প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায়

প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায়আপনি কি প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় জানতে চান? আপনি যদি প্রতিদিনের কাজগুলো গুছিয়ে করতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই। আপনি যদি একটা গুছানো জীবন চান তাহলে রুটিন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের-রুটিন-তৈরি-করার-সহজ-উপায়আজ আমরা দেখবো প্রতিদিনের একটি সেরা রুটিন তৈরি করার সহজ উপায়। তাহলে চলুন পোস্টটি শুরু করা যাক।

পোস্ট সূচিপত্রঃ প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু 

প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায়

আপনি কি প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় জানতে চান? রুটিন মানে শুধু সময় ধরে চলা নয়, বরং নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সুন্দর ও গুছিয়ে তোলা। যাদের সকাল শুরু হয় এলোমেলোভাবে তাদের সারাদিনের কাজও এলোমেলো হয়ে যায়। তাই একটা গোছানো রুটিন আমাদের জীবন ব‍্যবস্থাকে সুন্দর করে সাজাতে সাহায্য করে। নিচে ধাপে ধাপে খুব সহজ ভাষায় রুটিন তৈরির উপায়গুলো তুলে ধরা হলোঃ 
  • ঘুম থেকে ওঠার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুনঃ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। যেমন, প্রতিদিন সকাল ছয়টায় উঠে পড়লে শরীর ও মনের জন্য ভালো। শুরুটা ভালো হলে সারাদিন ভালো যায়।
  • সকালের কাজ আগে ঠিক করে রাখুনঃ ঘুম থেকে উঠে কী করবেন তা আগেই লিখে রাখুন। যেমন:
    • দাঁত মাজা
    • এক গ্লাস পানি পান করা
    • ছোট করে হাঁটাহাঁটি
    • পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসা
  • খাবারের সময় নির্দিষ্ট করুনঃ প্রতিদিন একই সময়ে নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার খেলে শরীর ঠিকভাবে কাজ করে। মনে রাখবেন, পেট ঠিক থাকলে মনও ঠিক থাকে।
  • কাজের তালিকা ছোট করে লিখুনঃ দিনের শুরুতেই তিন থেকে পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঠিক করে নিন। সেটা পড়াশোনা হোক বা ঘরের কাজ তা আগে ঠিক করলে মন শান্ত থাকে।
  • বিরতি ও বিশ্রামের সময় রাখুনঃ কাজের মাঝে দশ-পনেরো মিনিটের ছোট বিরতি নিলে মন ভালো থাকে। চোখ বন্ধ করে বসুন, অথবা শান্তভাবে কিছুক্ষণ হাঁটুন।
  • রাতের ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিনঃ রাত দশটার আগে মোবাইল বন্ধ করে দিন। হালকা কিছু পড়ুন বা গান শুনে ঘুমাতে যান। এতে ভালো ঘুম হবে।
এইভাবে আপনি ধাপে ধাপে রুটিন তৈরি করতে পারবেন। আপনি আপনার সময় অনুসরণ করে একটা সেরা রুটিন বানাবেন। আপনার কখন কি করতে হবে তা লিখে রাখবেন। তাহলে এতো চাপ বা চিন্তা থাকবে না এমনেতেই আপনি বুঝতে পারবেন কখন কি করতে হবে। 

সকালে ঘুম থেকে উঠে কীভাবে দিন শুরু করবেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের দিনটা কেমন যাবে তা অনেকটাই নির্ভর করে সকালটা কেমন যাচ্ছে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে কীভাবে দিন শুরু করবেন তা জানা খুব দরকার। আপনার সকাল ভালো হলে আপনার সারাদিন ভালো যাবে। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ 
  • ঘুম থেকে উঠে সোজা বিছানা গুছিয়ে ফেললে মন এক ধরনের শৃঙ্খলা পায়
  • এক গ্লাস পানি খেলে শরীর তরতাজা থাকে
  • বাইরে হেঁটে এলে মাথা ঠান্ডা হয়
  • ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসলে মন শান্ত হয়
  • হালকা ব্যায়াম করে শরীরকে নড়াচড়া করাতে হয়
  • সকালের নাস্তা একদম মিস করা ঠিক না
  • ঘড়ি দেখে ঠিক সময়ে অফিস বা স্কুলের কাজে মন দিতে হয়
দিনের শুরুটা এমন হলে বাকিটা সময়ও ঠিকঠাক চলবে। আপনার উচিৎ যে ঠিক করা আপনি সকালে কি করবেন। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু গুছাবেন। যার শুরু টা তার শেষটাও ভালো যাবে। তাই সকাল ভালো করে শুরু করা উচিৎ।

রুটিন তৈরিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী

রুটিন তৈরিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী সেটা না জানলে রুটিন বানানো হলেও ঠিকভাবে তা মানা হয় না। তাই রুটিন বানানোর আগে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় জানার সাথে সাথে আমাদের আরও কিছু জরুরি বিষয় জানতে হবে। নিচে তা দেওয়া হলোঃ 
  • আগে নিজের দিনের কাজগুলো চিন্তা করে একটা তালিকা করা
  • কোন কাজটা সকালে, কোনটা রাতে করলে সুবিধা হয় সেটা বুঝে নেওয়া
  • অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে দরকারি কাজ রেখে দেওয়া
  • সময় ঠিক করে দেওয়া। যেমন, পড়া সকাল আটটায়, খাবার দুপুর একটায়
  • একেবারে কড়া নিয়ম না বানিয়ে একটু নমনীয় রাখা
  • বেশি কাজ না রেখে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা
  • একদিন ভুল হলেই রুটিন ছেড়ে না দেওয়া
এইভাবেই সহজে একটা কার্যকর রুটিন বানানো যায়। এই রুটিন মেনে চললে জীবন অনেক সুন্দর হয়। আপনি বুঝতে পারবেন কখন কি করা উচিৎ। আপনার পুরা জীবনটা একটা সুন্দর নিয়মের মাঝে রাখতে পারবেন। এ নিয়ে আমাদের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

কোন সময় কোন কাজ করলে উপকার

দিনের প্রতিটি সময়ের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। তাই কোন সময় কোন কাজ করলে উপকার হয় সেটা বুঝে আমাদের রুটিন বানানো দরকার। আর নাহলে আমাদের সবকিছু উল্টাপাল্টা লাগতে পারে। তবে কিছু টিপস মানলে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। যেমনঃ 
  • সকালঃ পড়াশোনা বা চিন্তা করার মতো কাজ ভালো হয়
  • দুপুরঃ হালকা কাজ বা বিশ্রামের সময়
  • বিকেলঃ শরীরচর্চা বা ঘরের কাজ করার জন্য উপযুক্ত
  • সন্ধ্যাঃ পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সময়
  • রাতঃ পরের দিনের প্রস্তুতি নেওয়া, হালকা বই পড়া
যদি প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যায়, তাহলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। সময়মতো কাজ করলে মনেও চাপ কম থাকে এবং ভুলও কম হয়। তাই দিনের সময় বুঝে কাজ করলে রুটিন ঠিক থাকে আর মনও ভালো থাকে। আমাদের দেখানো নিয়মগুলো মানলে এটি অনেক সহজ হয়ে যায়। 

রুটিনে বিশ্রামের সময় রাখার উপায়

রুটিনে বিশ্রামের সময় রাখার উপায় জানা না থাকলে আপনি ঠিকঠাক রুটিন মানতে পারবেন না। আপনার বিশ্রাম ছাড়া কাজ কখনোই ভালোভাবে হয় না। তাই উচিৎ কাজের মাঝখানে বিশ্রাম করা। তাহলে মাথা ঠান্ডা থাকবে। নিচে বিশ্রামের রুটিন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলোঃ
প্রতিদিনের-রুটিন-তৈরি-করার-সহজ-উপায়
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রামের সময় ঠিক করে রাখুন
  • দুপুরের খাবারের পর ১৫-২০ মিনিট চোখ বন্ধ রাখলে মাথা ঠান্ডা হয়
  • একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝে একটু উঠে দাঁড়িয়ে হাত-পা নড়ানো ভালো
  • মুঠোফোন বা টিভি দেখে নয়, চোখ বন্ধ করে চুপ করে থাকা বিশ্রাম
  • বিকেলে ১০ মিনিট খোলা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা মনকে সতেজ রাখে
  • রাতে ঘুমানোর আগে ১৫ মিনিট নিজের মতো সময় নিন
  • পরিবারের সাথে গল্প করাও মানসিক বিশ্রাম

পড়াশোনা বা কাজের সময় নির্ধারণ

পড়াশোনা বা কাজের সময় নির্ধারণ করতে না পারলে রুটিন বানানো হলেও তা কাজে আসে না। তাই কোন সময় পড়লে বা কাজ করলে ভালো হয় সেটা বুঝে নেওয়া দরকার। আপনার কাজের সময় নির্ধারণ করা থাকলে আপনি চাপ ছাড়াই রুটিন দেখে কাজ করতে পারবেন। এ নিয়ে কিছু বিষয় হলোঃ 
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে ১ ঘণ্টা পড়া ভালো হয়
  • দুপুরে হালকা কাজ বা পুনরাবৃত্তি করা সুবিধাজনক
  • বিকেলে ক্লান্তি এলে বিশ্রাম দিয়ে কাজ শুরু করা ভালো
  • প্রতি কাজের জন্য ২৫-৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা যায়
  • সময় অনুযায়ী ঘড়ি বা মোবাইলে রিমাইন্ডার রাখা যায়
  • একসাথে অনেক কিছু না রেখে এক এক করে সময় ভাগ করে রাখা ভালো
  • সন্ধ্যায় পড়া বা কাজের প্রস্তুতির জন্য হালকা রিভিশন রাখা যায়
এইভাবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করলে সময় অপচয় হয় না। এটা প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ পদ্ধতি হিসেবে সেরা একটি বিষয়। আপনি কি পরিমাণে কাজ বা পড়াশোনাকরবেন সারাদিন তা আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখলে কোনো সমস্যা হয় না। 

রাতের ঘুম রুটিনে রাখার নিয়ম

রাতের ঘুম রুটিনে রাখার নিয়ম জানা থাকলে শরীর-মন দুইটাই ভালো থাকে। ঘুম নিয়মিত না হলে অন্য কিছুও ঠিকমতো করা যায় না। প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় এর মাঝে ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে ঘুমৃর রুটিন দেওয়া হলোঃ
প্রতিদিনের-রুটিন-তৈরি-করার-সহজ-উপায়
  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া জরুরি
  • ঘুমের ৩০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন (মোবাইল/টিভি) থেকে দূরে থাকা ভালো
  • ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি খেলে আরাম লাগে
  • ঘুমাতে যাওয়ার আগে আলো কমিয়ে ফেললে মন শান্ত হয়
  • বিছানা শুধু ঘুমানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত
  • খুব ভারী খেয়ে ঘুমাতে যাওয়া ঠিক না
  • রাতের ঘুম কম হলে সকালেই শরীর ভার হয়ে থাকে

ছোট কাজগুলোও রুটিনে রাখার গুরুত্ব

ছোট কাজগুলোও রুটিনে রাখার গুরুত্ব অনেক বড়। ছোট কাজ মানেই যে তা তুচ্ছ, এমন ভাবা ঠিক নয়। পানি খাওয়া, জামা গুছানো, বই ব্যাগে রাখা এই কাজগুলো সময় মতো না করলে বড় কাজেরও সমস্যা হয়। আপনি যদি সকালেই ঠিক করে নেন কখন কোন ছোট কাজ করবেন তাহলে সারা দিন গুছানো ভাবে চলবে। ছোট কাজ ভুলে গেলে অনেক সময় দেরি হয় বা বড় কাজ নষ্ট হয়। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজও সময় বেঁধে রাখলে মাথায় চাপ কম থাকে। 

সফলদের দৈনন্দিন রুটিন কেমন হয়

প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় আপনাকে সফল করতে পারে। আপনি কি জানেন সফলদের দৈনন্দিন রুটিন কেমন হয়? এটি জানলে বোঝা যায় যে তারা সময়কে কতটা গুরুত্ব দেয়। তারা সকালেই দিনের কাজ গুছিয়ে নেয়। কখন কাজ করবে, কখন বিশ্রাম নেবে সব কিছুর একটা সুনির্দিষ্ট সময় থাকে। সকালে উঠে শরীরচর্চা, তারপর প্রয়োজনীয় কাজ, মাঝেমধ্যে বিশ্রাম, আবার পড়া বা পরিকল্পনা এইভাবে তারা নিজেকে একটি নিয়মে রাখে। আপনার উচিৎ এভাবেই নিজেকে নিয়মে রাখা। 

প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার গুরুত্ব

প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার গুরুত্ব শুধু সময় বাচানোর জন‍্য নয়। এতে মনও শান্ত থাকে। আপনার রুটিন থাকলে আপনি জানেন কখন কী করবেন। এতে সময়ের অপচয় কমে যায়। কাজ শুরু করার আগে ভাবতে হয় না, ফলে দুশ্চিন্তা কমে। নিয়মিত জীবন চললে শরীরও ঠিক থাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যদি একটা সোজা পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ছোট-বড় সব কাজই সহজ হয়ে ওঠে। তাই রুটিন বানানো মানেই জীবনকে একটু সহজ করে তোলা। 

পরিশেষে আমার মতামত 

আমার মতে, আপনার যদি প্রতিদিনের একটা পরিকল্পনা থাকে যে আপনি সারাদিন কি করবেন তাহলে আপনার দিন অনেক সহজে চাপ ছাড়া কাটবে। এর জন‍্য আপনাকে রুটিন বানাতে হবে। তবে এর কিছু কৌল আছে। আমাদের এই পোস্টে প্রতিদিনের রুটিন তৈরি করার সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করা যায় এ ধারণাগুলো থেকে আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন বানাতে পারবেন। আপনার দিন যেন ভালো যায় তার জন‍্য আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন‍্য শুভেচ্ছা। [250412]







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url