বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে

নখ গোলাপি করার ২০+ কার্যকর উপায়আপনি কি জানেন বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি যে বাড়ছে? অনেকেই ভাবে বিড়ালের কামড়ে আসলে কিছু হবে না। বিড়াল অনেক পবিত্র পশু যা সবাই জানে ও মানে। কিন্তু এই বিড়ালের আচড় অথবা কামড়ে হতে পারে জলাতঙ্ক। 

বিড়ালের-কামড়ের-কারণে-জলাতঙ্কের-ঝুঁকিএই পোস্টে আমরা বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্ক ও এর চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। 

পোস্ট সূচিপত্র: বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত যা যা থাকছে

বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

অনেকেই বিড়াল সখ করে পালন করে। অনেকে সতর্ক থাকে তাই বিড়ালকে আগেই ভ‍্যাকসিন দিয়ে রাখে। অনেকে ভ‍্যাকসিন না দিয়েও অসতর্ক থাকে। অর্থাৎ এ নিয়ে অবহেলা করে। বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি সম্পর্কে আসলে অনেকে জানেই না। অনেক সময় বিড়ালের আঁচড় ও কামড়েও জলাতঙ্ক হয়ে থাকে। 
বিড়াল যদি অসুস্থ হয় অথবা রাস্তা ঘাটের বিড়াল হয় তবে জলাতঙ্ক বা Rabies হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়ে থাকে। আর যেই সব বিড়াল ভালো করে পোশ মানে তারা আঁচড় বা কামড়ে এতো বেশি যায় না। তবে সব দিক দিয়েই সতর্ক থাকা ভালো। জলাতঙ্ক রোগ অনেক বিপজ্জনক এবং ভয়াবহ একটি রোগ। এ ক্ষেত্রে আপনি সাধারণত জানেন মানুষ তার আগের চরিত্রে থাকে না। 

যদি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হয়। অনেকে অনেক ভ‍্যাকসিন নেয়। এই ভাইরাস মূলত বিড়ালের লালার মাধ‍্যমে ছড়ায়। আপনার দেহের একটি ক্ষততে বিড়ালের এই লালা পড়লে জলাতঙ্ক হতে পারে। ঘরের বিড়াল কামড়ালে দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে ফেললেই হয়। তবে বাইরের বিড়াল থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার। এছাড়াও বিড়াল পাললে বিড়ালের ভ‍্যাকসিন দিয়ে রাখা উচিৎ। 

বিড়াল কামড়ালে ভ্যাকসিন না দিলে কি হয়

বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেক বেশি না হলেও কখনো কখনো ভয়াবহ রূপ দেখা যায়। আমরা সাধারণত কুকুরের কামড়ে অনেক বেশি ভয় পাই। কিন্তু বিড়ালের কামড়েও ঠিক একই জলাতঙ্ক হতে পারে। বিড়াল কামড়ালে ভ্যাকসিন না দিলে জলাতঙ্ক হতে পারে। 

অনেকেই বিড়ালের কামড় নিয়ে অবহেলা করে। গ্রামের একটি চিকিৎসা হচ্ছে বিড়ালের কামড়ে লবণ পোড়া খাওয়া। এটা অনেক সময় কাজ করে তবে যদি ভয়াবহ অবস্থা হয় তবে এটি দিয়ে কাজ হবে না। যদি জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে তখন ভ‍্যাকসিন নিলেও মোটামুটি ঠিক হওয়া যায়। তবে কিছু হলেও ক্ষতি হয়ে যায়। তাই আগেই ভ‍্যাকসিন নেওয়া ভালো। পানি খেতে কষ্ট হতে পারে, ভয় লাগা, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, জ্বর, গলা ব‍্যাথা আরও অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিনের দাম কত

অনেকে আছে যারা ভ‍্যাকসিন নিতে ভয় পায় আবার অনেকে আছে যারা ভ‍্যাকসিনের দাম দেখে আর ভ‍্যাকসিন নিতে চায় না। এতে করে অনেক সময় পার পেয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ছোট্ট অবহেলা থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই আগে ভাগেই সতর্ক থাকা ভালো। দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও ভ‍্যাকসিন নিয়ে পিতে হবে। 

চিকিৎসকরা আসলে এই ভ‍্যাকসিন সম্পর্কে ভালো জানে। এই ভ‍্যাকসিনের দাম সাধারণত ২০০০-২৫০০ টাকার মাঝে হয়ে থাকে। তবে এরচেয়ে সস্তা ভ‍্যাকসিন সরকারি হাসপাতালে পাওয়া যেতে পারে। আর এরচেয়ে দামি ভ‍্যাকসিন থাকলেও সাধারণত এগুলোই সবচেয়ে ভালো। তাই ভয় না পেয়ে ভ‍্যাকসিন নিয়ে নেওয়াই ভালো। 

সুস্থ বিড়াল কামড়ালে কি জলাতঙ্ক হয়

অনেকেই মনে করে সুস্থ বা বাসার বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি হয় না। আসলে বিষয়টা পুরোপুরি এমন না। সাধারণত সুস্থ ও নিয়মিত টিকা দেওয়া বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কম থাকে। তবে যদি বিড়ালের মাঝে অন‍্য কোথা থেকে ভাইরাস আসে বা কোনো ভয়াবহ রোগে বিড়াল ভোগে তাহলে জলাতঙ্কের সম্ভাবনা বেশি। 
যদি বিড়ালটি স্বাভাবিক আচরণ করে, ঠিকমতো খায় এবং অসুস্থ না হয় তাহলে ভয় কম থাকে। কিন্তু তারপরেও বিড়াল যদি কামড় দেয় হালকা বা আচঁ দেয় তবে সেই জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। তবে যদি রক্ত বের হয় বা বেশি ক্ষত হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত। কারণ জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ।

অনেক সময় দেখা যায় বিড়াল বাইরে গেছে। বিড়াল বাইরে অন‍্য কোনো জলাতঙ্খের বিড়ালের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে এসেছে। তখন বিড়ালের শরীরে ভ‍্যাকসিন থাকলে তা নিরাময় হয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাঝে জলাতঙ্ক থেকেই যায়। তাই চোখ দিয়ে দেখলেই বুঝা যাবে না যে জলাতঙ্ক আছে নাকি নেই। 

বাচ্চা বিড়াল আচর দিলে কি হয়

অনেকে বাচ্চা বিড়ালকে ভ‍্যাকসিন দেয় না। কারণ বাচ্চা বিড়ালের ক্ষতি হবে বা কষ্ট হবে এইসব ভেবে ভ‍্যাকসিন দেয় না। বড় হলে তারপর ভ‍্যাকসিন দেয়। বাচ্চা বিড়াল কামড় বা আচড় বেশি দেয়। এই বাচ্চা বিড়াল বাইরে গেলে অন‍্য বিড়াল থেকে জলাতঙ্ক নিয়ে আসতে পারে। 
বিড়ালের-কামড়ের-কারণে-জলাতঙ্কের-ঝুঁকিঅনেকেই ঠিক এই জায়গাটাতেই ভুল করে। বাচ্চা বিড়ালকে অবহেলা করায় তখন নিজের ক্ষতি করে। তাই বাচ্চা বিড়াল থেকেও সাবধান হতে হবে এবং বাচ্চা বিড়ালকে ভ‍্যাকসিন দিতে হবে। আবেগে থেকে নিজের ক্ষতি করে কোনো লাভ হবে না। তাই নিজের সতর্কতা দেখুন তারপর বিড়াল পালন করুন। 

বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে জলাতঙ্ক হয়

বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেক কম।লেও জলাতঙ্ক অনেক তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত ২০ দিন পর থেকে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মাঝে আপনি ভুলেও যেতে পারেন যে আপনাকে কখনো কামড় দিয়েছিল কিনা। এরপরে লক্ষণ দেখা দিলে আপনি বুঝতেও পারবেন না জলাতঙ্ক। 

তাই আপনাকে আগে থেকেই ভ‍্যাকসিন নিয়ে রাখতে হবে। আর জলাতঙ্ক হয়ে গেলে এর চিকিৎসা অনেক কঠিন। তখন আপনার আরও কষ্ট করতে হবে। তাই Risk না নিয়ে বিড়াল কামড়ালে ভ‍্যাকসিন নিয়ে নেওয়াই ভালো। নাহলে পরে অনেক বড় সমস্যা হতে পারে। যা আপনি বুঝতেও পারবেন না। 

বিড়ালের কামড়ের উন্নত চিকিৎসা 

বিড়ালের কামড়ের জন‍্য এখন বর্তমানে অনেক উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি বের করা হচ্ছে। বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তার জন‍্য চিকিৎসা ব‍্যবস্থাও আরও ভালো করা হচ্ছে। ধরুন আপনাকে বিড়াল কামড় দিয়ৈছে। এখন ঐর চিকিৎসা নিচে বর্ণনা করা হলো:
  • বিড়াল কামড়ালে প্রথমেই ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধুতে হবে।
  • এরপরে antiseptic ব্যবহার করতে হবে।
  • যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে।
  • ডাক্তার Rabies vaccine দিতে পারে।
  • কিছু ক্ষেত্রে Tetanus injection দিতে হতে পারে।
  • গভীর ক্ষত হলে আগে dressing করতে হয়।
  • যদি infection হয় তাহলে antibiotic লাগতে পারে।

পরিশেষে আমার মতামত 

এই পোস্টে আমরা বিড়ালের কামড়ের কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি ও এর চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু জেনেছি যা আমাদের জীবনে অনেক বেশি কাজে আসবে। অনেকেই এটি নিয়ে অবহেলা করে যা একদম ঠিক নয়। অনেকেই ভাবে সে strong তার কিছু হবে না। কিন্তু হলে তারপর বুঝা যাবে। আশা করি আপনি সবকিছু বুঝতে পেরছেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন‍্য ধন‍্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url