ট না করে বা পেটের সমস্যায় না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ পরীক্ষার আগের রাতে সঠিক খাবার না খেলে ঘুম, মনোযোগ সব কিছুতেই সমস্যা হতে পারে। তাই আমাদের পরীক্ষার আগের দিন খাবারের দিকে মনোযোগ রাখতে হবে।
আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কিছু সহজ কৌশল
আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে পরীক্ষার ভয় সহজেই কমে যায়। আপনার আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার যেই বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে আপনি সেই বিষয়ে সফলতা পাবেনই। তাই পরীক্ষার আগে আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন। এর জন্যঃ
- নিজের পড়া নিজেকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।
- মনে করুন "আমি পড়েছি, আমি পারব।"
- ছোট ছোট প্রশ্ন করে নিজেকে পরীক্ষা করুন।
- আগের সফলতা মনে করুন। এই ভাবনা ভীষণ কাজে দেয়।
- পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলুন। এটি আপনাকে সাহস দেবে।
নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে কোনো প্রশ্ন ভয় লাগবে না। ফলে আতঙ্ক কমবে, মন শান্ত থাকবে। এই সহজ অভ্যাসগুলো পরীক্ষার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে খুবই সাহায্য করে। তাই আমাদের পরীক্ষার আগে আত্মবিশ্বাসের খুবই প্রয়োজন। তাহলে পরীক্ষা ভালো হবে।
পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সুবিধা
পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সুবিধা অনেক। যদি সঠিকভাবে পড়াশোনা করা যায় তাহলে পরীক্ষা ভালো হবে। পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় এর মাঝে পড়াশোনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পড়াশোনার মাধ্যমেই পরীক্ষা ভালো হবে। এর গুরুত্ব হলোঃ
- রাতে পড়লে সকালে মাথায় তাজা থাকে।
- পুনরায় রিভিশন দিতে সহজ হয়।
- যেসব ভুল হতো, সেগুলো ঠিক করার সময় পাওয়া যায়।
- কঠিন টপিকগুলো একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যায়।
- রাতে পড়া ঘুমের আগে মনে বেশি গেঁথে যায়।


ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url