এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ৫০+ উপায়
বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করার সেরা ২০ উপায়আপনি কি জানতে চান যে এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া যায়? তবে আপনি আজকে সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। পরীক্ষার আর মাত্র এক মাস বাকি এখন আপনাকে এক মাসে সবকিছু শেষ করতে হবে। এগুলো আমরা আপনাকে ধাপে ধাপে এই পোস্টে জানাব।
এই পোস্টে আমরা বিস্তারিত জানব যে কীভাবে এক মাসে পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া যায়। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।পোস্ট সূচিপত্র: এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি
- পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম
- একটানা কতক্ষণ পড়া উচিত
- রাতে কত ঘন্টা পড়া উচিত
- ১৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন
- পরীক্ষার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেব
- পরীক্ষার আগের রাতে করণীয় কি কি
- না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
- পড়া মনে রাখার শক্তি বাড়ানোর উপায়
- পরিশেষে আমার মতামত
এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগে আমাদের একটা রুটিন করা উচিৎ। এই রুটিন অনুযায়ী যদি আমরা একমাস পড়াশোনা করি তবে আমাদের পরীক্ষা অনেক ভালো হবে। এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি। এই এক মাস না খেয়ে পড়াও ভালো। যদি বোর্ড পরীক্ষা হয় তবে না খেয়ে পড়াও ভালো হবে।
পরীক্ষার একমাসে তুমি ভালো করে পড়াশোনা করবে। ধরো তোমার এই সময় টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তোমার দিনে ১২-১৪ ঘন্টা পড়াশোনা করা উচিৎ। সব কিছু ছেড়ে দাও ত্যাগ করে দাও। তোমার জীবনের লক্ষ যদি পড়াশোনা হয় তবে এভাবেই। করো কিন্তু তুমি যদি সারা বছর না পড়ো তবে তোমার অনেক চাপ হবে এই মাসে। তাই বিভিন্ন টিপস নিয়ে পড়তে হবে। এই টিপস গুলো সূচিপত্র থেকে দেখে ক্লিক করে শিখে নিতে পারো। এছাড়াও কিছু টিপস হলো:
- প্রথম ৭ দিন পুরো সিলেবাস ঝালাই করতে হবে
- গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করতে হবে
- বোর্ড প্রশ্ন চর্চা করতে হবে
- প্রতিদিন অন্তত একটি বিষয়ের পূর্ণ রিভিশন দিতে হবে
- সহজ অধ্যায় আগে শেষ করতে হবে
- লিখে লিখে অনুশীলন শুরু করতে হবে
- মডেল টেস্ট দেওয়া শুরু করতে হবে
- দ্বিতীয় সপ্তাহে সময় ধরে পরীক্ষা অনুশীলন করতে হবে
- ভুলগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখতে হবে
- তৃতীয় সপ্তাহে সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করতে হবে
- প্রতিদিন আগের পড়া আবার রিভিশন করতে হবে
- শেষ সপ্তাহ শুধু রিভিশন ও অনুশীলনের জন্য রাখতে হবে
- নতুন কিছু না পড়ে পুরোনো পড়া শক্ত করতে হবে
- প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে
তুমি প্রথমে তোমার সিলেবাস শেষ করে নেও। এরপর পরীক্ষার আগের মাসে সবকিছু রিভিশন দাও। তবে যদি তোমার কিছুই পড়া না থাকে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চাও একমাস পরেই তবে এই পোস্টে অনেক টিপস নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
পড়ার রুটিন বানানোর নিয়ম
তবে সারা বছর পড়াশোনা করার একটা নিয়ম আছে। প্রতিদিন তোমাকে রুটিন মেনে পড়াশোনা করতে হবে। ধরো তোমার যেই সিলেবাস এই সিলেবাস তোমার বিভিন্ন খন্ডে ভাগ করে পড়া শেষ করতে হবে। তুমি পুরা মাসের একটা হিসাব করবে একদিন ঠান্ডা মাথায় যে কবে কি পড়বে। একটি নোট করবে। এ অনুযায়ী তুমি পড়াশোনা করতে পারো।
ধরো তোমার ১০টি সাবজেক্ট আছে। তোমার প্রত্যেকটা বিষয়ের অধ্যায় ১০টি। এখন তোমার হাতে এক বছর সময় সিলেবাস শেষ করার জন্য। তাহলে তোমাকে একটা ভালো রুটিন বানাতে হবে। সপ্তাহে ৭ দিন সময়। এর মাঝে ৩ দিন ৫টি বিষয় এবং বাকি ৩ দিন বাকি তিনটি বিষয় পড়বে। এবং শুক্রবারে অর্ধেক সময় ধরো তুমি শুক্রবারে ১০ ঘন্টা পড়াশোনা করলে। এর ৫ ঘন্টা সারা সপ্তাহে যা কিছু পড়েছো ৩০ মিনিট করে প্রতিটি বিষয় মোট ১০টি বিষয় রিভিশন দিবে।
এরপরে বাকি ৫ ঘন্টা কঠিন যেই বিষয় গুলো আছে ধরো ৫টি বিষয় কঠিন। এগুলো রিভিশন দিবে সবগুলো এক ঘন্টা করে। আর এটি গেলো শুক্রবার। বাকি সপ্তাহের ৬ দিন তোমাকে ভালো ভাবে পড়তে। এখনকার সময় সবাই মোটামুটি প্রাইভেট স্কুল করে। এটা স্বাভাবিক এখন সবাই এগুলোই করছে।
প্রাইভেট স্কুল এগুলোর পিছনে মাত্র ৬-৭ ঘন্টা সময় দিতে হবে। খেলাধুলা ১ ঘন্টা করা যায়। বা সময় কাটানোর জন্য ১ ঘন্টা। ধরো এভাবে ৮ ঘন্টা আর ৭ ঘন্টা ঘুম। এই মোট ১৫ ঘন্টা। তবে পরীক্ষার এক মাস আগে থেকে ৬ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে এর কম ঘুমানো যাবে না। যাইহোক বাকি ৯ ঘন্টার মাঝে ৮ ঘন্টা যদি তুমি পড়াশোনা করো তবে তুমি অবশ্যই প্রথম হবে।
এখন এই ৭ ঘন্টার মাঝে ৫টি বিষয় শেষ করতে হবে। বাকি ১ ঘন্টাতে প্রাইভেট স্কুলের পড়া শেষ করতে হবে। তাহলে প্রতিটি বিষয় গড়ে ১ বা দেড় ঘন্টাতে শেষ করা যাবে। এখন ধরো তোমার অর্ধবার্ষিকে ৫টি অধ্যায় শেষ করতে হবে। তাহলে টার্গেট নিবে নিজে থেকে রুটিন করবে কোন অধ্যায় কতদিন করে অধ্যায় শেষ করতে সময় লাগবে তা হিসাব করে পড়বে। ধরো ৩ মাসে সিলেবাস শেষ করে ২ মাস রিভিশন দিবে। এবং পরীক্ষা চলাকালীন মাসে পুরা মাস আবার সব রিভিশন দিবে।
একটানা কতক্ষণ পড়া উচিত
একটানা বেশিক্ষণ পড়লে মাথায় কিছু ঢুকতে চায় না। এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটানা পড়া এতো ভালো না হলেও একজনের দ্বারা দিন ১৬ ঘন্টা পড়া সম্ভব। ৬ ঘন্টা ঘুম ২ ঘন্টা রেস্ট ও ১৬ ঘন্টা পড়া। প্রতি ঘন্টায় ৪৫ মিনিট পড়া এবং ১৫ মিনিট রেস্ট নেওয়া ভালো। এভাবে সারাদিনে যতক্ষণ পড়া যায়। ২ ঘন্টা একটানা পরলে ২০ মিনিটের মতো রেস্ট নেওয়া। এভাবে পড়া ও রেস্ট নেওয়া অনেক ভালো কার্যকর।
রাতে কত ঘন্টা পড়া উচিত
তুমি যদি দিনে ১৬ ঘন্টা বা এর কাছাকাছি সময় পড়তে চাও তবে তোমাকে আগে দেখানো নিয়ম মেনে রাতে যতক্ষণ পড়তে পারো ততক্ষণ পড়বে। এ ছাড়া যদি কম পড়ো রাতে তাহলে ২-৩ ঘন্টা পড়াই ভালো অথবা ৪ ঘন্টা। ১০টা পর্যন্ত পড়া ভালো। সর্বোচ্চ ১১টা পর্যন্ত। পরে ঘুমিয়ে গেলে ভোরে উঠে পড়লে অনেক কাজে আসবে এই পড়া। তাই রাতে কম পড়ে ভোরে পড়াই ভালো। ভোরের ১ ঘন্টা পড়া সমান সারাদিনের ৪ ঘন্টা পড়া। তাই ভোরে পড়া সবচেয়ে ভালো।
১৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন
অনেকেই দেখা যায় দিন রাত পড়াশোনা করে ১৮ ঘন্টাও পড়াশোনা করে। এর জন্য শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা লাগবে। তোমাকে ভালো ভালো নিয়মিত খাবার খেতে হবে। এরপর নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। শরীরে দুর্বলতা আসে এমন কাজ করা যাবে না। ছেলে হলে বুঝতেই পারো এমন খারাপ কাজও করা যাবে না। এতে করে মানসিক চাপ পরে ও শারীরিক দুর্বলতা আসে। ১৮ ঘন্টা পড়লে শরীরের অনেক শক্তি ও পরিশ্রম লাগে।
শুরুতেই ১৮ ঘন্টা পড়া যায় না। প্রথমে ১ ২ সপ্তাহ নিয়মিত ১০ ঘন্টা পড়াশোনা করা। পরে এক মাস ১২/১৩ ঘন্টা পড়া। এরপর একমাস ১৫/১৬ ঘন্টা পড়া। এরপর থেকে ১৭/১৮ ঘন্টা পড়া। ৫ ঘন্টা ঘুম ও ১ ঘন্টা সব কাজ। এভাবেই ১৮ ঘন্টা পড়া যায়। এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে ১৮ ঘন্টা পড়ার রুটিন হলো:
- ভোর ৫টা থেকে ৮টা কঠিন বিষয়
- ৮টা থেকে ৯টা নাস্তা ও বিশ্রাম
- ৯টা থেকে ১২টা অনুশীলন ও লিখিত পড়া
- ১২টা থেকে ১টা বিরতি
- ১টা থেকে ৩টা হালকা বিষয়
- ৩টা থেকে ৪টা বিশ্রাম
- ৪টা থেকে ৭টা মডেল টেস্ট বা সৃজনশীল অনুশীলন
- ৭টা থেকে ৮টা রাতের খাবার
- ৮টা থেকে ১১টা রিভিশন
- ১১টা থেকে ১২টা ভুলগুলো ঠিক করা
পরীক্ষার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেব
পরীক্ষার আগে সবাই ভাবে যে কীভাবে সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়। পরীক্ষার আগে আগেই বেশির ভাগ স্টুডেন্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। এ নিয়ে আমরা অনেকগুলো টিপস সম্পর্কে জেনেছি। এছাড়াও আরও কিছু টিপ রয়েছে। যেমন:
- টার্গেট ঠিক করা
- সম্পূর্ণ সিলেবাস ভাগ করা
- দৈনিক পড়ার পরিকল্পনা করা
- কঠিন বিষয় আগে শুরু করা
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়া
- ছোট ছোট টপিক শেষ করা
- পড়ার সাথে সাথে নোট বানানো
- প্রতি সপ্তাহে রিভিশন রাখা
- পুরোনো প্রশ্ন সমাধান করা
- সময় ধরে মডেল টেস্ট দেওয়া
- ভুলগুলো চিহ্নিত করা
- ভুল অংশ আবার পড়া
- মূল সূত্র আলাদা করে লেখা
- গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা মুখস্থ করা
- লিখে লিখে অনুশীলন করা
- প্রতিদিন অন্তত একবার রিভিশন
- মোবাইল ব্যবহার কমানো
- সোশ্যাল মিডিয়া সীমিত রাখা
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- সকালে কঠিন বিষয় পড়া
- রাতে হালকা রিভিশন
- সুষম খাবার খাওয়া
- পানি বেশি পান করা
- মানসিক চাপ কম রাখা
- প্রতিদিন অল্প অল্প এগোনো
- অপ্রয়োজনীয় চিন্তা বাদ দেওয়া
- নিজেকে নিয়মিত যাচাই করা
- সময় ব্যবস্থাপনা শেখা
- একদিন পুরো সিলেবাস ঝালাই
- শেষ সপ্তাহ শুধু রিভিশন
- পরীক্ষার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
পরীক্ষার আগের রাতে করণীয় কি কি
পরীক্ষার আগের রাতে কী কী করণীয় এই প্রশ্নটি আমাদের সবার মনে আসে। সঠিকভাবে এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষার দিন আর টেনশন থাকে না। আপনি যদি আগের দিন রাতে ভালো করে পড়াশোনা করেন এবং প্রস্তুতি নেন তাহলে আপনি একটা ভালো পরীক্ষা দিতে পারবেন। নিচে কিছু সহজ টিপস দেওয়া হলোঃ
আরও পড়ুন: পড়াশোনা সহজে করার কার্যকরী টিপস
- পরীক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নিনঃ পরীক্ষার আগের রাতে বই, কলম, রুলারসহ দরকারি জিনিস এক জায়গায় রাখুন। এতে সকালে তাড়াহুড়ো হবে না।
- আগের দিনের পড়া একটু রিভিশন করুনঃ নতুন কিছু না পড়ে শুধু পুরনো জিনিসগুলো একবার দেখে নিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
- শরীর-মন ভালো রাখতে ঘুমানঃ রাত জেগে পড়লে শরীর খারাপ হতে পারে। অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমান যেন মস্তিষ্ক সতেজ থাকে।
- হালকা খাবার খানঃ রাতের খাবারে বেশি ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেলে ঘুম ভালো হবে।
- মোবাইল-টিভি থেকে দূরে থাকুনঃ রাতে বেশি সময় মোবাইল বা টিভি দেখলে মন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
- নিজেকে সাহস দিনঃ মনে রাখবেন, আপনি যা পড়েছেন, তা যথেষ্ট। একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, আমি পারব।
পরীক্ষার রাতে এমন কিছু কাজ এড়িয়ে চলা উচিত যা মনোযোগ নষ্ট করে। এসব ছোট ছোট অভ্যাস পরীক্ষার দিন বড় ফলাফল দিতে পারে। তাই মনে রাখবেন, পরীক্ষার আগের রাতে আপনাকে সঠিক কাজ গুলো করতে হবে। এই পোস্টে এমন আরও টিপস নিয়ে আমরা বিস্তারিত জানব।
না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
আপনার মাথায় একটা প্রশ্ন সবসময়ই আসে যে কিভাবে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায়। এখন আমরা আপনাকে এর সকল টিপস সম্পর্কে তো অবশ্যই জানাব। সাথে আপনাকে আরও কিছু কাজ করতে হবে। কারণ পরীক্ষার হলে বসে আপনাকে নকল করা আমরা শিখাব না। তাই আমরা কিছু টিপস দিব যা মেনে চললেই আপনি কম পড়ে পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন।
আসলে পুরোপুরি না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, কম পড়ে, স্মার্টভাবে চিন্তা করে ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে, কিন্তু ফলাফল এতো ভালো হয় না। আবার কেউ কেউ অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পড়ে ও বুঝে ভালো রেজাল্ট করে। এর জন্য রয়েছে অনেক টিপস। যেমন: ভালো ঘুম এবং সাথে হালকা পাতলা পড়া এবং পড়ার মাঝে মাঝে ব্রেক নেওয়া। এমন অনেক টিপস আছে।
আপনাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন বুঝে শিখতে হবে। কিন্তু আপনার তো পড়ার সময় কম তাই আপনি শুধু একটা প্রশ্নের মূল যেই লাইন আছে ঐটা শিখবেন এবং পরে এর উপর ভিত্তি করে বানিয়ে লেখা শুরু করবেন। তবে উল্টাপাল্টা বানিয়ে লেখলেই তো আর হবে না। তার জন্য বানিয়ে লেখার কিছু স্কিল দরকার হবে। এ নিয়ে পোস্টের নিচে সম্পূর্ণ বর্ণনা করা হয়েছে।
এরপর আপনার উচিৎ আগের বার বা আগের বছর কি কি প্রশ্ন এসেছে এগুলো হালকা পাতলা পড়া। আপনার নিজ ইচ্ছায় যেগুলো মনে হবে এগুলো দাগিয়ে রাখবেন এবং টিপস মেনে শিখবেন তারপর বানিয়ে লেখবেন। আপনি যেহেতু কম পড়ছেন সেহেতু নাম্বারও তুলনা মূলক ভাবে কম হবে। আর আমাদের নিয়ম মেনে বেশি পড়লে আপনার পরীক্ষা অবশ্যই ভালো হবে।
এরপর ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে হবে। আপনি একটি ট্রিকস কাজে লাগাতে পারেন। আপনি একটা পড়া পড়ার সময় চুইংগাম চাবালেন তারপর পরীক্ষাতে একই ফ্লেভারের চুইংগাম চাবালেন। এতে করে আপনার ঐ পড়া মনে পড়বে। এছাড়াও পরীক্ষার হলে পানি রাখবেন সাথে। আর না পারলে কারো সাহায্য তো নেবেনই। কিন্তু আপনার ব্রেইন অবশ্যই খাটাতে হবে। প্রশ্ন বেশি কঠিন হলে আপনি শুধু পাস করার চিন্তা করবেন। নাহলে বেশি চিন্তা করলে শেষে দেখা যাবে কিছুই হবে না।
পড়া মনে রাখার শক্তি বাড়ানোর উপায়
পড়া মনে রাখার অনেক টিপস রয়েছে। এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি জানার আগে আমাদের পড়া মনে রাখার কৌশল জানতে হবে। কারণ পড়া মনে থাকলেই বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করা যাবে। এর অনেক টিপস আছে। যেমন:
- জোরে জোরে পড়ে শোনানো
- নিজে নিজে বুঝিয়ে বলা
- ছোট নোট তৈরি করা
- মূল পয়েন্ট দাগানো
- পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রিভিশন
- এক দিনের মধ্যে আবার দেখা
- কঠিন অংশ আলাদা করা
- চার্ট বা ডায়াগ্রাম আঁকা
- রঙিন কলম ব্যবহার
- প্রশ্ন তৈরি করে পড়া
- বন্ধুদের শেখানো
- মাইন্ড ম্যাপ বানানো
- পড়ার সময় মোবাইল দূরে রাখা
- নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়া
- ৫০ মিনিট পড়া ১০ মিনিট বিরতি
- প্রতিদিন একই সময়ে পড়া
- শান্ত পরিবেশে পড়া
- ছোট ছোট অংশে ভাগ করা
- গল্পের মতো কল্পনা করা
- উদাহরণ মিলিয়ে শেখা
- লিখে লিখে অনুশীলন
- আগের বছরের প্রশ্ন দেখা
- সকালে রিভিশন করা
- ঘুমের আগে হালকা দেখা
- কঠিন বিষয় সকালে পড়া
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- পানি বেশি পান করা
- স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
- ইতিবাচক চিন্তা রাখা
- নিজের উপর বিশ্বাস রাখা
- লক্ষ্য ঠিক করে পড়া
- অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়া
- ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া
- একই বিষয় বারবার অনুশীলন
- পড়ার পরে নিজেকে পরীক্ষা করা
পরিশেষে আমার মতামত
আশা করি আপনি এই পোস্ট থেকে এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। এই নোস্টে অনেক উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আপনাকে অনেকগুলো রুটিনও দিয়েছি। আমি এভাবেই পড়াশোনা করেছি। তো এটি কাজে লাগবেই। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।


ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url