আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা - ২০০,৫০০ ও ১০০০ শব্দে

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার রচনাআপনি যদি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা শিখতে চান তাহলে আজকের পোস্টটি শুধু আপনার জন‍্য। আমরা আপনাকে একটি রচনা লেখার সহজ টিপস সম্পর্কে জানাব। যাতে আপনি সহজেই আজকের অথবা সব ধরনের রচনা শিখতে পারেন।

আন্তর্জাতিক-মাতৃভাষা-দিবস-রচনা

এই পোস্টের শেষে আমরা আপনাকে সহজে রচনা শিখা ও মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে শিখাব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। [আপনি যদি SSC বা HSC এর জন‍্য বা নবম দশম শ্রেণির জন‍্য রচনা খুজে থাকেন অবশ্যই আপনাকে ২০০/৩০০ শব্দের রচনা শিখলে হবে না]

পোস্ট সূচিপত্র: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা নিয়ে যা যা থাকছে ক্লিক করুন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা ২০০ শব্দে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা ৫০০ শব্দে

ভূমিকা

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আত্মত্যাগ, চেতনা ও জাতিসত্তার প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যে তরুণেরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের স্মরণেই এই দিনটি পালিত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা যে সম্মান অর্জন করেছে, তা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে আবেগ, সংগ্রাম ও প্রেরণার দিন।

মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ছিল দুটি ভৌগোলিক অংশে বিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা, আর পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা ছিল উর্দু। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের হাতে। 
তারা উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা করেন “উর্দু এবং কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” এই ঘোষণায় বাঙালি জাতি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে উপেক্ষা করা ছিল চরম অবিচার। এর ফলেই পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের সূচনা হয় এবং ধীরে ধীরে ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারি

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তমদ্দুন মজলিসসহ বিভিন্ন সংগঠন ভাষার অধিকারের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই আন্দোলন দমাতে গুলি চালায়।
পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগে আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। এই আত্মবলিদান বাঙালির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

শহীদ মিনার ও শ্রদ্ধা নিবেদন

ভাষা শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনার গড়ে ওঠে। এগুলো আজ বাঙালি জাতির অহংকারের প্রতীক।
প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এই নীরব শ্রদ্ধা আমাদের জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এটি এখন শুধু বাঙালির নয়, বরং বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক।

একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য ও শিক্ষা

ভাষা একটি জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শেখায় যে মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে। এই দিনটি ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং সব ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় নিজের ভাষাকে ভালোবাসা মানেই নিজের ইতিহাস ও অস্তিত্বকে রক্ষা করা।

উপসংহার

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির গৌরবময় অধ্যায়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই দিনটি আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এটি আমাদের জাতীয় সাফল্য। মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের এই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য, সাহস ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু স্মরণের দিন নয়, এটি আমাদের চলার পথের প্রেরণা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা এসএসসি ও এইচএসসি

ভূমিকা

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনটি আমাদের কাছে শুধু একটি দিবস নয়, বরং আত্মত্যাগ, চেতনা ও জাতিসত্তার প্রতীক। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যেসব তরুণ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের স্মরণেই একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে খুবই বিরল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা যে মর্যাদা অর্জন করেছে, তা শুধু বাঙালির নয়, আজ তা সারা বিশ্বের গর্ব। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে গভীর আবেগ, শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার দিন।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম ও ভাষা সমস্যার সূচনা

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ছিল ভৌগোলিকভাবে দুটি অংশে বিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। এই দুটি অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় হাজার মাইল। পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল বাংলা, আর পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষের ভাষা ছিল উর্দু। 
জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর হাতে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসকরা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা শুরু করে। বাংলাভাষীদের ভাষাগত অধিকারকে তারা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ভাষা নিয়ে এই বৈষম্যই পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণার প্রতিবাদ

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। তিনি ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন “উর্দু এবং কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” এই ঘোষণায় বাঙালি জাতি গভীরভাবে আহত হয়। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে অস্বীকার করা ছিল চরম অন্যায়।
এই ঘোষণার পরপরই পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারে, ভাষার অধিকার রক্ষা না করতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে মূলত ১৯৪৮ সাল থেকেই। তমদ্দুন মজলিসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যদিও এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবুও তা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে।
ছাত্রসমাজ ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আন্দোলন ধীরে ধীরে সারা পূর্ব পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে। ভাষার প্রশ্নটি তখন আর শুধু ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়।

২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। সরকার ওই সময় ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ছাত্ররা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল বের করে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানায়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই আন্দোলন দমন করতে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। এই আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

ভাষা আন্দোলনের সাফল্য

ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর ভাষা আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। জনগণের প্রবল চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার অবশেষে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্য ও আত্মত্যাগ কোনো অন্যায় সিদ্ধান্তকে পরাজিত করতে পারে। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করে।

শহীদ মিনার ও একুশের স্মৃতি

ভাষা শহীদদের স্মরণে ঢাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনার গড়ে ওঠে। এই শহীদ মিনারগুলো আজ বাঙালি জাতির গর্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এই নীরব শ্রদ্ধা আমাদের জাতীয় চেতনাকে আরও দৃঢ় করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশের সরকারের প্রস্তাবে ইউনেস্কোর কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এটি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য আন্তর্জাতিক সম্মান।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য

ভাষা একটি জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের বাহক। মাতৃভাষার মাধ্যমে একটি জাতি তার চিন্তা, অনুভূতি ও মূল্যবোধ প্রকাশ করে। ইউনেস্কোর মতে, ভাষাগত বৈচিত্র্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের শেখায় যে প্রতিটি ভাষা সমান মর্যাদার দাবিদার। এই দিবস ভাষা বিলুপ্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।

একুশে ফেব্রুয়ারির শিক্ষা

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শেখায় নিজের ভাষাকে ভালোবাসতে এবং সম্মান করতে। এটি শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের এই ইতিহাস শুধু বাঙালির নয়, বরং পৃথিবীর সকল ভাষাভাষী মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণা। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা না করতে পারলে জাতিসত্তা টিকে থাকে না।

মাতৃভাষা বিষয়ক উক্তি 

ভাষা নিয়ে অনেকের অনেক উক্তি রয়েছে। তবে এগুলো শুধু আন্দোলনের জন‍্য নয়। ভাষার প্রতি অনেক টান নিয়ে হয়েছে। যেমন:  
  • “মাতৃভাষা মানুষের আত্মার প্রথম পরিচয়।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • “যে জাতি নিজের ভাষাকে ভালোবাসে না, সে জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।” হুমায়ূন আজাদ
  • “ভাষা মানুষের চিন্তার পোশাক।” স্যামুয়েল জনসন
  • “মানুষের নিজের ভাষায় কথা বললে তা তার হৃদয়ে পৌঁছে যায়।” নেলসন ম্যান্ডেলা
  • “একটি জাতির সংস্কৃতি তার মানুষের হৃদয় ও আত্মায় বাস করে।” মহাত্মা গান্ধী
  • “মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির অস্তিত্বের ভিত্তি।” ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  • “ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান।” ড. আনিসুজ্জামান
  • “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শিখিয়েছে—অধিকার আদায়ে ত্যাগ অপরিহার্য।” ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উক্তি
  • “মাতৃভাষা হারালে একটি জাতি ধীরে ধীরে ইতিহাস থেকে মুছে যায়।” ভাষাবিদদের অভিমত
  • “একুশ মানে মাথা নত না করা।” প্রচলিত সাহিত্যিক উক্তি

উপসংহার

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির গৌরবের দিন। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই দিনটি আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এটি আমাদের জাতীয় সাফল্য। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সচেতনতা বজায় রাখাই হবে একুশের প্রকৃত শিক্ষা। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু স্মরণের দিন নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার দিশা। [১০০০ শব্দ]

রচনা লেখার নিয়ম

রচনা শুধু লেখলেই হবে না বরং নিয়ম অনুযায়ী লেখতে হবে। আমি আপনাকে তুমি বলেই ডাকি যেহেতু আপনি একজন ছাত্র বা ছাত্রী। তুমি যদি একটা ভালো রেজাল্ট করতে চাও বা রচনাতে বিশে বিশ বা বারোতে বারো পেতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে নিয়ম মানতে হবে। আমরা এখানে শেষে যেই রচনা দিয়েছি তাতে একটু বেশিই শব্দ দিয়েছি। তোমার উচিৎ তিন চার বার রিডিং পড়া এবং দুই তিন বার লেখা এতে করে তোমার সহজেই শিখা হয়ে যাবে। 
তুমি অনেক পরিশ্রম করেও রচনা মুখস্ত করতে পারবে না। পারলেও অনেক পরিশ্রম আর সময় লাগবে। তার চেয়ে ভালো তুমি সৃজনশীলতার পরিচয় দাও। তাই আমরা বেশি শব্দেই লিখেছি। কারণ তুমি যতটুকু শিখবে ততটুকু মনে থাকবে না। তিন ভাগের দুই ভাগ মনে থাকতে পারে। তাহলে সেই দুই ভাগে তোমার প্রয়োজনীয় লেখা বা খাতা ভরে যাবে। রচনা তুমি তোমার ইচ্ছা মতো লেখতে পারবে। সুন্দর লেখার সাথে কিছু মেইন পয়েন্ট শিখার মাধ‍্যমে লেখতে পারো। 

তোমার হাতে পরীক্ষার শেষে যতটুকু সময় থাকে তার মাঝে লেখবে। ধরো এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় রচনা লেখবে। ১৫ থেকে ২৫ পৃষ্ঠা বা তার বেশি লেখতে পারো। তাহলে সম্পূর্ণ নাম্বার পাবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোর মাঝে একটি। তাই তোমাকে এই রচনা ফোকাস করতে হবে। আর ইংরেজি বা উক্তি মনে রাখতে হবে। এতে শিক্ষকের বেশি আকর্ষণ পড়ে।

পরিশেষে আমার মতামত 

আমরা আমাদের এই পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি রচনা সম্পর্কে জেনেছি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা তোমার পরীক্ষাতে আসার সম্ভাবনা ৫০% বাকি সবগুলো ৫০%। তাই আপনাকে আমাদের দেখানো নিয়ম অনুযায়ী রচনা শিখতে ও লেখতে হবে। তাহলে আপনি একটি ভালো নাম্বার পেতে পারেন। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে এভাবে অনেক সহজ করে অনেক অনুচ্ছেদ, ভাবসম্প‍্রসারণ, রচনা এছাড়াও ইংরেজি প‍্যারাগ্রাফ, ডায়ালগ, স্টোরি সবকিছু লিখে থাকি। তাই আমাদের সাথেই থাকুন। এবং শেষ পর্যন্ত এই পোস্টে আমাদের সাথে থাকার জন‍্য ধন‍্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url