পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম
পরীক্ষার নাম্বার বাড়ানোর জন্য খাতায় লেখার উপায়আপনি কি পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তবে আপনি সঠিক জায়গাতেই এসেছিলেন। আপনি পরীক্ষার খাতায় যদি ভালো ভাবে লেখতে পারেন তবেই আপনার পরীক্ষা ভালো হবে। এমনে এমনে কেউ নাম্বার দিবে না।
পোস্ট সূচিপত্র: পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু
- পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম
- বোর্ড পরীক্ষার খাতা লেখার নিয়ম
- বাংলা রাইটিং লেখার নিয়ম
- ইংরেজি রাইটিং লেখার নিয়ম
- রচনা লেখার বিশেষ নিয়ম
- SSC পরীক্ষায় লেখার নিয়ম
- মনে রাখার শক্তি বাড়ানোর উপায়
- রাইটিং এ নাম্বার পাওয়ার টিপস
- কীভাবে লিখলে নাম্বার বেশি পাওয়া যায়
- পরিশেষে আমার মতামত
পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম
পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম অনুযায়ী লেখলে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়া যায়। পরীক্ষাতে রাইটিং পার্টেই বেশি নাম্বার থাকে। অন্যান্য বিষয় mcq এগুলোতে কাটায় কাটায় নাম্বার। কিন্তু রাইটিং পার্টে নিয়ম অনুযায়ী সাজিয়ে লেখতে হয়। আর নাহলে নাম্বার পাওয়া যায় না। রাইটিং পার্ট দুই ধরনের হয়। একটা হচ্ছে রচনা অনুচ্ছেদ এমন অনেক কিছু আরেকটি সৃজনশীল। সৃজনশীল নিয়ে এই পোস্টের নিচে বিস্তারিত জানব।
আরও পড়ুন: বোর্ড পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
রাইটিং পার্ট ইংরেজিও হতে পারে। এ নিয়েও এই পোস্টে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যাইহোক রাইটিং পার্ট ভালো করতে হলে প্রথমেই হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে। কারণ হাতের লেখার উপর নির্ভর করেই অনেক শিক্ষক নাম্বার দেয়। এরপরে বেশি বেশি লেখতে হবে। হাতের লেখার স্পিড বাড়াতে হবে। সাজিয়ে লেখতে হবে। ধাপে ধাপে লেখলে ফাক দিয়ে লেখলে লেখা সুন্দর হয়। মূলত রাইটিং পার্ট যত সুন্দর করে আপনি উপস্থাপন করতে পারবেন।
- প্রশ্ন ভালো করে বুঝে তারপর লেখা শুরু করতে হবে
- গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বা তথ্য তুলে ধরতে হবে
- একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও নিয়ম মেনে লিখতে হবে
- সহজ ও ভালো ভাষা ব্যবহার করতে হবে
- কঠিন শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো
- বানান ভুল এড়িয়ে চলতে হবে
- Grammar ঠিক রাখতে হবে
- মূল জিনিসের বাইরে উল্টাপাল্টা কিছু লেখা যাবে না
- যেখানে দরকার সেখানে স্টেপ দিয়ে অন্য স্টেপে যাওয়া
- খাতায় মার্জিন ঠিক রাখতে হবে
- লেখা পরিষ্কার ও পড়ার মতো হতে হবে
- কাটাকাটি কম করতে হবে
- একই কথা বারবার লেখা যাবে না
- প্রথম লাইনে মূল বিষয়টির পরিচয় দিতে হবে
- উত্তরের মাঝের অংশে মূল তথ্য লিখতে হবে
- শেষ লাইনে সুন্দর উপসংহার দিতে হবে
- Word limit অনুযায়ী লিখতে হবে
- অপ্রয়োজনীয় গল্প লেখা যাবে না
- প্রশ্নের নির্দেশনা মানতে হবে
- সময় দেখে লিখতে হবে
- লেখা শেষ করে একবার পড়ে ভুল ঠিক করতে হবে
আপনাকে আরও কিছু নিয়ম মানতে হবে। এমন অনেক নিয়ম নিয়ে আজকের এই পোস্ট। আমরা ধাপে ধাপে আপনাকে বুঝাব। প্রত্যেকটা রাইটিং এর ধরন কীভাবে সাজাতে হবে এবং কীভাবে লেখতে হবে এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে হবে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
বোর্ড পরীক্ষার খাতা লেখার নিয়ম
বোর্ড পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ বোর্ড পরীক্ষার উপরেই অনেকটা নির্বর করে আমাদের জীবন কেমন হবে। যাইহোক বোর্ড পরীক্ষার খাতা কে দেখবে তাও আমরা জানি না। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষার খাতায় লেখার কিছু টেকনিক আছে। এই টেকনিক গুলো মেনে লেখলে যেই আপনার খাতা দেখুক খুশি হয়ে নাম্বার দিবেই। এমন কিছু টেকনিক হলো:
- পরিষ্কার ও স্পষ্ট হাতের লেখা: অস্পষ্ট লেখা হলে পরীক্ষক বুঝতে সমস্যা হয় এবং নম্বর কমে যেতে পারে। তাই ধীরে কিন্তু পরিষ্কার করে লিখতে হবে। তার জন্য আগে থেকেই হাতের লেখা সুন্দর করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ শিক্ষক হাতের লেখার উপর নাম্বার দিয়ে দেয়।
- প্রশ্ন নম্বর ঠিকভাবে দেওয়া: প্রতিটি উত্তরের আগে সঠিক প্রশ্ন নম্বর লিখতে হবে। ভুল নম্বর দিলে উত্তর ঠিক হলেও নম্বর কমে যেতে পারে। আর ১ নং প্রশ্নের উত্তর লিখে নিচে দুইটা টান দেওয়াই ভালো। অনেকে রঙিন কলম ব্যবহার করে। এখন রঙিন কলম অনেকে পছন্দ করে আবার অনেকে পছন্দ করে না। এখন কোন শিক্ষক তোমার খাতা দেখবে তা তুমি জানো না তাই কালার পেন ব্যবহার না করাই ভালো। আর ডিজাইন করার দরকার নেই। ডিজাইনের জাগায় এক দুই লাইন বেশি লেখো এতে ভোনাস নাম্বার। ডিজাইনে নাম্বার নেই। বিশেষ করে লাল ও গোলাপি রঙিন কলম ভুলেও ব্যবহার করা যাবে না।
- মার্জিন ব্যবহার করা: খাতার বাম পাশে মার্জিন রেখে লিখলে খাতা দেখতে সুন্দর লাগে এবং পরীক্ষক নাম্বার দিতে সুবিধা পায়। এছাড়াও এক স্কেল উপরে ও বামে স্কেল করবে। এর চেয়ে বেশিও না কমও না।
- পয়েন্ট আকারে লেখা: যেখানে সম্ভব উত্তর পয়েন্ট আকারে লিখলে পরীক্ষক সহজে বুঝতে পারেন এবং উত্তর গোছানো দেখায়। এতে কম লেখাতে পৃষ্ঠা ভরে ও সুন্দর দেখায়।
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আন্ডারলাইন করা: মূল শব্দ বা সংজ্ঞা আন্ডারলাইন করলে উত্তর আকর্ষণীয় হয় এবং পরীক্ষকের চোখে পড়ে।
- অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি না করা: ভুল হলে এক দাগ দিয়ে কাটতে হবে। বেশি কাটাকাটি খাতা অগোছালো দেখায়।
- প্রশ্ন বুঝে উত্তর লেখা: প্রশ্ন ভালোভাবে না বুঝে লিখলে উত্তর ভুল হতে পারে। আগে প্রশ্ন বুঝে তারপর লেখা শুরু করা উচিত।
- সময় ভাগ করে লেখা: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখতে হবে যাতে সব প্রশ্ন শেষ করা যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
- চিত্র বা ডায়াগ্রাম পরিষ্কার আঁকা: বিজ্ঞান বা ভূগোলের ক্ষেত্রে চিত্র থাকলে পরিষ্কার ও লেবেলসহ আঁকতে হবে।
- শেষে রিভিশন করা: খাতা জমা দেওয়ার আগে অন্তত ৫ মিনিট সময় রেখে ভুল বানান, প্রশ্ন নম্বর ও অসম্পূর্ণ উত্তর দেখে নেওয়া দরকার। তবে রিভিশন দেওয়া সময় থাকে না। তাই সাবধানে লেখা ও শেষে ২-৩ মিনিট রিভিশনের জন্য রাখা।
বাংলা রাইটিং লেখার নিয়ম
বাংলা মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি বাংলা ১ম ও একটি বাংলা ২য়। পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম অনেক বেশি। কারণ বাংলা খাতা একটু সুন্দর করে গুছিয়ে লেখতে হয় প্রথমে বাংলা ১ম এর সৃজনশীল এবং পরে বাংলা ২য় এর সৃজনশীল সম্পর্কে জানব। বাংলা ১ম থেকে চলুন শুরু করা যাক।
বাংলা ১ম খাতায় প্রথমে ৩০টি MCQ থাকে। আপনি আপনার বুদ্ধি দিয়ে তা শেষ করবেন। আর বাকি থাকবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এর মাঝে ১০ মিনিট এক্সট্রা টাইম ধরে রাখবেন। আর থাকে ১৪০ মিনিট। যার মাঝে ৭টা সৃজনশীল বা ৫টা সৃজনশীল এবং ২টা নাটক গল্প। যাইহোক ৭টা বিষয়। ৭টার জন্য ২০ মিনিট করে সময় দিবেন। আর যদি শেষে একটু সময় বেশি থাকে তবে শেষের প্রশ্ন বড় করবেন। আর সকল প্রশ্ন সমান ভাবে লেখবেন। এখন আপনি যদি প্রথম দুইটা সৃজনশীল বড় করে লেখেন পরের গুলো ছোট থাকলে শিক্ষক প্রথম দুইটার তুলনায় পরের গুলোতে নাম্বার কম দিবে।
তাই সব সৃজনশীল সমান লেখায় ভালো। প্রথম সৃজনশীল ভুলেও ২৫/৩০ মিনিট সময় দেওয়া যাবে না। এতে শেষের সৃজনশীল খারাপ হয়। যাইহোক ১০ মিনিট যা বেঁচে থাকবে এর মাঝে ৪/৫ মিনিট আপনি সৃজনশীল দাগাবেন যে কোনগুলো লেখবেন। পরীক্ষার মাঝখানে খুজা শুরু করবেন না যে কোনটা রেখে কোনটা লেখবেন। ক প্রশ্ন ১ বা ২ মিনিট। যদি ২ মিনিট সময় নেন তাহলে খ ৩ মিনিট লেখবেন। অর্থাৎ ক ও খ ৫ মিনিটে শেষ করবেন।
এরপর উদ্দীপক ভালো ভাবে পড়বেন ১ মিনিট। তারপর গ লেখবেন নতুন পৃষ্ঠা থেকে। গ তে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। দেড় পৃষ্ঠার মতো লেখবেন। এরপর যতটুকুই লিখেন ঘ আবার নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করবেন। এটিও ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় দিবেন। আর এভাবে লেখলে আপনার হাতের লেখা অনেক অনেক স্প্রিড লাগবে। এর জন্য পরীক্ষার আখে অনেক অনুশীলন করতে হবে। ঘ লেখবেন প্রায় ২ পৃষ্ঠা। কিন্তু সময় ধরে লেখবেন। ২ পৃষ্ঠা লেখতে গিয়ে ২৫ মিনিট লাগাবেন না। ২০ মিনিটে যতটুকু লেখা যায়। না লেখতে পারলে তাও বাদ দিবেন।
বাংলা ২য় তে প্রথমে MCQ শেষ ঈরবেন। এখানে সাধারণত ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ, চিঠি বা এমন, অনুবাদ, অনুচ্ছেদ, রচনা। এখন ভাবসম্প্রসারণ ৩ বা সাড়ে তিন পৃষ্ঠা লেখবেন ২০ মিনিটে। সারাংশ বা সারমর্ম লেখবে ৪/৫ লাইন ৫ মিনিটে। অনুবাদ ৫ মিনিট। চিঠি ২ পৃষ্ঠা ১২-১৫ মিনিট, দরখাস্ত এক পৃষ্ঠা। প্রতিবেদন থাকলে ২ পৃষ্ঠা এই সময়ের মাঝেই। অনুচ্ছেদ ৩/৩.৫ পৃষ্ঠা ২০ মিনিট। বাকি দেড় ঘন্টা বা এমন সময় রচনা লিখবেন। ২০ পৃষ্ঠা লেখতে পারলে ভালো।
ইংরেজি রাইটিং লেখার নিয়ম
ইংরেজিও ২ ধরনের ইংরেজি ২য় ও ১ম। যাইহোক প্রথমে আপনি প্রশ্ন MCQ ফাকা ঘর এমন যা যা আছে সব শেষ করবেন ২ ঘন্টাতে। শেষ ১ ঘন্টা রাইটিং পার্ট। ডায়ালগ ৩০ মিনিট ৬ পৃষ্ঠা এবং কমপ্লেটিং স্টরি ৫/৬ পৃষ্ঠা ৩০ মিনিট। যাইহোক এটা গেলো ইংরেজি ১ম এর ক্ষেত্রে। আপনি আপনার সুবিধা মতো প্রত্যেকটা নং এর জন্য সময় ভাগ করে নিবেন।
ইংরেজি ২য় তে ঠিক এভাবেই সময় ভাগ করে নিবেন। এবং শেষে দেড় বা ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় বাচিয়ে রাখবেন। প্যারাগ্রাফ ২০ মিনিট লেটার ১০ মিনিট। এবং শেষে Composition ১ ঘন্টা বা ৫০ মিনিটে শেষ করবেন। এগুলোর সময় ভাগ করে নিবেন। ইংরেজি ভাগ করে দেই নি কারণ একেক জনের একেক ভাবে সুবিধা হয়। তাই নিজ থেকে সময় ভাগ করে নেওয়াই ভালো।
রচনা লেখার বিশেষ নিয়ম
রচনা লেখার একটা সুন্দর নিয়ম আছে। আমরা আগেই জেনেছি যে রচনা লেখার জন্য শেষে দেড় ঘন্টা বা ৮০ মিনিট রাখতে হবে। তবে ইংরেজি রচনার জন্য ১ ঘন্টা রাখলেই হবে। রচনা মূলত দুই প্রকার হয়। বাংলা রচনা এবং ইংরেজি রচনা। ইংরেজি রচনা হচ্ছে Composition. আমরা এই দুইটি লেখাই শিখব।
রচনা লেখার একটা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে যে যত বেশি লেখবে সে তত বেশি নাম্বার পাবে। প্রথমেই বাংলা রচনা নিয়ে আলোচনা করা যাক। বাংলা ২য় তে মূলত রচনা থাকে। এখন ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত রচনা এতো বেশি লেখার দরকার নেই। রচনা বইয়ে যতটুকু দেওয়া ততটুকু লেখলেই হয় বা এমন ভাবে বানিয়ে লেখা। সুন্দর করে সাজিয়ে লেখা। তবে ৯ম ১০ম শ্রেণি বা SSC ও HSC এইসকল পরীক্ষাতে অনেক বেশি রচনা লেখতে হয়।
প্রতি পৃষ্ঠায় ৮-৯ লাইন লেখলে ভালো বা ১০ লাইন। এটি শুধু রচনা লেখার জন্য। বিভিন্ন অভিজ্ঞ লোক বা বিজ্ঞানীদের উক্তি লাগিয়ে দেওয়া যায় এতে করে পৃষ্ঠা তাড়াতাড়ি ভরবে। এরপরে পয়েন্ট করে লেখলেও তাড়াতাড়ি পৃষ্ঠা ভরে যায়। রচনার সময় এক পৃষ্ঠা ৩ বা সাড়ে তিন মিনিট সময় করে নিতে হয় বা ৪ মিনিট। তাহলে ৮০ মিনিট ২০ পৃষ্ঠা লেখা যাবে। এছাড়াও আরও বেশি লেখা যায়। HSC এর জন্য ৩০ পৃষ্ঠা রচনা লেখা স্বাভাবিক। আপনার হাতের লেখা সুন্দর সাথে লেখার স্পিডও লাগবে। এর জন্য সারা বছর প্র্যাকটিস করতে হবে।
এরপর ইংরেজি Composition এ সুন্দর করে লেখতে হবে ইংরেজি। এক ঘন্টা সময় হাতে রাখতে হবে ১০-১৫ পৃষ্ঠা লেখলেই ভালো হয়। তবে grammar ঠিক রেখে ইংরেজি লেখলে বা ইংরেজি তে তথ্য দিলে ভালো নাম্বার পাওয়া যায়। Composition একটু সতর্কতার সাথে লেখতে হবে যাতে বানান ভুল না যায়।
SSC পরীক্ষায় লেখার নিয়ম
SSC পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। SSC পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম অনেক গুলো আছে। এগুলো জানলে SSC পরীক্ষাও মোটামুটি অনেক ভালো হবে। SSC পরীক্ষা তে আপনার খাতা কার কাছে যাবে আপনি তা জানেন না। তাই এমন ভাবে লেখতে হবে যাতে সব শিক্ষকরা পছন্দ করে। এই পোস্টে প্রত্যেকটা ধাপে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। SSC পরীক্ষায় লেখার নিয়ম হলো:
- প্রশ্ন ভালো করে পড়ে বুঝে তারপর লেখা শুরু করতে হবে
- পরিষ্কার ও সুন্দর হাতের লেখা রাখতে হবে
- প্রতিটি উত্তরের আগে সঠিক প্রশ্ন নম্বর দিতে হবে
- এক প্রশ্নের উত্তর অন্য প্রশ্নের সাথে মিশানো যাবে না
- মার্জিন রেখে খাতা গুছিয়ে লিখতে হবে
- যেখানে দরকার সেখানে প্যারাগ্রাফ ভাঙতে হবে
- অপ্রয়োজনীয় কথা না লিখে মূল উত্তর লিখতে হবে
- সময়ের হিসাব রেখে সব প্রশ্ন শেষ করতে হবে
- শেষে সময় পেলে খাতা একবার দেখে নিতে হবে
এমন আরও অনেক পদ্ধতি আছে SSC পরীক্ষায় ভালো করার জন্য। এই পোস্টে মোটামুটি সবকিছুই আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আরও পড়ুন সেকশন থেকে আপনি আরও কিছু তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়াও আরও কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
মনে রাখার শক্তি বাড়ানোর উপায়
আপনি কি মনে রাখার শক্তি বাড়ানোর সহজ কৌশল জানতে চান? আপনি যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজে মনে রাখতে চান তাহলে কিছু ছোট ছোট কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আমাদের প্রতিদিনের জীবনেই লুকিয়ে আছে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর অনেক পথ। নিচে কিছু কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হলোঃ
- ঘুম ঠিক রাখতে হবেঃ পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে মনে রাখার ক্ষমতা অনেক ভালো হয়।
- সকালে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুনঃ সকালবেলা মন ফ্রেশ থাকে, এ সময় কিছু পড়লে তা অনেক সময় মনে থাকে।
- বুঝে পড়ার চেষ্টা করুনঃ যদি আপনি না বুঝে মুখস্থ করেন, তাহলে দ্রুত ভুলে যাবেন। তাই প্রতিটি বিষয়ের মানে আগে ভালোভাবে বুঝে নিন।
- কল্পনার সাহায্য নিনঃ যা পড়ছেন, তার ছবি কল্পনা করুন। এতে মস্তিষ্ক বেশি সময় সেই তথ্য ধরে রাখতে পারে।
- নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করুনঃ একবার পড়েই ভুলে গেলে চলবে না। দুই বা তিন দিন পর আবার পড়ে নিন। এতে স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
- সঠিক খাদ্য খান: আমন্ড, আখরোট, কলা, ডিম এসব খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
- ব্যায়াম ও মেডিটেশন করুনঃ প্রতিদিন ২০ মিনিট ব্যায়াম বা মেডিটেশন করলে মনোযোগ ও স্মৃতি দুটিই বাড়ে।
রাইটিং এ নাম্বার পাওয়ার টিপস
রাইটিং এ নাম্বার পাওয়ার অনেক টিপস রয়েছে। পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম ও ভালো নাম্বার পাওয়ার অনেক উপায় নিয়ে আমরা এই পোস্টে জেনেছি। এছাড়াও ছোট খাটো আরও কিছু উপায় আছে যাতে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়া যায়। রাইটিং এ নাম্বার পাওয়ার টিপস হলো:
- সহজ শব্দ ব্যবহার করা
- ছোট বাক্য লেখা
- ভুল বানান এড়ানো
- পরিষ্কার লেখা রাখা
- প্রশ্ন অনুযায়ী লেখা
- মূল পয়েন্ট ধরা
- অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ
- উদাহরণ যোগ করা
- সুন্দর শুরু লেখা
- ভালো শেষ লেখা
- একই কথা না লেখা
- Grammar ঠিক রাখা
- লাইন সোজা রাখা
- খাতা পরিষ্কার রাখা
- সময় মেনে লেখা
- তথ্য সঠিক রাখা
- কাটাকাটি কম করা
- পয়েন্ট আকারে লেখা
- মনোযোগ দিয়ে লেখা
- আত্মবিশ্বাস রাখা
কীভাবে লিখলে নাম্বার বেশি পাওয়া যায়
পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম গুলো মানলেই মূলত পরীক্ষার খাতায় ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে। লেখার কিছু টেকনিক আছে। এই টেকনিক গুলো অনুযায়ী লেখলেই ভালো নাম্বার পাওয়া যাবে। এমন কিছু নাম্বার বাড়ানোর উপায় হচ্ছে:
- প্রশ্ন বুঝে লেখা
- মূল বিষয় ধরা
- সোজা ভাষা রাখা
- অতিরিক্ত না লেখা
- প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া
- গুছিয়ে লেখা
- প্যারাগ্রাফ ঠিক রাখা
- গুরুত্বপূর্ণ শব্দ দাগানো
- ভুল সংশোধন করা
- পরিচ্ছন্ন খাতা রাখা
- সময় ভাগ করা
- সহজ উদাহরণ দেওয়া
- অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ
- স্পষ্ট বক্তব্য রাখা
- প্রথম লাইন শক্ত রাখা
- শেষ লাইন সুন্দর রাখা
- তথ্য যাচাই করা
- লেখা পড়া যায় এমন রাখা
- শান্ত মনে লেখা
- শেষে রিভিশন করা
পরিশেষে আমার মতামত
আশা করি আপনি পরীক্ষার খাতায় রাইটিং পার্ট লেখার নিয়ম গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এই পোস্টে আমরা এ নিয়ে বিস্তারিত জেনেছি। অনেকগুলো রাইটিং টিপস দেওয়া হয়েছে। যারা ভালো স্টুডেন্ট তারা এই নিয়মগুলোই মেনে চলে। এমনকি আমার SSC পরীক্ষার সময় আমি বাংলা ২য় রাইটিং এ ৭০ থেকে ৭০ পাই। রচনা লিখেছিলাম ২৬ পৃষ্ঠা। তাই চেষ্টা করলেই পাবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url