পরীক্ষায় নাম্বার বাড়ানোর জন্য খাতায় লেখার সঠিক কৌশল
এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার উপায়আপনি কি জানেন পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম কি বা কীভাবে পরীক্ষায় সুন্দর করে সাজিয়ে লেখতে হয়? তবে আজকে আমরা আপনাকে এ নিয়ে বিস্তারিত জানাব। পরীক্ষায় সুন্দর করে লেখার উপায় নিয়ে এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এই পোস্টে আমরা পরীক্ষায় লেখার নিয়ম কানুন নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু জানব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। পোস্ট সূচিপত্র: পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম
- বোর্ড পরীক্ষার খাতা লেখার নিয়ম
- বাংলা লেখার নিয়ম
- ইংরেজি লেখার নিয়ম
- অংক লেখার নিয়ম
- বিজ্ঞান ও সমাজ লেখার নিয়ম
- সাইন্স এর সাবজেক্ট লেখার নিয়ম
- সৃজনশীলতার সাথে লেখার নিয়ম
- এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি
- পরিশেষে আমার মতামত
পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম
পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ পরীক্ষার খাতায় লেখার ধরনের উপর নির্ভর করে নাম্বার পাওয়া যায়। পরীক্ষা সম্পর্কে এই পোস্টে অনেক লিংক দেওয়া হয়েছে আপনি এখান থেকে সবকিছু বিস্তারিত জানতে পারেন। যাইহোক পরীক্ষায় সুন্দর করে লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আরও পড়ুন: বোর্ড পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট কযার উপায়
প্রথমেই আপনাকে সময় ভাগ করে নিতে হবে। সাধারণত পরীক্ষার সময় থাকে ৩ ঘন্টা। এখন আপনার সৃজনশীল থাকলে আপনি সময় ভাগ ভাগ করে লেখবেন। বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষার ধরন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সাধারণত এই প্রশ্নটা ৬ষ্ঠ থেকে এসএসসি পর্যন্ত থাকে যে পরীক্ষায় কীভাবে লেখতে হয়। তো এই পোস্ট তাদেরকেই বিশেষ লক্ষ করে লেখা হবে।
বাংলা পরীক্ষার জন্য এক ভাবে লেখতে সমাজ বা ধর্ম পরীক্ষার জন্য একভাবে লেখতে হয়। অংক করতে হয় একভাবে আবার সাইন্সের বিষয় গুলো অন্য ভাবে লৃখতে হয়। কোন সাবজেক্ট কীভাবে কোন ধরনে লেখলে বেশি নাম্বার পাওয়া যাবে এই পোস্টে এ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সূচিপত্র থেকে আপনি দেখতে পারেন এবং ক্লিক করে সেই জায়গাটি পড়তে পারেন। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
বোর্ড পরীক্ষার খাতা লেখার নিয়ম
বোর্ড পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ বোর্ড পরীক্ষার উপরেই অনেকটা নির্বর করে আমাদের জীবন কেমন হবে। যাইহোক বোর্ড পরীক্ষার খাতা কে দেখবে তাও আমরা জানি না। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষার খাতায় লেখার কিছু টেকনিক আছে। এই টেকনিক গুলো মেনে লেখলে যেই আপনার খাতা দেখুক খুশি হয়ে নাম্বার দিবেই। এমন কিছু টেকনিক হলো:
- পরিষ্কার ও স্পষ্ট হাতের লেখা: অস্পষ্ট লেখা হলে পরীক্ষক বুঝতে সমস্যা হয় এবং নম্বর কমে যেতে পারে। তাই ধীরে কিন্তু পরিষ্কার করে লিখতে হবে। তার জন্য আগে থেকেই হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ শিক্ষক হাতের লেখার উপর নাম্বার দিয়ে দেয়।
- প্রশ্ন নম্বর ঠিকভাবে দেওয়া: প্রতিটি উত্তরের আগে সঠিক প্রশ্ন নম্বর লিখতে হবে। ভুল নম্বর দিলে উত্তর ঠিক হলেও নম্বর কমে যেতে পারে। আর ১ নং প্রশ্নের উত্তর লিখে নিচে দুইটা টান দেওয়াই ভালো। অনেকে রঙিন কলম ব্যবহার করে। এখন রঙিন কলম অনেকে পছন্দ করে আবার অনেকে পছন্দ করে না। এখন কোন শিক্ষক তোমার খাতা দেখবে তা তুমি জানো না তাই কালার পেন ব্যবহার না করাই ভালো। আর ডিজাইন করার দরকার নেই। ডিজাইনের জাগায় এক দুই লাইন বেশি লেখো এতে ভোনাস নাম্বার। ডিজাইনে নাম্বার নেই। বিশেষ করে লাল ও গোলাপি রঙিন কলম ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না।
- মার্জিন ব্যবহার করা: খাতার বাম পাশে মার্জিন রেখে লিখলে খাতা দেখতে সুন্দর লাগে এবং পরীক্ষক নাম্বার দিতে সুবিধা পায়। এছাড়াও এক স্কেল উপরে ও বামে স্কেল করবে। এর চেয়ে বেশিও না কমও না।
- পয়েন্ট আকারে লেখা: যেখানে সম্ভব উত্তর পয়েন্ট আকারে লিখলে পরীক্ষক সহজে বুঝতে পারেন এবং উত্তর গোছানো দেখায়। এতে কম লেখাতে পৃষ্ঠা ভরে ও সুন্দর দেখায়।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আন্ডারলাইন করা: মূল শব্দ বা সংজ্ঞা আন্ডারলাইন করলে উত্তর আকর্ষণীয় হয় এবং পরীক্ষকের চোখে পড়ে।
- অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি না করা: ভুল হলে এক দাগ দিয়ে কাটতে হবে। বেশি কাটাকাটি খাতা অগোছালো দেখায়।
- প্রশ্ন বুঝে উত্তর লেখা: প্রশ্ন ভালোভাবে না বুঝে লিখলে উত্তর ভুল হতে পারে। আগে প্রশ্ন বুঝে তারপর লেখা শুরু করা উচিত।
- সময় ভাগ করে লেখা: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখতে হবে যাতে সব প্রশ্ন শেষ করা যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
- চিত্র বা ডায়াগ্রাম পরিষ্কার আঁকা: বিজ্ঞান বা ভূগোলের ক্ষেত্রে চিত্র থাকলে পরিষ্কার ও লেবেলসহ আঁকতে হবে।
- শেষে রিভিশন করা: খাতা জমা দেওয়ার আগে অন্তত ৫ মিনিট সময় রেখে ভুল বানান, প্রশ্ন নম্বর ও অসম্পূর্ণ উত্তর দেখে নেওয়া দরকার। তবে রিভিশন দেওয়া সময় থাকে না। তাই সাবধানে লেখা ও শেষে ২-৩ মিনিট রিভিশনের জন্য রাখা।
বাংলা লেখার নিয়ম
বাংলা মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি বাংলা ১ম ও একটি বাংলা ২য়। বাংলা পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম অনেক বেশি। কারণ বাংলা খাতা একটু সুন্দর করে গুছিয়ে লেখতে হয় প্রথমে বাংলা ১ম এর সৃজনশীল এবং পরে বাংলা ২য় এর সৃজনশীল সম্পর্কে জানব। বাংলা ১ম থেকে চলুন শুরু করা যাক।
বাংলা ১ম খাতায় প্রথমে ৩০টি MCQ থাকে। আপনি আপনার বুদ্ধি দিয়ে তা শেষ করবেন। আর বাকি থাকবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এর মাঝে ১০ মিনিট এক্সট্রা টাইম ধরে রাখবেন। আর থাকে ১৪০ মিনিট। যার মাঝে ৭টা সৃজনশীল বা ৫টা সৃজনশীল এবং ২টা নাটক গল্প। যাইহোক ৭টা বিষয়। ৭টার জন্য ২০ মিনিট করে সময় দিবেন। আর যদি শেষে একটু সময় বেশি থাকে তবে শেষের প্রশ্ন বড় করবেন। আর সকল প্রশ্ন সমান ভাবে লেখবেন। এখন আপনি যদি প্রথম দুইটা সৃজনশীল বড় করে লেখেন পরের গুলো ছোট থাকলে শিক্ষক প্রথম দুইটার তুলনায় পরের গুলোতে নাম্বার কম দিবে।
তাই সব সৃজনশীল সমান লেখায় ভালো। প্রথম সৃজনশীল ভুলেও ২৫/৩০ মিনিট সময় দেওয়া যাবে না। এতে শেষের সৃজনশীল খারাপ হয়। যাইহোক ১০ মিনিট যা বেঁচে থাকবে এর মাঝে ৪/৫ মিনিট আপনি সৃজনশীল দাগাবেন যে কোনগুলো লেখবেন। পরীক্ষার মাঝখানে খুজা শুরু করবেন না যে কোনটা রেখে কোনটা লেখবেন। ক প্রশ্ন ১ বা ২ মিনিট। যদি ২ মিনিট সময় নেন তাহলে খ ৩ মিনিট লেখবেন। অর্থাৎ ক ও খ ৫ মিনিটে শেষ করবেন।
এরপর উদ্দীপক ভালো ভাবে পড়বেন ১ মিনিট। তারপর গ লেখবেন নতুন পৃষ্ঠা থেকে। গ তে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। দেড় পৃষ্ঠার মতো লেখবেন। এরপর যতটুকুই লিখেন ঘ আবার নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করবেন। এটিও ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। আর এভাবে লেখলে আপনার হাতের লেখা অনেক অনেক স্প্রিড লাগবে। এর জন্য পরীক্ষার আখে অনেক অনুশীলন করতে হবে। ঘ লেখবেন প্রায় ২ পৃষ্ঠা। কিন্তু সময় ধরে লেখবেন। ২ পৃষ্ঠা লেখতে গিয়ে ২৫ মিনিট লাগাবেন না। ২০ মিনিটে যতটুকু লেখা যায়। না লেখতে পারলে তাও বাদ দিবেন।
বাংলা ২য় তে প্রথমে MCQ শেষ ঈরবেন। এখানে সাধারণত ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ, চিঠি বা এমন, অনুবাদ, অনুচ্ছেদ, রচনা। এখন ভাবসম্প্রসারণ ৩ বা সাড়ে তিন পৃষ্ঠা লেখবেন ২০ মিনিটে। সারাংশ বা সারমর্ম লেখবে ৪/৫ লাইন ৫ মিনিটে। অনুবাদ ৫ মিনিট। চিঠি ২ পৃষ্ঠা ১২-১৫ মিনিট, দরখাস্ত এক পৃষ্ঠা। প্রতিবেদন থাকলে ২ পৃষ্ঠা এই সময়ের মাঝেই। অনুচ্ছেদ ৩/৩.৫ পৃষ্ঠা ২০ মিনিট। বাকি দেড় ঘন্টা বা এমন সময় রচনা লিখবেন। ২০ পৃষ্ঠা লেখতে পারলে ভালো।
ইংরেজি লেখার নিয়ম
ইংরেজিও ২ ধরনের ইংরেজি ২য় ও ১ম। যাইহোক প্রথমে আপনি প্রশ্ন MCQ ফাকা ঘর এমন যা যা আছে সব শেষ করবেন ২ ঘন্টাতে। শেষ ১ ঘন্টা রাইটিং পার্ট। ডায়ালগ ৩০ মিনিট ৬ পৃষ্ঠা এবং কমপ্লেটিং স্টরি ৫/৬ পৃষ্ঠা ৩০ মিনিট। যাইহোক এটা গেলো ইংরেজি ১ম এর ক্ষেত্রে। আপনি আপনার সুবিধা মতো প্রত্যেকটা নং এর জন্য সময় ভাগ করে নিবেন।
ইংরেজি ২য় তে ঠিক এভাবেই সময় ভাগ করে নিবেন। এবং শেষে দেড় বা ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় বাচিয়ে রাখবেন। প্যারাগ্রাফ ২০ মিনিট লেটার ১০ মিনিট। এবং শেষে Composition ১ ঘন্টা বা ৫০ মিনিটে শেষ করবেন। এগুলোর সময় ভাগ করে নিবেন। ইংরেজি ভাগ করে দেই নি কারণ একেক জনের একেক ভাবে সুবিধা হয়। তাই নিজ থেকে সময় ভাগ করে নেওয়াই ভালো।
অংক লেখার নিয়ম
অংক অনেক সহজ আবার অনেকের কাছে কঠিন। অংক পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম এতো বেশি না। অংক খাতায় প্রথমে mcq পরে সব বাদ দিয়ে ১৪০ মিনিট থাকে। যা আমরা বাংলা লেখার নিয়মে দেখেছি। এর মাঝে ৭/৫ টা সৃজনশীলে প্রতিটিতে ২০ মিনিট করে। ক লেখবেন ৩/৪ মিনিটে খ লেখবেন ৭/৮ মিনিটে ঘ লেখবেন বাকি যতটুকু সময় বাচে। আবার অনেক অংক আছে সময় কম লাগে আবার অনেক গুলোতে সময় বেশি লাগে।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার উপায়
তাই যেগুলো সময় কম লাগবে এবং আপনার কাছে সহজ ঐগুলো আগে লেখবেন। সিরিয়ালে সৃজনশীল করতে হবে বিষয় টা এমন না। কঠিন সৃজনশীল আগে নিলে প্যানিক হতে পারেন। এতে পুরা পরীক্ষায় খারাপ হবে। তাই সহজ গুলো আগে লিখে নিন। যদি সংক্ষিপ্ত থাকে তবে সংক্ষিপ্ত সবগুলো ৪ মিনিট করে লিখুন। দেখবেন এভাবে গড়ে সময় ভাগ ভাগ করে সহজ থেকে কঠিন অংক করলে আপনার পরীক্ষা ভালো হবে।
বিজ্ঞান ও সমাজ লেখার নিয়ম
বিজ্ঞান খাতা লেখলে একটু চিত্র একে সুন্দর করে সাজিয়ে খাতা দিলে ভালো হয়। এবং সমাজ খাতায় ঠিক বাংলা খাতার মতো। তবে সংক্ষিপ্ত থাকায় সুবিধা হয় অনেক। সংক্ষিপ্ত শেষে বা আগে লেখলে সৃজনশীলের জন্য কিছু সময় এক্সট্রা বাঁচে। আগে এই সুবিধা ছিল না এখন এই সুবিধা পাওয়া গেছে।
সমাজ বা বিজ্ঞান বা ধর্ম খাতায় প্রথমে ৩০টি MCQ থাকে। আপনি আপনার বুদ্ধি দিয়ে তা শেষ করবেন। আর বাকি থাকবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এর মাঝে ১০ মিনিট এক্সট্রা টাইম ধরে রাখবেন। আর থাকে ১৪০ মিনিট। যার মাঝে ৭টা সৃজনশীল বা ৫টা সৃজনশীল এবং সংক্ষিপ্ত। যাইহোক ৫টা বিষয়। ৫টার জন্য ২০ মিনিট করে সময় দিবেন এবং সংক্ষিপ্ত তে ৩০-৪০ মিনিট দিলেই হয়। আর যদি শেষে একটু সময় বেশি থাকে তবে শেষের প্রশ্ন বড় করবেন। আর সকল প্রশ্ন সমান ভাবে লেখবেন। এখন আপনি যদি প্রথম দুইটা সৃজনশীল বড় করে লেখেন পরের গুলো ছোট থাকলে শিক্ষক প্রথম দুইটার তুলনায় পরের গুলোতে নাম্বার কম দিবে।
তাই সব সৃজনশীল সমান লেখায় ভালো। প্রথম সৃজনশীল ভুলেও ২৫/৩০ মিনিট সময় দেওয়া যাবে না। এতে শেষের সৃজনশীল খারাপ হয়। যাইহোক ১০ মিনিট যা বেঁচে থাকবে এর মাঝে ৪/৫ মিনিট আপনি সৃজনশীল দাগাবেন যে কোনগুলো লেখবেন। পরীক্ষার মাঝখানে খুজা শুরু করবেন না যে কোনটা রেখে কোনটা লেখবেন। ক প্রশ্ন ১ বা ২ মিনিট। যদি ২ মিনিট সময় নেন তাহলে খ ৩ মিনিট লেখবেন। অর্থাৎ ক ও খ ৫ মিনিটে শেষ করবেন।
এরপর উদ্দীপক ভালো ভাবে পড়বেন ১ মিনিট। তারপর গ লেখবেন নতুন পৃষ্ঠা থেকে। গ তে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। দেড় পৃষ্ঠার মতো লেখবেন। এরপর যতটুকুই লিখেন ঘ আবার নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করবেন। এটিও ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। আর এভাবে লেখলে আপনার হাতের লেখা অনেক অনেক স্প্রিড লাগবে। এর জন্য পরীক্ষার আখে অনেক অনুশীলন করতে হবে। ঘ লেখবেন প্রায় ২ পৃষ্ঠা। কিন্তু সময় ধরে লেখবেন। ২ পৃষ্ঠা লেখতে গিয়ে ২৫ মিনিট লাগাবেন না। ২০ মিনিটে যতটুকু লেখা যায়। না লেখতে পারলে তাও বাদ দিবেন।
সাইন্স এর সাবজেক্ট লেখার নিয়ম
সাইন্স এর সাবজেক্ট মূলত পাঁচটি। পদার্থ, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। এর মাঝে উচ্চতর গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গণিত ও সমাজ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম এর মাঝে আমরা উপরে ব্যাখ্যা করেছি। বাকি রয়লো পদার্থ জীববিজ্ঞান ও রসায়ন। এগুলোর MCQ ২৫ মিনিটে শেষ হয়।
পরবর্তী তে ৪ টি সৃজনশীল এবং সংক্ষিপ্ত ৫টি। মোট ৫০ নাম্বার। ৫টি সংক্ষিপ্ত ২০ মিনিটে শেষ করে দেওয়াই ভালো। সব বাদ দিয়ে সময় থাকে ১২০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতি সৃজনশীলের জন্য ৩০ মিনিট থাকে। জীববিজ্ঞানে চিত্র না চাইলেও প্রত্যেকটা সৃজনশীল বা প্রশ্নে চিত্র একে দিতে হবে। আন লিমিটেড লেখা যাবে মন মতো চিত্র এঁকে শেষ করবে।
পদার্থ ও রসায়নে যুক্তি দিয়ে লেখতে হবে। তাই যতটুকু চাইবে ততটুকু দিলেই ফুল মার্কস। এতে কোনো সমস্যা হয় না। প্রথম প্রথম কঠিন লাগলেও শেষে গিয়ে সহজ লাগে। এগুলো অন্যান্য জায়গা বা আমাদের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পোস্ট থেকে জানতে পারেন। তো এভাবেই সাইন্সের সাবজেক্ট পরীক্ষাতে লেখতে হয়।
সৃজনশীলতার সাথে লেখার নিয়ম
আপনি যদি নিজে সৃজনশীলতার সাথে লেখেন তবে আপনার পরীক্ষা আরও ভালো হবে। পরীক্ষার হলে সমাজ বাংলা বা যেই ধরনের প্রশ্ন থাক। যদি বেসিক জিনিস টা জানা থাকে তাহলে আপনি মন মতো বানিয়ে লেখতে পারবেন। তবে অপ্রাসঙ্গিক বা উল্টাপাল্টা কিছু লেখা যাবে না। সুন্দর করে সাজিয়ে লেখবেন। সৃজনশীল প্রশ্ন মানেই নিজের বানিয়ে লেখা কোনো মুখস্তের বিষয় না। হুবহু গাইড মুখস্ত লেখা ভালো না। এরপর শুরু ও শেষ ভালো করে লেখতে হবে। তবেই ফুল নাম্বার পাওয়া যাবে।
এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগে আমাদের একটা রুটিন করা উচিৎ এবং পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম গুলো অনুশীলন করা উচিৎ। এই রুটিন অনুযায়ী যদি আমরা একমাস পড়াশোনা করি তবে আমাদের পরীক্ষা অনেক ভালো হবে। এক মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি। এই এক মাস না খেয়ে পড়াও ভালো। যদি বোর্ড পরীক্ষা হয় তবে না খেয়ে পড়াও ভালো হবে।
পরীক্ষার একমাসে তুমি ভালো করে পড়াশোনা করবে। ধরো তোমার এই সময় টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তোমার দিনে ১২-১৪ ঘন্টা পড়াশোনা করা উচিৎ। সব কিছু ছেড়ে দাও ত্যাগ করে দাও। তোমার জীবনের লক্ষ যদি পড়াশোনা হয় তবে এভাবেই। করো কিন্তু তুমি যদি সারা বছর না পড়ো তবে তোমার অনেক চাপ হবে এই মাসে। তাই বিভিন্ন টিপস নিয়ে পড়তে হবে। এই টিপস গুলো সূচিপত্র থেকে দেখে ক্লিক করে শিখে নিতে পারো। এছাড়াও কিছু টিপস হলো: - প্রথম ৭ দিন পুরো সিলেবাস ঝালাই করতে হবে
- গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করতে হবে
- বোর্ড প্রশ্ন চর্চা করতে হবে
- প্রতিদিন অন্তত একটি বিষয়ের পূর্ণ রিভিশন দিতে হবে
- সহজ অধ্যায় আগে শেষ করতে হবে
- লিখে লিখে অনুশীলন শুরু করতে হবে
- মডেল টেস্ট দেওয়া শুরু করতে হবে
- দ্বিতীয় সপ্তাহে সময় ধরে পরীক্ষা অনুশীলন করতে হবে
- ভুলগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখতে হবে
- তৃতীয় সপ্তাহে সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ করতে হবে
- প্রতিদিন আগের পড়া আবার রিভিশন করতে হবে
- শেষ সপ্তাহ শুধু রিভিশন ও অনুশীলনের জন্য রাখতে হবে
- নতুন কিছু না পড়ে পুরোনো পড়া শক্ত করতে হবে
- প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে
তুমি প্রথমে তোমার সিলেবাস শেষ করে নেও। এরপর পরীক্ষার আগের মাসে সবকিছু রিভিশন দাও। তবে যদি তোমার কিছুই পড়া না থাকে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চাও একমাস পরেই তবে এই পোস্টে অনেক টিপস নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
পরিশেষে আমার মতামত
আশা করি আপনি আমাদের এই পোস্ট থেকে পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম গুলো সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। আপনি যদি এই নিয়মে পরীক্ষা দেন তবে আপনার পরীক্ষা অনেক অনেক ভালো হবে। আশা করি আপনার এ নিয়ে একটি ধারণা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url