কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায়
পড়াশোনা সহজে করার টিপসআপনি কি কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এর পদ্ধতি খুঁজছেন? তাহলে আপনি আজকে সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। আপনি এইসকল সহজ পদ্ধতি সবকিছুই আমাদের কাছ থেকে পাবেন। আমরা আপনাকে এমন অনেক টিপস সম্পর্কে জানাব।
এই পোস্টে না পড়ে পরীক্ষা ভালো করার উপায় নিয়ে আমরা আপনাকে বিস্তারিত জানাব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। পোস্ট সূচিপত্র: কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
- কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায়
- পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার টোটকা
- পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার মন্ত্র
- পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি
- পরীক্ষায় পাশ করার জন্য কী কী কৌশল রয়েছে
- দ্রুত পড়াশোনা মনে রাখার উপায়
- পরীক্ষার সময় কী কী করা উচিত
- পরীক্ষায় বানিয়ে লেখার উপায়
- না পড়ে পরীক্ষা দিলে ক্ষতি
- পরিশেষে আমার মতামত
কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায়
আপনার মাথায় একটা প্রশ্ন সবসময়ই আসে যে কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায়। এখন আমরা আপনাকে এর সকল টিপস সম্পর্কে তো অবশ্যই জানাব। সাথে আপনাকে আরও কিছু কাজ করতে হবে। কারণ পরীক্ষার হলে বসে আপনাকে নকল করা আমরা শিখাব না। তাই আমরা কিছু টিপস দিব যা মেনে চললেই আপনি কম পড়ে পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার উপায়
আসলে পুরোপুরি না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, কম পড়ে, স্মার্টভাবে চিন্তা করে ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে, কিন্তু ফলাফল এতো ভালো হয় না। আবার কেউ কেউ অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পড়ে ও বুঝে ভালো রেজাল্ট করে। এর জন্য রয়েছে অনেক টিপস। যেমন: ভালো ঘুম এবং সাথে হালকা পাতলা পড়া এবং পড়ার মাঝে মাঝে ব্রেক নেওয়া। এমন অনেক টিপস আছে।
আপনাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন বুঝে শিখতে হবে। কিন্তু আপনার তো পড়ার সময় কম তাই আপনি শুধু একটা প্রশ্নের মূল যেই লাইন আছে ঐটা শিখবেন এবং পরে এর উপর ভিত্তি করে বানিয়ে লেখা শুরু করবেন। তবে উল্টাপাল্টা বানিয়ে লেখলেই তো আর হবে না। তার জন্য বানিয়ে লেখার কিছু স্কিল দরকার হবে। এ নিয়ে পোস্টের নিচে সম্পূর্ণ বর্ণনা করা হয়েছে।
এরপর আপনার উচিৎ আগের বার বা আগের বছর কি কি প্রশ্ন এসেছে এগুলো হালকা পাতলা পড়া। আপনার নিজ ইচ্ছায় যেগুলো মনে হবে এগুলো দাগিয়ে রাখবেন এবং টিপস মেনে শিখবেন তারপর বানিয়ে লেখবেন। আপনি যেহেতু কম পড়ছেন সেহেতু নাম্বারও তুলনা মূলক ভাবে কম হবে। আর আমাদের নিয়ম মেনে বেশি পড়লে আপনার পরীক্ষা অবশ্যই ভালো হবে।
এরপর ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে হবে। আপনি একটি ট্রিকস কাজে লাগাতে পারেন। আপনি একটা পড়া পড়ার সময় চুইংগাম চাবালেন তারপর পরীক্ষাতে একই ফ্লেভারের চুইংগাম চাবালেন। এতে করে আপনার ঐ পড়া মনে পড়বে। এছাড়াও পরীক্ষার হলে পানি রাখবেন সাথে। আর না পারলে কারো সাহায্য তো নেবেনই। কিন্তু আপনার ব্রেইন অবশ্যই খাটাতে হবে। প্রশ্ন বেশি কঠিন হলে আপনি শুধু পাস করার চিন্তা করবেন। নাহলে বেশি চিন্তা করলে শেষে দেখা যাবে কিছুই হবে না। এরকম আরও অনেক টিপস আছে যা নিয়ে আমরা বিস্তারিত জানব।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার টোটকা
কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এরজন্য দরকার কিছু টোটকা। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আসলে অনেক টোটকাই অনেকে ব্যবহার করে থাকে। এগুলো মাঝে মাঝে কাজ করে। আপনিও এগুলোর ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার পরীক্ষা ভালো হবে। অবশ্যই যদি আপনি পড়াশোনা না করে থাকেন। তবে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেওয়াই ভালো। অথবা বিশেষ কিছু মাথা খাটানোর উপায় আছে যার মাধ্যমে কম পড়ে সৃজনশীলতার মাধ্যমে ভালো করা যায়। এগুলো নিয়ে আমরা এই পোস্টে জানব। কিছু টোটকা হলো:
- সিলেবাস বার বার চ্যাক করা
- গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো মানে যেভাবে বুঝিয়েছিলাম এভাবে পড়া
- সৃজনশীল হওয়া
- হাতের লেখা সুন্দর করা। এটি পরীক্ষাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- সময় ভাগ ভাগ করে পড়া। অর্থাৎ কিছুক্ষণ পড়া আবার রেস্ট। আবার পরীক্ষাতে পরিকল্পনা করে পড়া।
আপনি এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়লে আপনার পড়া মনে থাকবে। তবে পড়তে হবে। একদম না পড়ে ভালো করা যাবে না। তোমার ভবিষ্যত দেখো। অনেকেই দেখা যায় পড়াশোনা ছাড়া সফল কিন্তু সবাই কি হয়? তাই তোমার যদি কোনো পথ না থাকে পড়াশোনাছাড়া বিকল্প নেই।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার মন্ত্র
পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আসলে কোনো জাদু মন্ত্র নেই। এর একমাত্র সমাধান তোমার মাঝেই। তুমি চাইলেই পারবে। তুমি চাইলেই নিজের মাঝে জাদু আনতে পারবে। চাইলেই পড়াশোনায় ভালো করতে পারবে। তার জন্য দরকার ইচ্ছা। আর ইচ্ছাটাই হচ্ছে তোমার ভিতরের মন্ত্র। আর এই মন্ত্র অনুযায়ী চললে তোমার পরীক্ষা ভালো হবে। কোনো লাভ নেই উল্টাপাল্টা মন্ত্র পড়ে পরীক্ষায় ভালো করার। তুমি নিজে দেখো তুমি কি পারো। আর নিজের উন্নয়ন করো। এরকম মটিভেশন নিজের মাঝে রাখো।
পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগে রাতটাই অনেকের জন্য পড়াশোনার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সময়। যে পরীক্ষার আগের রাতে সব শেষ করবো। তুমি সারা বছর পড়াশোনা করো নাই এখন পরীক্ষার আগে রাতে বই খুলে দেখবে কিছুই পারো না। বা অনেকে আছে পরীক্ষার আগের রাতেও পড়ে না। তোমাকে আগে বুঝতে হবে তুমি কি করতে চাচ্ছো। যদি ভালো করে পড়াশোনা করতে চাও তবে করো আর নাহলে অন্য চিন্তা করো যেমন ফ্রিল্যান্সিং এমন দক্ষতা অর্জন করো।
আরও পড়ুন: পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয়
যাইহোক তুমি যখন দেখবে কোনো কিছুই পারো না তখন তোমার কাজ সিলেবাস অর্ধেক করা। সবকিছু পড়া লাগবে না। তোমার কাছে যেগুলো সহজ লাগে ঐগুলোই পড়বে যেন পরীক্ষাতে কিছু হলেও পারো। সব গুলো বিষয়ের মূল জিনিসটা জানবে। এখন সব তো আর বানিয়ে লেখা যাবে না যেমন অংক। অংক তোমার আগে থেকেই পারতে হবে আর নাহলে পরীক্ষার আগে যেই তিন অধ্যায়ের অংক সহজ ঐগুলো শুধু শিখবে।
আর যদি তোমার আগে থেকেই পড়া থাকে সবকিছু তবে তোমার উচিৎ সবকিছু আবার রিভিশন দেওয়া। রাত শুধু রিভিশন দেওয়ার জন্য। ভালো ভালো খাবার খাবে। আর ৮ ঘন্টার বেশি ঘুমাবে। আর দোয়া করবে যেন ভালো ভাবে পরীক্ষা দিতে পারো। আর এই সব কিছু মিলিয়েই তোমার পরীক্ষার আগের রাতের প্রস্তুতি অনেক ভালোই যাবে। এছাড়াও আরও টিপস তো রয়েছেই।
পরীক্ষায় পাশ করার জন্য কী কী কৌশল রয়েছে
পরীক্ষায় পাশ করার জন্য খুব জটিল কিছু করার দরকার নেই, কিছু বেসিক কৌশল ঠিকভাবে মানলেই অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় বা পাস করা যায় এমন অনেক গুলো টিপস নিচে দেওয়া হলো:
আরও পড়ুন: প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন তৈরি করার উপায়
- প্রশ্ন ভালো করে পড়ুন। তাড়াহুড়া করলে প্রশ্ন ভুল বুঝতে পারেন।
- যেটা জানেন সেটা আগে লিখুন। এতে ভয় কমে আর মন ভালো থাকে।
- সব প্রশ্নে কিছু না কিছু লিখুন। ফাঁকা রাখলে নম্বর পাওয়া যায় না।
- লেখা পরিষ্কার রাখুন। সুন্দর লেখা হলে শিক্ষক পড়তে পারেন।
- উত্তর ছোট ও গুছানো লিখুন। বেশি বড় না হলেও মূল কথা লিখলেই হয়।
- সময় দেখে লিখুন। এক প্রশ্নে বেশি সময় দেবেন না।
- ভুল হলে ভয় পাবেন না। পরের প্রশ্নে চলে যান।
- মাথা ঠান্ডা রাখুন। ঘাবড়ালে জানা জিনিসও ভুলে যান।
- শেষে একবার চোখ বুলান। ছোট ভুল ঠিক করা যায়।
- নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস থাকলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।
দ্রুত পড়া মনে রাখার কৌশল
অনেকেই অনেক তাড়াতাড়ি পড়া মনে রাখতে পারে। কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এর জন্য অনেক সাহায্য করবে এই পদ্ধটি। আর দ্রুত পড়া মনে রাখার জন্য অনেক গুলো টিপস রয়েছে। এমন কিছু টিপস নিচে দেওয়া হলো:
- বুঝে পড়। না বুঝে মুখস্থ করলে দ্রুত ভুলে যায়।
- নিজের ভাষায় পড়ু। নিজের মতো করে পড়লে মনে বেশি থাকে।
- ছোট ছোট অংশে পড়ুন। একসাথে বেশি পড়লে মাথা গুলিয়ে যায়।
- লিখে প্র্যাকটিস করুন। লেখা মনে রাখতে সাহায্য করে।
- বারবার অল্প করে রিভিশন দিন। একবারে অনেক পড়ার দরকার নেই।
- পড়ার মাঝে অল্প বিরতি নি বিরতি না নিলে মাথা ক্লান্ত হয়।
- মোবাইল দূরে রাখুন। মোবাইল থাকলে মন বসে না।
- ভালো করে ঘুমান। ঘুম না হলে পড়া মনে থাকে না।
- নিজেকে চাপ দেবেন না। শান্ত থাকলে পড়া সহজে মনে থাকে।
পরীক্ষার সময় কী কী করা উচিত
পরীক্ষার সময় আপনাকে কী কী করতে হবে এ নিয়ে মোটামুটি আমরা আগেই জেনেছি। এছাড়াও আপনার আরও কিছু বিষয় জানতে হবে পরীক্ষা ভালো করার জন্য। দেখুন আপনি যদি না পড়ে পরীক্ষায় ভালো করতে চান তাহলে এটা অনেক কঠিন হবে। তাই আপনাকে পড়তে হবে। তবে কম পড়েও ভালো করা যায়। এর জন্য কিছু টিপস রয়েছে।
পরীক্ষায় নিজের মাথা শান্ত রাখুন। যেই প্রশ্ন পাবেন ঐটা ভালো করে পড়ুন দেখুন পারেন কি না। যেগুলো পারেন ঐগুলো সময় হিসাব করে লেখবেন যাতে পাস করতে পারেন। অবশ্যই হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে। এইটাই আপনার জন্য যথেষ্ট। এরপর কিছু খালী রাখবেন না সবগুলো তেই কিছু না কিছু লিখতে হবে। শেষে একবার রিভিশন। তাহলে আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো যাবে।
পরীক্ষায় বানিয়ে লেখার উপায়
কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এর সব উপায়গুলোর মাঝে আমরা বলেছিলাম যে বানিয়ে লিখতে। কারণ যেহেতু আপনি কিছু শিখেন নি সেহেতু বানিয়ে লেখতে হবে। এবং এতে করে সৃজনশীলতা বাড়ে। আর এর জন্য আপনার ব্রেইনকে ভালো মতো ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আপনি পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন।
প্রথমেই আপনার একটি প্রশ্নেরমূল বিষয় জানা উচিৎ। এক দুই লাইন শিখলে ১০ লাইন বানিয়ে লেখা যাবে। আর যদি ধারণায় না থাকে তবে বানিয়ে লেখা যাবে না। আবার না পারলে কারো কাছ থেকে পরীক্ষায় প্রশ্নের এক লাইন উত্তর জানুন তারপর বানিয়ে লিখুন। এরপর আপনার মাথায় লজিক সহ যা আসবে তাই লিখবেন। আর পয়েন্ট আকারে লেখার চেষ্টা করবেন। কোনো ধরনের কঠিন শব্দ ব্যবহার করতে যাবেন না। আর হাতের লেখা সুন্দর থাকলে আপনার লেখা থেকেই শিক্ষক মুগ্ধ হবে।
না পড়ে পরীক্ষা দিলে ক্ষতি
না পড়ে পরীক্ষা দিলে আসলে ক্ষতিটা অনেক বেশি। তবে আপনার যদি সৃজনশীলতা থাকে তাহলে আপনি কম পড়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। কিন্তু একদম না পড়ে পরীক্ষা দেওয়া যায় না। তাই আপনার সতর্ক হওয়া উচিৎ। আপনাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। যদি না করেন তবে আপনারই ক্ষতি। যেমন:
- ভালো নম্বর পাওয়া কঠিন হয়। আন্দাজে লিখলে নম্বর কমে যায়।
- আত্মবিশ্বাস কমে যা। প্রশ্ন দেখেই ভয় লাগে।
- ভুল তথ্য লেখার ঝুঁকি থাকে। এতে নম্বর কেটে যায়।
- পরের ক্লাসে সমস্যা হয়। বেসিক না জানলে পরের পড়া কঠিন হয়।
- নিজের উপর রাগ লাগে। “আরেকটু পড়লে ভালো হতো”এই আফসোস থাকে।
পরিশেষে আমার মতামত
আমার মতে কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এসকল উপায় আপনি কাজে লাগাতে পারবেন যখন আপনার মাঝে সৃজনশীলতা থাকবে। এছাড়া আপনার উচিৎ পড়াশোনা করেই পরীক্ষা দেওয়া। আপনার নিজের ক্ষতি আপনি নিজে করবেন না। আপনার উচিৎ নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং একটি ভালো রেজাল্ট করা। আর আশা করি আমাদের দেওয়া টিপস গুলো আপনার কাজে লাগবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url