পরিবেশ দূষণ রচনা - পরিবেশ দূষণ প্রতিকার
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনাআপনি যদি পরিবেশ দূষণ রচনা নিয়ে শিখতে ও জানতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। আপনি একটি রচনা কীভাবে সহজে মনে রাখতে পারবেন ও শিখতে পারবেন আমরা তা আপনাকে অনেক সহজেই শিখাব। তার জন্য শেষে কিছু টিপস আছে।
এই পোস্টের শেষে আমরা আপনাকে সহজে রচনা শিখা ও মনে রাখার কৌশল সম্পর্কে শিখাব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। [আপনি যদি SSC বা HSC এর জন্য বা নবম দশম শ্রেণির জন্য রচনা খুজে থাকেন অবশ্যই আপনাকে ২০০/৩০০ শব্দের রচনা শিখলে হবে না]পোস্ট সূচিপত্র: পরিবেশ দূষণ রচনা নিয়ে যা যা থাকছে ক্লিক করুন
পরিবেশ দূষণ রচনা ২০০ শব্দে
ভূমিকা
প্রাণের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। পরিবেশ সুস্থ থাকলেই মানুষসহ সকল জীবের স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় থাকে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির নামে মানুষ আজ প্রকৃতির সঙ্গে সেই স্বাভাবিক সাম্য ভেঙে ফেলেছে।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের উপায়
ফলশ্রুতিতে পরিবেশ দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পরিবেশ দূষণের প্রভাব শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।
পরিবেশ দূষণের স্বরূপ
আমাদের চারপাশের মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ ও প্রাণী মিলেই পরিবেশ গঠিত। যখন এসব উপাদানের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়, তখনই পরিবেশ দূষণ ঘটে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্বিচারে বন উজাড় ও রাসায়নিক দ্রব্যের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডেই প্রকৃতি আজ বিপর্যস্ত।
দূষণের প্রকারভেদ
পরিবেশ দূষণ প্রধানত বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ ও তেজস্ক্রিয় দূষণের মাধ্যমে ঘটে। যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস বায়ুকে দূষিত করে। শিল্পবর্জ্য ও আবর্জনা নদীতে ফেলার ফলে পানি দূষিত হয়। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, আর পারমাণবিক পরীক্ষায় সৃষ্টি হয় মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দূষণ।
প্রতিকার
পরিবেশ দূষণ রোধে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সচেতনতা। বৃক্ষনিধন বন্ধ করে বনায়ন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পবর্জ্য পরিশোধন করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। দূষণকারী যানবাহনের ব্যবহার কমাতে হবে। রাসায়নিক দ্রব্যের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।
উপসংহার
পরিবেশ রক্ষা মানেই জীবন রক্ষা। মানুষ যদি প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুস্থ পরিবেশই পারে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে। [২৩০ শব্দ]
পরিবেশ দূষণ রচনা ৬০০ শব্দে
ভূমিকা
প্রাণের বিকাশ ও পরিবেশ এই দুটি শব্দ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পরিবেশ সুস্থ থাকলেই জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব হয়। কিন্তু যখন পরিবেশের স্বাভাবিক সাম্য নষ্ট হয়, তখন মানুষসহ সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন পড়ার রুটিন তৈরি করার উপায়
প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট উপাদানের মধ্যে যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির নামে মানুষ সেই ভারসাম্য ভেঙে ফেলেছে। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে আরামদায়ক করলেও তার অপব্যবহারে পরিবেশ আজ দূষণের শিকার। তাই বলা যায়
“We do not inherit the earth from our ancestors; we borrow it from our children.”
এই উপলব্ধি থেকেই পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া আজ সময়ের দাবি।
পরিবেশ ও পরিবেশ দূষণের ধারণা
আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ, প্রাণী, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সব মিলিয়েই পরিবেশ। পরিবেশ মূলত দুই প্রকার যথা: প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম। প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে নদী, পাহাড়, বনভূমি, বাতাস ইত্যাদি; আর মানুষের তৈরি ঘরবাড়ি, কলকারখানা, যানবাহন নিয়ে গড়ে ওঠে কৃত্রিম পরিবেশ। যখন এই পরিবেশ তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলা হয়। আধুনিক মানুষের অসচেতন কার্যকলাপ পরিবেশকে আজ বিষাক্ত করে তুলেছে। Peter Williston বলেছেন:
“Environmental pollution is a great threat to the existence of living beings on earth.”
পরিবেশ দূষণের কারণ
পরিবেশ দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই; বরং বহুবিধ কারণ একত্রে কাজ করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড়, শিল্পকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ দূষণের প্রধান উৎস। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধবিগ্রহ ও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা। মানুষের সীমাহীন চাহিদা পূরণের প্রয়াসেই প্রকৃতি আজ ক্ষতবিক্ষত।
বায়ুদূষণ
বায়ু মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার বিষাক্ত গ্যাস এবং বৃক্ষনিধনের ফলে বাতাস আজ দূষিত। দহনক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে কার্বন মনো-অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস বাতাসে মিশে যায়। বনভূমি কমে যাওয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের অস্তিত্বের ওপর আঘাত করছে।
পানিদূষণ
পানি দূষণ আধুনিক সভ্যতার অন্যতম ভয়াবহ অভিশাপ। শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা, লঞ্চ ও জাহাজ থেকে নির্গত তেল নদীর পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী তার জ্বলন্ত উদাহরণ। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও পুকুরে আবর্জনা ফেলা ও পাট পচানোর কারণে পানিদূষণ বাড়ছে। World Health Organization-এর মতে, উন্নয়নশীল দেশে শিশু মৃত্যুর বড় একটি কারণ হলো দূষিত পানি।
শব্দদূষণ
শব্দদূষণ চোখে না দেখা গেলেও এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়ংকর। যানবাহনের হর্ন, কলকারখানার আওয়াজ, মাইকের চিৎকার মানুষের মানসিক শান্তি নষ্ট করে। দীর্ঘদিন শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যায় এবং স্নায়ুরোগ দেখা দেয়। আজ শহরের পাশাপাশি গ্রামেও শব্দদূষণের প্রকোপ বাড়ছে।
মৃত্তিকা ও তেজস্ক্রিয় দূষণ
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে পচতে শত শত বছর লাগে, ফলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা ও বিস্ফোরণে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তা মানুষ, পশু ও উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা মানবসভ্যতার জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।
পরিবেশ দূষণের ফলাফল
পরিবেশ দূষণের ফলে বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। জীববৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে, নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশ দূষণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিকার ও করণীয়
পরিবেশ দূষণ রোধে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সচেতনতা। নির্বিচারে বন উজাড় বন্ধ করতে হবে এবং ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলতে হবে। পুরনো ও দূষণকারী যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করা জরুরি। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।
উপসংহার
একদিকে আধুনিক জীবনের চাহিদা, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষা এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। মানুষ যদি সচেতন হয় এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজ তাই সময় এসেছে দূষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। সুস্থ পরিবেশই পারে আমাদের একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে।
পরিবেশ দূষণ রচনা এসএসসি ও এইচএসসি
ভূমিকা
পরিবেশের সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আকাশ, বাতাস, পানি, মাটি, উদ্ভিদ ও প্রাণী—এই সবকিছু মিলেই গড়ে ওঠে আমাদের জীবনধারণের পরিবেশ। পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে জীবনের গতি হয় সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার উপায়
কিন্তু আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের স্বার্থে প্রকৃতির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে। পরিবেশ দূষণ আজ শুধু একটি দেশের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি।উক্তি:
“The environment is where we all meet;
where we all have a mutual interest.”
(Lady Bird Johnson)
পরিবেশ দূষণের ধারণা
পরিবেশ যখন তার স্বাভাবিক গুণাগুণ হারিয়ে ফেলে এবং জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলা হয়। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মানুষ আরাম ও সুবিধা পেলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। বন উজাড়, শিল্পকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের ধোঁয়া সব মিলিয়ে পরিবেশ আজ বিপর্যস্ত। মানুষের অসচেতনতা পরিবেশ দূষণকে আরও ত্বরান্বিত করছে। উক্তি:
“Nature provides a free lunch, but only
if we control our appetites.”
(William Ruckelshaus)
বায়ুদূষণ
বায়ু হলো জীবনের প্রধান উপাদান। কিন্তু কলকারখানা, যানবাহন ও ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। এসব ধোঁয়ার মধ্যে কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। নগরায়নের ফলে বৃক্ষনিধন বাড়ায় অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহও কমে যাচ্ছে। এর ফলে হাঁপানি, ক্যান্সারসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। উক্তি:
“Air pollution is not just smog;
it is a silent killer.”
(WHO Report)
পানিদূষণ
পানি ছাড়া কোনো জীব বাঁচতে পারে না। অথচ শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, শহরের নর্দমা ও জাহাজের তেল নদী ও জলাশয়ের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা ও চর্মরোগের বিস্তার ঘটছে। উক্তি:
“Water is life,
and clean water means health.”
(Audrey Hepburn)
শব্দদূষণ
শব্দদূষণ আধুনিক সভ্যতার আরেকটি ভয়াবহ দিক। যানবাহনের হর্ন, কলকারখানার যন্ত্রের শব্দ, মাইক ও উচ্চ শব্দের বাজি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। দীর্ঘদিন শব্দদূষণের মধ্যে বসবাস করলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং স্নায়বিক রোগ দেখা দেয়। উক্তি:
“Noise is the most impertinent of
all forms of interruption.”
(Arthur Schopenhauer)
মৃত্তিকা দূষণ
অধিক ফসল ফলানোর আশায় কৃষকেরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। এর ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া ঢুকে পড়ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে দীর্ঘদিন অবিকৃত থেকে মৃত্তিকা দূষণ ঘটাচ্ছে। এই দূষণ কৃষি ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
উক্তি: “The soil is the great connector of lives.” — Wendell Berry
তেজস্ক্রিয় দূষণ
পারমাণবিক অস্ত্র ও শক্তি পরীক্ষার ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় দূষণ পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংস তার নির্মম প্রমাণ। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে মানুষের জিনগত পরিবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের সৃষ্টি হয়।
উক্তি: “Nuclear weapons are the ultimate expression of environmental irresponsibility.” — Helen Caldicott
জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
পরিবেশ দূষণের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ ও জলজ প্রাণী দূষণের কারণে বিপন্ন। মাছ, পাখি ও কীটপতঙ্গ ধ্বংস হলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা না হলে পরিবেশের ভারসাম্যও টিকে থাকবে না।
উক্তি: “Biodiversity is the foundation of ecosystem services.” — UN Environment
অর্থনৈতিক ক্ষতি
পরিবেশ দূষণ দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। কৃষি উৎপাদন কমে যায়, মৎস্য শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ায় অবকাঠামোগত ক্ষতিও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জাতীয় আয় হ্রাস পায়।
উক্তি: “Environmental damage is economic damage.” Ban Ki-moon
প্রতিকার ও করণীয়
পরিবেশ দূষণ রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বেশি করে বৃক্ষরোপণ, শিল্পবর্জ্য শোধন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকার, সমাজ ও ব্যক্তি সবার দায়িত্ব একসাথে পালন করলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।
উক্তি: “We do not inherit the Earth from our ancestors; we borrow it from our children.” Native American Proverb
উপসংহার
পরিবেশ দূষণ মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে উঠবে। তাই আজই সচেতন হয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
উক্তি: “The greatest threat to our planet is the belief that someone else will save it.” Robert Swan
রচনা লেখার নিয়ম
রচনা শুধু লেখলেই হবে না বরং নিয়ম অনুযায়ী লেখতে হবে। আমি আপনাকে তুমি বলেই ডাকি যেহেতু আপনি একজন ছাত্র বা ছাত্রী। তুমি যদি একটা ভালো রেজাল্ট করতে চাও বা রচনাতে বিশে বিশ বা বারোতে বারো পেতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে নিয়ম মানতে হবে। আমরা এখানে শেষে যেই রচনা দিয়েছি তাতে একটু বেশিই শব্দ দিয়েছি। তোমার উচিৎ তিন চার বার রিডিং পড়া এবং দুই তিন বার লেখা এতে করে তোমার সহজেই শিখা হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার রচনা
তুমি অনেক পরিশ্রম করেও রচনা মুখস্ত করতে পারবে না। পারলেও অনেক পরিশ্রম আর সময় লাগবে। তার চেয়ে ভালো তুমি সৃজনশীলতার পরিচয় দাও। তাই আমরা বেশি শব্দেই লিখেছি। কারণ তুমি যতটুকু শিখবে ততটুকু মনে থাকবে না। তিন ভাগের দুই ভাগ মনে থাকতে পারে। তাহলে সেই দুই ভাগে তোমার প্রয়োজনীয় লেখা বা খাতা ভরে যাবে। রচনা তুমি তোমার ইচ্ছা মতো লেখতে পারবে। সুন্দর লেখার সাথে কিছু মেইন পয়েন্ট শিখার মাধ্যমে লেখতে পারো।
তোমার হাতে পরীক্ষার শেষে যতটুকু সময় থাকে তার মাঝে লেখবে। ধরো এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় রচনা লেখবে। ১৫ থেকে ২৫ পৃষ্ঠা বা তার বেশি লেখতে পারো। তাহলে সম্পূর্ণ নাম্বার পাবে। পরিবেশ দূষণ রচনা গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোর মাঝে একটি। তাই তোমাকে এই রচনা ফোকাস করতে হবে। আর ইংরেজি বা উক্তি মনে রাখতে হবে। এতে শিক্ষকের বেশি আকর্ষণ পড়ে।
পরিশেষে আমার মতামত
পরিবেশ দূষণ রচনা বা পরিবেশ দূষণ প্রতিকার সম্পর্কে আশা করি আপনি একটি ভালো ধারণা নিতে পেরছেন। এখন একটা কথা আসতে পারেযে SSC ও HSC কেন একটি রচনা। এটা মূলত শুধু দেওয়া হয়েছে এগুলো মডিফাই করার দায়িত্ব আপনার। কারণ এই সময় টাতে আপনার সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তাই আপনি একটি শিখেই দুই পরীক্ষায় কাজে লাগাতে পারবেন। আশা করি আপনার কাজে আমরা সাহায্য করতে পেরেছি। আপনার পড়াশোনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
ST Bangla Hub নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url