সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত
পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার উপায় ১০০% গেরান্টিআপনি কি জানতে চান যে সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত? তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। প্রতিটি মা চায় যাতে তার সন্তান ভালো করে পড়াশোনা করে। আর সন্তান পড়াশোনা না করলে মায়েরা চিন্তায় থাকে।
এই পোস্টে আমরা সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত তা নিয়ে জানব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। পোস্ট সূচিপত্র: সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত
- সন্তান কে বুঝানোর টেকনিক
- মা হয়ে আপনি কি করতে পারেন
- বেশিক্ষণ পড়াশোনা করার টেকনিক
- পরিশেষে আমার মতামত
সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত
আপনি কি জানেন সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত? আপনার সন্তান যদি পড়াশোনায় মনোযোগী না হয় তাহলে আপনাকে এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আজকে আমরা একটু গভীরে যাব যে কি করলে আপনার সন্তান পড়াশোনা করবে। মা-বাবা চায় যাতে তার সন্তান সবসময় পড়াশোনার মাঝেই থাকে। আমরা আপনাকে এর জন্য কিছু টেকনিক শিখাব। যেন আপনার সন্তান পড়াশোনার প্রতি addicted হয়ে যায়।
আপনার সন্তান মোবাইল চালায়। মোবাইলে গেম খেলে সারাদিন রিলস দেখে। এখন আপনি যদি তাকে ধমক দেন যে পড়তে বস আর মোবাইল রাখো। এইসব অনেক কিছুই আপনি হয়তো বলেন। কিন্তু না একটু টেকনিক খাটান। আপনার সন্তান যখন মোট তখন থেকেই তার কাছ থেকে এইসব ডিভাইস দূর করুন। হ্যাঁ অবশ্যই তার জ্ঞান লাগবে কিন্তু এখন না আরও পরে যখন সে নিজের টা নিজে বুঝবে তখন সে সব ব্যবহার করুক।
তার সাথে সময় কাটান অনেক বেশি। আপনাকে তার সাথে অনেক অনেক কথা বলতে হবে। যেকোনো কিছুর জ্ঞান তাকে দিতে হবে। ছোট থেকেই তাকে এমন ভাবে treat করুন যে সে সবকিছু সম্পর্কে জানতে চায়বে। সে একটার পর একটা প্রশ্ন করবে। এমন অনেক বাচ্চায় আছে। কিন্তু অনেকে বাচ্চাদের এইসব প্রশ্ন ইগনোর করে। এতে করে সেই বাচ্চার জানার আগ্রহ কমে যায়। আর অন্য কিছুতে addicted হয়ে যায়।
যাইহোক তার যদি জানার আগ্রহ থাকে তাহলে আস্তে আস্তে সে বইয়ের দিকে ফোকাস করবে। বই থেকে সে তার প্রশ্নের সমাধান করবে। হয়তো বোর্ড বইয়ের মাঝে এতো কিছু থাকে না জানার মতো। আমাদের বই গুলো এতো knowledgeable না। তাই তাকে অন্যান্য জ্ঞানের বই কিনে দিন। তার তখন বই পড়তে ভালো লাগবে। সে যদি মোবাইল ব্যবহার করে সেখান থেকেও জ্ঞান নিতে পারবে। আর সাধারণত বর্তমানে সবাই এটাই করে মোবাইল থেকে জ্ঞান নেয়। এতে করে সে জ্ঞান অর্জন করছে কিন্তু তার বই পড়ার অভ্যাস হচ্ছে না।
তাই তাকে বই দিন যাতে সে সেখান থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। class 5 পর্যন্ত বা 6/7 পর্যন্ত এতো পড়াশোনা নেয়। তাকে এই সময় টাতে সাধারণ জ্ঞান নিতে হবে। আর অভ্যাস করতে হবে। এরপর যখন মোটামুটি বড় হবে তখন সে বুঝবে তার বোর্ড বইয়ের জ্ঞান লাগবে তখন তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকবে আর পড়াশোনা করবে।
এখন আপনার সন্তান বড় হয়ে গিয়েছে ধরুন ৮-১৫ বছর হয়ে গেছে এখনো সে পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। এখন আপনাকে কি করতে হবে? এখন তো আর সে বাচ্চা না যে তার সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন বা সে পড়াশোনায় আগ্রহী থাকবে। এ নিয়ে এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
সন্তান কে বুঝানোর টেকনিক
আমরা আগের ধাপে সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত এ সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি। কিন্তু শেষে একটি প্রশ্ন রেখে দিয়েছি যে সন্তান বড় হয়ে গেলে কি কি করা যাবে। তখন আপনার সন্তানকে বুঝানো উচিৎ। আপনার এর জন্য কিছু টেকনিক লাগবে। আপনি সন্তানকে ধমকালেই সবকিছুর সমাধান হবে না।
প্রথমেই আপনাকে সন্তান নিয়ে প্রতিদিন ২/৩ ঘন্টা আড্ডা দিতে হবে। এখন হতে পারে আপনার কাছে সেই সময়টুকু নেয়। কিন্তু আপনি যদি সন্তান মানুষ করতে চান আপনাকে ঐ সময় টুকু বের করতে হবে। আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু তাকে দিতে হবে। আপনি তার সাথে মন খুলে আলোচনা করুন।
আপনার মাঝে যেই আবেগ টুকু আছে আপনি তা নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার স্বপ্ন কি আপনি আপনার সন্তানকে কি বানাতে চান কেন হতে হবে এই সবকিছু। তার মাঝে একটা বড় দায়িত্ব দিয়ে দিন যে সে যদি পড়াশোনা করে ভালো কিছু হয় তবে সবাই সুখে থাকবে। তার মাঝে মূলত স্বপ্ন দিন। তাকে নিয়ে ঘুরবেন আর তার মাঝে স্বপ্ন দিবেন আপনার আবেগ প্রকাশ করবেন।
এরপর শেষের কিছু প্রশ্ন করবেন তাকে বা তার মাঝে আলাদা জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাকে গল্প শুনাবেন। সে বড় হয়ে গেলেও তার সাথে এটাই করতে হবে। যখন আলোচনা করবেন তখন তার কাছে যাতে কোনো ডিভাইস না থাকে। আপনিই ভালো জানেন কি কি নিয়ে আপনার সন্তানের সাথে এই কথাগুলো বললে আপনার সন্তানকে ভালো পথে আনতে পারবেন।
বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মোবাইল। মোবাইলে গেমে আসক্ত হয়ে গেলেই সমস্যা। আপনার উচিৎ আপনার মোবাইলে যাতে কোনো গেম না থাকে। অর্থাৎ মোবাইলে গেম খেললে মোবাইল নষ্ট হয়ে যাবে বা এমন কিছু। এগুলো বাচ্চারা বুঝবে না কিন্তু আপনার মোবাইলে গেম ধীরে ধীরে সব ডিলিট করে দিন। এরপর বাচ্চা রিলস বা ভিডিও দেখাতে আসক্ত হবে।
রিলস দেখার একটি বড় সমস্যা হচ্ছে আপনার মনোযোগ একটু পরে পরে বদলে যাবে। এক মিনিট একটা ভিডিও ভালো লাগছে পরে আবার আরেকটি ভিডিও দেখবেন তখন ঐটা ভালো লাগবে। এভাবে এক জায়গায় বেশি মন বসে না। আগে নিজে এই জিনিস টি ত্যাগ দিবেন। বাচ্চার সামনে মোবাইল দেখা থেকে দূরে থাকুন বাচ্চাকেও না করুন। তবে বুঝান ধমকানো নয়। যাইহোক এই কাজগুলো করলে মনোযোগ আসবে। পড়ার প্রতি একটা টান আসবে। আর কীভাবে পড়াশোনা করতে হবে এবং পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখা যায় তা নিয়ে এই পোস্টের শেষে জানব।
মা হয়ে আপনি কি করতে পারেন
একজন মা হিসেবে আমাদের দেখানো সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত এগুলো করতে পারলেই আপনি আপনার সন্তান কে ভালো পথে আনতে পারবেন। আপনার মাঝে সবগুলো গুণ থাকতে হবে যা আমরা উপরে আলোচনা করেছি। আপনার সন্তান কে বেশি বেশি সময় দিন।
যখন রান্না বাড়া করছেন তখন বাচ্চাকে পাশে বসিয়ে কথা বলুন। বিরক্ত করলে এটা সহ্য করে নিন। আপনি ত্যাগ করবেন না আবার সাথে এটিও চাবেন যে আপনার সন্তান যাতে ভালো হয় তা হবে না। আপনাকে ত্যাগ করতে হবে ও ধৈর্য্য ধরতে হবে। এরপর নিজের সন্তানের মাঝে মটিভেশন দিন। আগে দেখুন সে কেমন অর্থাৎ তার ধরন কি তার মন মানসিকতা কি। এরপর সব পদক্ষেপ নিন। বেশিক্ষণ পড়াশোনা করার টেকনিক
আমরা এই পোস্টে সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত এ সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি। এখন আমরা আমাদের শেষ ধাপে আসবো। অর্থাৎ আপনি আপনার সন্তানের মনোযোগ প্রথমে আনুন। উপরে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর তাকে পড়তে বসান। পড়তে বসানোর উপরে নিচের উপায় গুলোর ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুন: কিভাবে একজন ভালো ছাত্র হওয়া যায়
- পড়তে বসলে আশেপাশে যাতে কোনো শব্দ বা বেশি আওয়াজ না হয়। সন্তানের যাতে পড়ার মাঝেই মনোযোগ থাকে তা নিশ্চিত করুন।
- আশেপাশে যাতে কোনো রকমের ডিভাইস না থাকে।
- সে প্রতি এক ঘন্টায় ৪৫ মিনিট পড়বে আর ১৫ মিনিট রেস্ট নিবে। সেই ১৫ মিনিট খেলবে বা ঘুরবে বা আপনি সময় দিবেন তাকে।
- এরপর প্রতিদিন বিকেলে তাকে খেলাধুলা করতে দিন।
- ভোর বেলার পড়া অনেক ভালো। আপনি নিজে ভোর বেলা উঠতে পারেন এবং সন্তানকেও এর অভ্যাস করাতে পারেন। অনেক বাচ্চা আর মা বাবাকে দেখা যায় সকাল ৭টা ৮টা বা ১০টার সময় ঘুম থেকে উঠে। এতে করে বাচ্চাও শিখে এই সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে। আপনি যা করবেন বাচ্চাও তাই করবে। তাই নিজে ভোরে উঠুন বাচ্চাকে তুলে পড়তে বসান।
- মাঝে মাঝে মোবাইল বা ডিভাইস চালাতে পারে কিন্তু সারাদিন সর্বোচ্চ এক ঘন্টা এর বেশি নয়।
এখন কিভাবে পড়াশোনা করতে হয়। বা সহজে মনে রাখার টিপস কি বা কখন পড়লে ভালো মুখস্ত হয়। কীভাবে পড়াশোনা করতে হয় এ নিয়ে এই পোস্টে আমরা বিভিন্ন লিংক দিয়েছি। এখান থেকে আপনি সবকিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন। এছাড়াও আমাদের ওয়েবসাইটে শিক্ষা নিয়ে অনেক আলোচনা করা হয়েছে।
পরিশেষে আমার মতামত
এই পোস্টে আমরা সন্তানের পড়াশোনায় মন না বসলে কি করা উচিত এ সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনেছি। আমি একজন মায়ের সন্তান। এবং আমার বয়স অনেক কম। আমি জানি আমার কি দরকার। আমার কোন support টা দরকার তা আমি জানি। আমি চাই প্রতিটা বাবা মা তার সন্তানকে সেই support টুকু যেন দেয়। কারণ আমি জানি প্রতিটা সন্তান কি চায়। সবাই যখন বড় হয় realize করে যে তার কি দরকার হতো। তাই আপনি আপনার সন্তান কে এই support গুলো করুন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url