পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার ২০+ নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়মআপনি কি পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তবে আপনি আজকে সঠিক জায়গাতেই এসেছেন। আমরা আপনাকে জানাব যে কীভাবে সঠিক নিয়মে সৃজনশীল লেখতে হয়। এবং কীভাবে বেশি নাম্বার পাওয়া যায়। 

পরীক্ষার-খাতায়-সৃজনশীল-লেখার-নিয়মএই পোস্টে আমরা সৃজনশীল লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। 

পোস্ট সূচিপত্র: পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু 

পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় মূলত অনেক সুন্দর করে সৃজনশীল লেখতে হয়। তবেই নাম্বার পাওয়া যায়। আমাদের এই পোস্টে পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপনি যদি এই নিয়মগুলো মানতে পারেন তবে আপনার পরীক্ষা অনেক অনেক ভালো হবে। 
সৃজনশীল লেখার জন‍্য শুরুতেই আপনাকে হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে। হাতের লেখা সুন্দর করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাতের লেখা সুন্দর করার সাথে সাথে অনেক স্প্রিড বাড়াতে হবে যাতে বেশি লেখা যায়। আমরা এই পোস্টে কিছু লিংক দিয়েছি এগুলো থেকেই আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন। যেমন আরও পড়ুন সেকশন এবং পোস্টের উপরে বাটন। সব জাগা থেকেই আপনি এ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এর কিছু নিয়ম হলো:
  • প্রশ্নটি ভালোভাবে পড়ে কী চাওয়া হয়েছে তা আগে বুঝে নিতে হবে। পরীক্ষা শুরুর পরে মানে যখন সৃজনশীল লেখবে তখন দুই তিন মিনিটে সব সৃজনশীল দাগাবে যে পরীক্ষাতে কোনগুলো লেখবে। এরপর সব দাগিয়ে ১ মিনিট উদ্দীপক ভালো করে করবে জানার চেষ্টা করবে যে কি লেখা হয়েছে এবং কি চাচ্ছে।
  • উত্তরের শুরুতে ছোট ভূমিকা লেখা। অর্থাৎ স্টেপ দিয়ে দিয়ে সৃজনশীল লেখা ভালো। সম্পূর্ণ প্রশ্নের ভাব বা এক লাইনে উত্তর লেখবে শুরুতে। 
  • মূল অংশ যেটা তা লেখার শুরুতে মাঝে ও শেষে পরিষ্কার ভাবে লেখবে। কোনো কাটাকাটি ছাড়া। 
  • শেষে ছোট উপসংহার লিখলে উত্তর সুন্দর দেখাবে। উপসংহার মানে রচনার নয়। সৃজনশীলের ছোট্ট একটা মূলভাব উদ্দীপকে যা চেয়ে তার উপর ভিত্তি করে লেখবে। 
  • সহজ ভাষা ব্যবহার করলে শিক্ষক সহজে বুঝতে পারবে।
  • অপ্রয়োজনীয় বড় বাক্য এড়িয়ে চলা উচিত। যেই ব‍াক‍্য বা কথাগুলোর কোনো দরকার নেই তা না লেখাই ভালো। 
  • প্রশ্নের বাইরে বাড়তি কিছু লেখা ঠিক নয়
  • নিজের ভাষায় লিখলে উত্তর আরও ভালো হয়। অর্থাৎ নিজের সৃজনশীলতার ব‍্যবহার। এ নিয়ে এই পোস্টের শেষে আমরা বিস্তারিত জানব। 
  • যেখানে দরকার সেখানে যেকোনো বিষয়ের সাথে মিল রেখে উদাহরণ দিলে নম্বর বেশি পাওয়া যায়। 
  • বানান ঠিক রাখা খুব জরুরি
  • খাতা পরিষ্কার রেখে লেখা উচিত
  • কাটাকাটি কম হলে খাতা সুন্দর দেখায়
  • যে লাইনগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা সুন্দর করে আন্ডার লাইন দিয়ে দেখিয়ে দিলে ভালো হয়। 
আপনি যদি এই সকল নিয়ম মেনে কোনো সৃজনশীল প্রশ্ন লেখেন তবে দেখবেন আপনি ভালো নাম্বার পাচ্ছেন। এবং আপনার সৃজনশীল প্রশ্ন অনেক সুন্দর হবে। তবে এর সাথে হাতের লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও বেশি লেখলে বেশি নাম্বার পাওয়া যায়। এমন অনেক টিপস নিয়ে এই পোস্টে আলোচনা কথা হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। 

হাতের লেখা যেমন হতে হবে

সৃজনশীল প্রশ্ন বা যেকোনো কিছু লেখার জন‍্য হাতের লেখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখে। হাতের লেখা সুন্দর করার অনেক টিপস আছে। এগুলো নিয়েই আমরা এখন জানব। অনেক শিক্ষক হাতের লেখার উপর নির্ভর করে নাম্বার দেয়। তাই হাতের লেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ তথ‍্যবহুল লেখা লেখার পর হাতের লেখা বাজে থাকলে নাম্বার পাওয়া যায় না।
পরীক্ষার-খাতায়-সৃজনশীল-লেখার-নিয়মআপনাকে ৬ মাসের একটা কোর্স নিতে হবে নিজে নিজে। আপনি প্রথম একমাস ক খ অর্থাৎ অক্ষর শিখবেন। প্রতিদিন দুইটি করে অক্ষর। এই অক্ষর দিয়ে শব্দ সাজিয়ে লেখবেন। তারপরের একমাস আপনি শব্দ প্র‍্যাকটিস করবেন। এরপরের মাসে বাক‍্য। এরপরের মাসে এক পৃষ্ঠা প্রতিদিন সুন্দর করে লেখবেন। এরপরের মাসে ২/৩ পৃষ্ঠা প্রতিদিন এরপরে ছয় নাম্বার মাসে লেখার স্পিড বাড়াবেন। এভাবেই হাতের লেখা সুন্দর হয়ে যাবে। আপনার হাতের লেখা যত বেশি সুন্দর হবে আপনার ভুনাস নাম্বার তত বেশি হবে। তাই হাতের লেখাতেও একটু গুরুত্ব দিন। 

শিক্ষকদের আকর্ষণ করার উপায়

পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম অনুযায়ী লেখলেই শিক্ষকদের আকর্ষণ করা যায়। শিক্ষকদের আকর্ষণ করার জন‍্য হাতের লেখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপরে সাজিয়ে লেখতে হবে। ফাক দিয়ে দিয়ে সাজিয়ে লেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্যগুলো এমন জায়গায় লেখবেন যাতে শিক্ষকের চোখে লেখা পড়ে। এছাড়াও আরও কিছু শিক্ষকদের আকর্ষণ করার উপায় আছে। যেমন:
  • উত্তর সাজিয়ে গুছিয়ে লিখলে সুন্দর দেখায়
  • প্রশ্ন অনুযায়ী সরাসরি উত্তর দিলে শিক্ষক খুশি হবে
  • খাতা পরিষ্কার রাখলে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগে
  • গুরুত্বপূর্ণ লাইন আন্ডারলাইন করলে নজরে পড়ে
  • অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দিলে উত্তর সুন্দর হয়
  • সঠিক তথ্য ব্যবহার করলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে
  • প্রতিটি অংশ আলাদা করে লিখলে বোঝা সহজ হয়
  • শুরু ও শেষ সুন্দর হলে উত্তর আকর্ষণীয় লাগে
  • নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করলে শিক্ষক আগ্রহ পান
  • সময় মেনে সব প্রশ্ন শেষ করলে ভালো প্রভাব পড়ে

সৃজনশীল কীভাবে লেখলে বেশি নাম্বার পাওয়া যাবে

সৃজনশীল লেখার কিছু নিয়ম রয়েছে। এগুলো মেনে লেখলেই নাম্বার বেশি পাওয়া যায়। আপনি যদি ভালো করে কোনো লেখা লেখেন নাম্বার আপনি পাবেনই। তার জন‍্য দরকার হাতের লেখা সাথে স্পিড। আপনার হাতের লেখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে এই পোস্টে আমরা অনেক কিছুই জেনেছি। আর স্পিড দরকার যাতে বেশি লেখা যায়। 

আপনি সব শেষ করার পর আপনার আর বাকি থাকবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এর মাঝে ১০ মিনিট এক্সট্রা টাইম ধরে রাখবেন। আর থাকে ১৪০ মিনিট। যার মাঝে ৭টা সৃজনশীল বা ৫টা সৃজনশীল এবং ২টা নাটক গল্প/ সংক্ষিপ্ত। যাইহোক ৭টা বিষয়। ৭টার জন‍্য ২০ মিনিট করে সময় দিবেন। আর যদি শেষে একটু সময় বেশি থাকে তবে শেষের প্রশ্ন বড় করবেন। আর সকল প্রশ্ন সমান ভাবে লেখবেন। এখন আপনি যদি প্রথম দুইটা সৃজনশীল বড় করে লেখেন পরের গুলো ছোট থাকলে শিক্ষক প্রথম দুইটার তুলনায় পরের গুলোতে নাম্বার কম দিবে। 

তাই সব সৃজনশীল সমান লেখায় ভালো। প্রথম সৃজনশীল ভুলেও ২৫/৩০ মিনিট সময় দেওয়া যাবে না। এতে শেষের সৃজনশীল খারাপ হয়। যাইহোক ১০ মিনিট যা বেঁচে থাকবে এর মাঝে ৪/৫ মিনিট আপনি সৃজনশীল দাগাবেন যে কোনগুলো লেখবেন। পরীক্ষার মাঝখানে খুজা শুরু করবেন না যে কোনটা রেখে কোনটা লেখবেন। ক প্রশ্ন ১ বা ২ মিনিট। যদি ২ মিনিট সময় নেন তাহলে খ ৩ মিনিট লেখবেন। অর্থাৎ ক ও খ ৫ মিনিটে শেষ করবেন। 

এরপর উদ্দীপক ভালো ভাবে পড়বেন ১ মিনিট। তারপর গ লেখবেন নতুন পৃষ্ঠা থেকে। গ তে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। দেড় পৃষ্ঠার মতো লেখবেন। এরপর যতটুকুই লিখেন ঘ আবার নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করবেন। এটিও ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। আর এভাবে লেখলে আপনার হাতের লেখা অনেক অনেক স্প্রিড লাগবে। এর জন‍্য পরীক্ষার আগে অনেক অনুশীলন করতে হবে। ঘ লেখবেন প্রায় ২ পৃষ্ঠা। কিন্তু সময় ধরে লেখবেন। ২ পৃষ্ঠা লেখতে গিয়ে ২৫ মিনিট লাগাবেন না। ২০ মিনিটে যতটুকু লেখা যায়। না লেখতে পারলে তাও বাদ দিবেন। এভাবে বাংলা,সমাজ,ধর্ম,বিজ্ঞান এগুলো শেষ করা যাবে। 

আপনি যদি এভাবে সময় বাঁচিয়ে ফাঁক দিয়ে সুন্দর হাতের লেখায় বেশি বেশি লেখেন তবে শিক্ষক খুশি হবেন। শিক্ষকের পড়াতে কোনো বাঁধা থাকবে না। আর তথ‍্যবহুল লেখা লেখলে আপনি ফুল মার্কস পাবেন। আপনি যদি সৃজনশীলে ভালো নাম্বার পেতে চান তবে এভাবে লেখতে পারবেন। এমন আরও টিপস জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। 

গণিত সৃজনশীল লেখার নিয়ম

অংক অনেক সহজ আবার অনেকের কাছে কঠিন। অংক পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম এতো বেশি না। অংক খাতায় প্রথমে mcq পরে সব বাদ দিয়ে ১৪০ মিনিট থাকে। যা আমরা বাংলা লেখার নিয়মে দেখেছি। এর মাঝে ৭/৫ টা সৃজনশীলে প্রতিটিতে ২০ মিনিট করে। ক লেখবেন ৩/৪ মিনিটে খ লেখবেন ৭/৮ মিনিটে ঘ লেখবেন বাকি যতটুকু সময় বাঁচে। আবার অনেক অংক আছে সময় কম লাগে আবার অনেক গুলোতে সময় বেশি লাগে। 

তাই যেগুলো সময় কম লাগবে এবং আপনার কাছে সহজ ঐগুলো আগে লেখবেন। সিরিয়ালে সৃজনশীল করতে হবে বিষয় টা এমন না। কঠিন সৃজনশীল আগে নিলে প‍্যানিক হতে পারেন। এতে পুরা পরীক্ষায় খারাপ হবে। তাই সহজ গুলো আগে লিখে নিন। যদি সংক্ষিপ্ত থাকে তবে সংক্ষিপ্ত সবগুলো ৪ মিনিট করে লিখুন। দেখবেন এভাবে গড়ে সময় ভাগ ভাগ করে সহজ থেকে কঠিন অংক করলে আপনার পরীক্ষা ভালো হবে। 

পরীক্ষার খাতায় লেখার টিপস

বোর্ড পরীক্ষা অত‍্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের উপরই অনেকটা নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন কোন পথে যাবে। যাই হোক, বোর্ড পরীক্ষার খাতা কে মূল্যায়ন করবে তা আমরা আগে থেকে জানি না। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষার খাতায় লেখার কিছু টেকনিক আছে। এই নিয়মগুলো মেনে লিখলে যে শিক্ষকই খাতা দেখুক না কেন, পরিষ্কার ও সুন্দর উপস্থাপনায় সন্তুষ্ট হয়ে ভালো নম্বর দিতেই পারেন। এমন কিছু টেকনিক হলো:

আরও পড়ুন: বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করার উপায়

  • পরিষ্কার ও স্পষ্ট হাতের লেখা: লেখা যদি অস্পষ্ট বা জটিল হয় তাহলে পরীক্ষক পড়তে অসুবিধা বোধ করেন এবং নম্বর কমে যেতে পারে। তাই ধীরে সুস্থে কিন্তু পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে। এজন্য আগে থেকেই হাতের লেখা অনুশীলন করে উন্নত করা দরকার, কারণ অনেক শিক্ষক সুন্দর লেখার জন্য বাড়তি নম্বরও দিয়ে থাকেন।
  • প্রশ্ন নম্বর ঠিকভাবে দেওয়া: প্রতিটি উত্তরের শুরুতে সঠিক প্রশ্ন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। নম্বর ভুল লিখলে উত্তর ঠিক হলেও নম্বর কাটা যেতে পারে। ১ নম্বর প্রশ্ন শেষ হলে নিচে সামান্য দাগ টেনে পরের উত্তর শুরু করলে খাতা পরিপাটি দেখায়। অনেকে রঙিন কলম ব্যবহার করে, তবে সব পরীক্ষক এটি পছন্দ করেন না। তাই কোন শিক্ষক খাতা দেখবেন তা যেহেতু জানা নেই, রঙিন কলম ব্যবহার না করাই ভালো। অপ্রয়োজনীয় ডিজাইন করার দরকার নেই, বরং সেই জায়গায় বাড়তি তথ্য লিখলে অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে লাল বা গোলাপি কলম ব্যবহার না করাই উত্তম।
  • মার্জিন ব্যবহার করা: খাতার বাম পাশে মার্জিন রেখে লিখলে খাতা দেখতে সুন্দর ও গোছানো লাগে এবং পরীক্ষকের নম্বর দিতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি উপরে ও বামে হালকা স্কেল টানলে খাতা আরও পরিপাটি দেখায়, তবে খুব বেশি বা খুব কম নয়, পরিমিত হওয়াই ভালো।
  • পয়েন্ট আকারে লেখা: যেখানে সম্ভব উত্তর পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে লিখলে পরীক্ষক সহজে বিষয় বুঝতে পারেন এবং খাতা গোছানো মনে হয়। এতে কম লেখাতেই পৃষ্ঠা পূর্ণ লাগে এবং উপস্থাপন আকর্ষণীয় হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আন্ডারলাইন করা: মূল শব্দ, সংজ্ঞা বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ আন্ডারলাইন করলে উত্তর বেশি নজরকাড়া হয় এবং পরীক্ষকের দৃষ্টি দ্রুত সেখানে যায়।
  • অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি না করা: ভুল হলে একটিমাত্র দাগ টেনে কেটে দিতে হবে। অতিরিক্ত কাটাকাটি করলে খাতা অগোছালো দেখায় এবং খারাপ প্রভাব ফেলে।
  • প্রশ্ন বুঝে উত্তর লেখা: প্রশ্ন ভালোভাবে না বুঝে লিখতে শুরু করলে উত্তর ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগে প্রশ্নটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে বুঝে তারপর লেখা শুরু করা উচিত।
  • সময় ভাগ করে লেখা: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে লিখতে হবে যাতে সব প্রশ্ন শেষ করা যায়। সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করতে হয় না।
  • চিত্র বা ডায়াগ্রাম পরিষ্কার আঁকা: বিজ্ঞান বা ভূগোলের উত্তরে চিত্র দরকার হলে পরিষ্কারভাবে এবং সঠিক লেবেলসহ আঁকতে হবে যাতে সহজে বোঝা যায়।
  • শেষে রিভিশন করা: খাতা জমা দেওয়ার আগে অন্তত ৫ মিনিট সময় রেখে বানান, প্রশ্ন নম্বর ও অসম্পূর্ণ অংশ দেখে নেওয়া ভালো। সময় কম থাকলে অন্তত ২–৩ মিনিট হলেও দ্রুত চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত।

রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম অনুযায়ী লিখলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। সাধারণত পরীক্ষায় রাইটিং পার্টেই বেশি নম্বর থাকে। অন্যদিকে MCQ অংশে নম্বর কাটা-ছেঁড়া ছাড়া নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু রাইটিং অংশে উপস্থাপন, ভাষা ও গঠন ঠিক না হলে নম্বর কমে যায়। রাইটিং অংশ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো রচনা, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি ধরনের লেখা, আরেকটি হলো সৃজনশীল লেখা। সৃজনশীল অংশ নিয়ে এই পোস্টের নিচে বিস্তারিত জানা যাবে।
পরীক্ষার-খাতায়-সৃজনশীল-লেখার-নিয়মরাইটিং পার্ট ইংরেজিতেও হতে পারে, তাই সেটার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। রাইটিং ভালো করতে হলে প্রথমেই হাতের লেখা পরিষ্কার ও সুন্দর করা দরকার, কারণ অনেক শিক্ষক লেখার সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে নম্বর বাড়িয়ে দেন। এরপর নিয়মিত বেশি বেশি লিখতে হবে যাতে লেখার গতি বাড়ে। সাজিয়ে ধাপে ধাপে এবং লাইনের মাঝে ফাঁক রেখে লিখলে লেখা দেখতে আকর্ষণীয় হয়। মূল কথা হলো, যত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে তত ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
  • প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝে তারপর লেখা শুরু করতে হবে
  • গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বা তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে
  • নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও নিয়ম মেনে উত্তর সাজাতে হবে
  • সহজ ও পরিষ্কার ভাষা ব্যবহার করা উচিত
  • অপ্রয়োজনীয় কঠিন শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো
  • বানান ভুল যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
  • Grammar ঠিক রেখে বাক্য লিখতে হবে
  • মূল বিষয়ের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখা যাবে না
  • যেখানে দরকার ধাপে ধাপে পয়েন্ট সাজিয়ে লিখতে হবে
  • খাতায় সঠিকভাবে মার্জিন রাখতে হবে
  • লেখা পরিষ্কার ও পড়ার উপযোগী হতে হবে
  • অতিরিক্ত কাটাকাটি এড়িয়ে চলতে হবে
  • একই কথা বারবার পুনরাবৃত্তি করা ঠিক নয়
  • শুরুর লাইনে মূল বিষয়ের পরিচয় দিতে হবে
  • মাঝের অংশে প্রধান তথ্য ও ব্যাখ্যা লিখতে হবে
  • শেষ লাইনে সুন্দর উপসংহার দিতে হবে
  • Word limit মেনে লেখা জরুরি
  • অপ্রয়োজনীয় গল্প বা বাড়তি কথা লেখা ঠিক নয়
  • প্রশ্নের নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে
  • সময় দেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী লিখতে হবে
  • লেখা শেষ হলে একবার পড়ে ভুলগুলো ঠিক করে নিতে হবে

বোর্ড পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়ার উপায়

বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বোর্ড পরীক্ষা অনেকটাই ঠিক করে দেয় ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনের পথ কোন দিকে যাবে। কেউ যদি সবসময় ক্লাসে ভালো ফল করে কিন্তু বোর্ড পরীক্ষায় খারাপ করে, তবে আগের ফলের গুরুত্ব অনেক কমে যায়। আবার কেউ আগে মাঝামাঝি থাকলেও বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করলে সবার নজরে আসে এবং প্রশংসা পায়। তাই শেষ ফলাফলই আসল সাফল্য নির্ধারণ করে শেষ ভালো যার সব ভালো তার বিষয়টা সত্যিই এমনই।

বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করতে হলে নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। পুরো বছর জুড়ে পড়াশোনার অভ্যাস রাখতে হয়। SSC ও HSC পরীক্ষার জন্য প্রায় দুই বছর সময় পাওয়া যায়, তাই শুরু থেকেই পড়া শুরু করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকেই দেরিতে শুরু করে পরে আফসোস করে যে আর একটু সময় পেলে ভালো হতো। কিন্তু সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই শুরুতেই সচেতন হলে সামনে পরীক্ষা এলেও চাপ কম থাকে। এই পোস্টে সেই প্রস্তুতির কার্যকর উপায়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বোর্ড পরীক্ষায় ভালো করার কৌশলগুলো বুঝলে বোঝা যায় এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কতটা পরিকল্পনা করে পড়তে হয়। সবাই চায় পরীক্ষায় ভালো করতে, কিন্তু সফল হয় তারা যারা নিয়ম মেনে চলে। রুটিন করে পড়া খুব জরুরি, কারণ রুটিন পড়াকে সহজ ও নিয়মিত করে। নিচে কিছু কার্যকর উপায় দেওয়া হলো যা অনুসরণ করলে প্রস্তুতি আরও শক্ত হবে।
  • প্রথমে পুরো সিলেবাস পরিষ্কারভাবে বুঝে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা
  • তারপর একটি নির্দিষ্ট রুটিন বানিয়ে কোন দিনে কোন বিষয় পড়বে ঠিক করা
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা
  • কঠিন বিষয়গুলো সকাল বা ভোরে পড়া যাতে মন সতেজ থাকে
  • গত দশ বছরের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান করে প্রশ্নের ধরন বোঝা
  • সময় ধরে লিখে প্র্যাকটিস করে হাতের লেখা সুন্দর ও দ্রুত করা
  • গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর আলাদা খাতায় নোট করে রাখা
  • প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা আগের পড়া পুনরাবৃত্তি করা
  • মোবাইল ও অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট কমানো
  • নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম নিয়ে শরীর ও মন সতেজ রাখা
  • পরীক্ষার আগে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা

সৃজনশীলতার ব‍্যবহার কীভাবে করতে হয়

আপনি যদি পরীক্ষাতে ভালো নাম্বার পেতে চান তবে পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম জানা ও ব‍্যবহার করার পাশাপাশি আপনাকে সৃজনশীলতার সাথে লেখার অনুশীলন করতে হবে। আপনাকে কোনো একটি প্রশ্নের মূল তথ‍্য ঠিক রেখে বানিয়ে লেখতে হবে। এতে করে কম পড়েই ভালো লেখা যায়। তার জন‍্য ব্রেইন খাটাতে হবে। এমন আরও অনেক টিপস নিয়ে এই পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি। 

পরিশেষে আমার মতামত 

আশা করি আপনি এই পোস্ট থেকে পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল লেখার নিয়ম গুলো সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা পেয়েছেন। আপনি এই নিয়মগুলো মানার পাশাপাশি এবং আমাদের পোস্টে দেওয়া কিছু লিংক থেকে আরও ভালো তথ‍্য পাবেন। এর মাধ‍্যমে আপনার পরীক্ষা ভালো হবে। ভালো স্টুডেন্ট রা এইসব নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেয় বলেই তাদের পরীক্ষা ভালো হয়। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন‍্য ধন‍্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url